thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫,  ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪০

বগুড়ায় আ.লীগ নেতার কাছে জিম্মি কয়েক হাজার মানুষ

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৮:৪৭:১২
বগুড়ায় আ.লীগ নেতার কাছে জিম্মি কয়েক হাজার মানুষ

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বাদশা মিয়া আকন্দ নামে এক নেতার কাছে গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ জিম্মি হয়ে আছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কেশরিপুর (কুল্লেরভিটা) গ্রামের জালাল উদ্দিন প্রমানিক জানান, ২৯ জানুয়ারি স্থানীয় একটি বিলে মাছ মারার জন্য বাদশা আকন্দরা জোর করে জাল নামানোর চেষ্টা করেন। গ্রামের লোকজন তা প্রতিহত করতে চান। এমন অবস্থায় বাদশা আকন্দ ও অন্য গ্রাম থেকে আনা তার ভাড়াটিয়া লোকেরা গ্রামবাসী ও তাদের বাড়িতে অতর্কিক হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করলে কেশরিপুর (কুল্লেরভিটা) গ্রামের চামেলি বেগম, আফাজ্জল, সোনা মিয়াসহ ছয়জন গুরুতর আহত হন। এছাড়াও বাড়িতে হামলা করে ঘরবাড়ি ভাংচুরসহ লুটপাট করে বাদশার বাহীনি।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় গ্রামের আফাজ্জল বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দাখিল করে ওই দিন।

তিনি বলেন, কুল্লের বিলে প্রায় সাত একর জমি রয়েছে। এই জমির অবৈধ দখল অটুট রাখতে বাদশা মিয়ারা অনেক দিন ধরেই যা-ইচ্ছা তাই করতে চাচ্ছে।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা বেলাল মিয়া জানান, ওই জমির দখল ঠেকাতে গত ২৯ জানুয়ারির হামলার ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাদশারা। সেই সূত্রে পরদিন ৩০ জানুয়ারি নিজের বাড়িতে নিজেরাই হামলার ঘটনা সাজায় বাদশা ও তার চাচাতো ভাই শাহিন। ৩০ জানুয়ারি ভোরে কোনো কারণ ছাড়াই বাদশা ও শাহিনরা হৈচৈ ও চিল্লাচিল্লি শুরু করে। নিজেদের ঘরের বেড়া নিজেরাই ভাঙ্গে। আবার নিজের গরু-বাছুর পাশ্ববর্তী ছাড়াফত ও রকিবুলদের বাড়িতে পার করার পর গ্রামের আব্দুর রহিম মোল্লা ও অন্যদের ওপর লুটপাটের অভিযোগ আনে। এছাড়াও নিজের খড়ের পালায় আগুন দিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়।

স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা জানান, বাদশা মিয়া নিজেই বাড়িতে হামলার ঘটনা সাজানোর পর পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাদশার আপন ভাগ্নে মামুনকে গ্রেফতার করে। এছাড়াও বাদশার ভাড়াটিয়া বাহীনির অপর সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়।

কেশরিপুর (কুল্লেরভিটা) গ্রামের আরেক বাসিন্দা সাইফুল মিয়া জানান, এই বিল সংক্রান্ত একটি বাটোয়ারা মামলা ছিল বাদশা মিয়াদের মধ্যে। ওই মামলায় ডকুমেন্ট হিসেবে যেসব কাগজ দাখিল করা হয়েছিল, তার সবই ভূয়া। পরবর্তীতে বাদশা মিয়া ওই মামলাটি আদালত থেকে গোপনে প্রত্যাহার করে নেয়।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) সানোয়ার হোসেন জানান, ওই দুই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। থানার পক্ষ থেকে ওই অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, কেশরিপুর (কুল্লেরভিটা) গ্রামটি কুল্লের বিলের ওপর অবস্থিত। বাদশা আকন্দ ও তার গোষ্ঠির লোকজনরা এই বিলের ওপর ভূয়া সিএস, ভূয়া এমআর, জমিদারের ভূয়া কবুলিয়াতনামা ও ভূয়া দলিল বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছে। এসব ভূয়া কাগজের বিষয়টি গ্রামের লোকজন বুঝতে পারলে, এই বিলে বাদশা মিয়াদেরর মাছ চাষ প্রকল্প বন্ধ করে দেয়।

(দ্য রিপোর্ট/এমএসআর/ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর