thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫,  ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪০

সাক্ষাৎকার-তৃতীয় কিস্তি

মানুষকে ভালোর মধ্যে রাখতে হলে ভালো মন্তব্য করা উচিত : মাশরাফি

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ১১ ২২:২৪:৪২
মানুষকে ভালোর মধ্যে রাখতে হলে ভালো মন্তব্য করা উচিত : মাশরাফি

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : ডয়চে ভেলের মাশরাফির এ সাক্ষাৎকারটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এতে অনেক কিছু উঠে এসেছে। রেডিসন ব্লু হোটেলে দেওয়া সাক্ষাত্‍কারটি বিশ্বকাপ স্বপ্ন-সম্ভাবনা-প্রস্তুতি নিয়ে শুরু হয়ে ছড়িয়েছে আরো অনেক দিকে৷ মাশরাফির অধিনায়কত্ব, মাশরাফির বোলিং, মাশরাফির ইনজুরি, মাশরাফির রাজনীতি– আরো কত কী! তাই দ্য রিপোর্টের পাঠকদের জন্য গুরুত্ব বিবেচনায় এখানে পত্রস্থ করা হচ্ছে। এটি তিন কিস্তিতে ছাপা হবে। পড়ুন শেষ কিস্তি।

ছোট্ট করে একটু বিপিএলের কথা জানতে চাই৷ এই টুর্নামেন্টের পাঁচ আসরের মধ্যে চারটিতেই আপনি চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক৷ এর রহস্য কী?
-আমার কাছে মনে হয়, এক্ষেত্রে আমি অনেক ভাগ্যবান৷ আসলে টুর্নামেন্ট জেতার জন্য ভাগ্য প্রয়োজন৷ পুরো টুর্নামেন্ট ভালো খেলেও ফাইনালের একটি খারাপ দিনে আপনি হয়তো শিরোপা জিতবেন না ৷ সে কারণেই বলছি, ভাগ্য গুরুত্বপূর্ণ ৷ আর দলকে অত দূর নিয়ে যাবার জন্য বলবো, আমাদের দলের সমন্বয়টা ভালো থাকে ৷ এক-দেড় মাস সবাই একসঙ্গে থাকায় সেটি গুরুত্বপূর্ণ ৷ এ ধরনের টুর্নামেন্টে আসলে এর চেয়ে বেশি কিছু করার থাকে না৷

এবার রংপুর রাইডার্সকে নিয়ে প্রত্যাশার জায়গা?
-(হেসে) আমরা তো প্রায় বাদই হয়ে গিয়েছিলাম৷ সেখান থেকে তিনটি ম্যাচ জিতে রেসে ফিরে এসেছি৷ এখন তাই একটু ভালো জায়গায়৷ প্লে-অফে যাবার পর তো বাঁচা-মরার লড়াই৷ সেখানে যাওয়াই প্রাথমকিভাবে গুরুত্বপূর্ণ৷

একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে একটু রাজনীতির কথা জানতে চাই ৷ এখন তো আপনি বাংলাদেশের একজন মাননীয় সংসদ সদস্য৷ রাজনীতিতে যোগ দেবার কারণটা একটু যদি বলেন...৷ আর সংসদ সদস্য হবার পর দায়িত্বের জায়গায় কতটা পরিবর্তন হয়েছে?
-এখনো যেহেতু খেলার মধ্যে আছি, পরিবর্তন ততটা আসেনি ৷ আর যোগ দিয়েছিলাম, রাজনীতি করলে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা যায়; তাঁদের জন্য কাজ করা যায় বলে ৷ মানুষের জন্য এমন কাজ আমি ছোটবেলা থেকেই উপভোগ করি ৷ আর সুযোগটা তো অবশ্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন ৷ নইলে তো রাজনীতিতে আসার কোনো সুযোগ ছিল না ৷ আর পরিবর্তনের কথা বললে, খেলোয়াড়ী জীবন শেষেই হয়তো বড় করে তা আসবে ৷ আমার কাছে মনে হয়, যদি সত্ভাবে কাজ করা যায়, তাহলে রাজনীতিতে ভালো কিছু করার সুযোগ আছে৷
তার মানে আপনি খেলা ছাড়ার পরই পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হবেন? এখনো আপনার প্রথম অগ্রাধিকার খেলা?
-অবশ্যই খেলা ৷ তবে খেলার বাইরের সময়টায় এখন মানুষের চাহিদা মেটানোর কথা ভাবি৷ যেহেতু আমি নড়াইল-২ আসনের প্রতিনিধি, ওখানে কোনো সমস্যা থাকলে তা সামলানোর চেষ্টা করি ৷ তবে অমন বিরাট পরিবর্তন এখনো আসেনি৷ রাজনীতিতে যোগ দেবার ঘটনা তো মাত্রই ঘটল ৷ বড় পরিবর্তন তাই আসেনি ৷

অন্য একটি পরিবতন কি এসেছে? আগে ক্রিকেটার হিসেবে আপনি ছিলেন পুরো দেশের৷ এখন একটি রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন ৷ অনেকে আছেন, যিনি ক্রিকেটার মাশরাফির ভক্ত কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক দর্শন আপনার সঙ্গে মেলে না, যে কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আপনার এ রাজনীতিতে যোগ দেবার অনেক রকম প্রতিক্রিয়া হয়েছে৷ বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

-এখানে কিছু করারও তো নেই৷ মতের পার্থক্য তো থাকবেই, খুব স্বাভাবিক৷ সেটি তাঁরা বলছেন৷ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা ব্যক্তিগত আক্রমণ বা পরিবারকে আক্রমণ প্রতিনিয়ত করছি৷ এতে সবাই অভ্যস্ত ৷ আমি মনে করি, মানুষকে ভালোর মধ্যে রাখতে হলে তাঁদের নিয়ে ভালো মন্তব্য করা উচিত আর মানুষকে ভালোবাসা উচিত ৷ যখন আপনি একজন মানুষকে গালিই দিতে থাকবেন, তখন সে দিনশেষে চিন্তা করতে পারে, আমি যত ভালো কাজই করি না কেন, আমার জন্য গালি অপেক্ষা করে আছে ৷ আমার জন্য তাই ভালো কিছু করার প্রয়োজন নেই; ভালো কিছু করার কোনো মানেই হয় না৷ এ ভুলটা আমরা প্রায়ই করি ৷ আপনি যখন কারো কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করবেন, তখন সমালোচনা করলেও গঠনমূলক সমালোচনা করুন ৷ তাঁর ভুলগুলো ভুলের মতো তুলে ধরুন ৷ একইসঙ্গে তাঁর ভালো জিনিসগুলোও তুলে ধরা উচিত ৷ এখন প্রশ্নটি আমার রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে করেছেন, অবশ্যই এখানে মতের পার্থক্য আছে ৷ আমি একটি দলের প্রতিনিধিত্ব করি৷ কিন্তু আমি অন্য দলের কাউকে তো অসম্মান করছি না ৷ সেটি করার প্রশ্নই ওঠে না ৷ খুব সাধারণভাবে দলের মধ্যে থেকে, সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এলাকার মানুষের পাশে থাকতে চাই ৷ সে কারণে কেউ যদি আমাকে যা খুশি বলেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার ৷ এ বিষয়ে আমার কিছু বলারও নেই, কিছু করারও নেই ৷ আর কিছু করার থাকলেও করতে চাই না ৷ কারণ, এ প্রতিহিংসার ব্যাপারটি ভালো না; আমি তা পছন্দ করি না ৷ আমি স্বাভাবিক আছি, স্বাভাবিকই থাকতে চাই ৷ কর্মেই তো মানুষের পরিচয় ৷ কর্ম যদি ঠিকমতো করতে পারি, তাহলে হয়তোবা মানুষ ভুল বুঝতে পারবে না ৷ এ আশায়ই এখন আমার থাকতে হবে৷

আপনি সংসদ নির্বাচনের আগে খুব অল্প সময় এলাকায় গিয়ে প্রচারণা করেছেন৷ সময়টা কত রোমাঞ্চকর ছিল, যদি ক্রিকেট ম্যাচের সঙ্গে তুলনা করেন?
-নড়াইলের মানুষ আমাকে পছন্দ করেন, এটি জানতাম৷ কিন্তু আমার জন্য কী যে আবেগ, অনুভূতি নিয়ে গত ১৮ বছরে তাঁরা ছিলেন, তা আমি এবার দেখতে পেরেছি ৷ এটি আমাকে অনেক আনন্দ দিয়েছে ৷ সে আনন্দের পাশে এই চার-পাঁচটি, দশ-পঞ্চাশটি গালি কোনো সমস্যা না ৷ যদি সত্যি তাঁদের জন্য কিছু করতে পারি, সেটি আমাকে আনন্দ দেবে ৷ এমন কিছু মানুষ দেখেছি, যাঁরা এক বেলা খান, দুই বেলা না খেয়ে থাকেন ৷ তাঁদের জন্য কিছু করতে পারলে হাজার গালিও কোনো সমস্যা না ৷

একেবারে শেষ প্রশ্ন৷ আপনার ক্রিকেট ক্যারিয়ার প্রায় শেষের দিকে৷ তা শেষেও হয়তো ক্রিকেটের সঙ্গে থাকতে পারতেন৷ অথবা ক্রিকেটের বাইরে গিয়ে নিজের মতো কাজ করতে পারতেন৷ এখন যে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন, সে জীবনের তো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই৷ আপনার কি মনে হয়, ক্রিকেটার মাশরাফির শেষ হতে হতে রাজনীতিবিদ মাশরাফির যে শুরু হলো, তাতে আপনি সবসময়ই প্রাসঙ্গিক থাকবেন বাংলাদেশে?
-ভবিষ্যতের কথা কেউ বলতে পারেন না৷ আর আমি এগুলো সব সময় এড়িয়ে চলি৷ তারপরও বলি, আপাতত পাঁচ বছরের জন্য আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি৷ আগেই বলেছি যে, এখনো আমার কাছে খেলাটাই অগ্রাধিকার৷ ক্যারিয়ার শেষে পুরোপুরি রাজনীতির দিকে যাবো ৷ আপাতত এই পাঁচ বছরকে কেন্দ্র করেই কাজ করার চেষ্টা করব ৷ এ সময়ে আমার পক্ষে যা কিছু সম্ভব, সব করবো ৷ পাঁচ বছর পর কী হবে, সে জায়গায় নিজেকে এখনই দাঁড় করাতে চাই না ৷ অনেক কিছুই তখন বদলে যেতে পারে ৷ আপাতত তাই এই পাঁচ বছরের দিকেই সমস্ত মনোযোগ দিচ্ছি ৷
ক্রিকেটের মতোই? আপাতত নিউজিল্যান্ড সফর? আপাতত আয়ারল্যান্ড সফর? আপাতত বিশ্বকাপ?
হ্যাঁ৷ যেহেতু আমি খেলোয়াড়, ছোটবেলা থেকেই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য খেলোয়াড়দের মতো হয়ে গেছে৷ সে জায়গায় তো পরিবর্তনের সুযোগ কম ৷

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/ফেব্রুয়ারি ১১,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর