thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫,  ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪০

স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গড়তে কাজ করছে বিএসইসি

২০১৯ ফেব্রুয়ারি ১২ ১৮:০২:১৮
স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গড়তে কাজ করছে বিএসইসি

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে কাজ করছি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম খায়রুল হোসেন। তিনি বলেন, এ কাজে অর্থমন্ত্রী ও সাবেক অর্থমন্ত্রীসহ প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ফার্স হোটেলে অনলাইন বিজনেস নিউজ পোর্টাল বিজনেস আওয়ার টোয়েন্টিফোর ডটকম ও ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত ‘দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নে শেয়ারবাজারের গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিবিএ’র সভাপতি শাকিল রিজভী। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন বিজনেস আওয়ার টোয়েন্টিফোর ডটকমের উপদেষ্টা ও ওমেরা অয়েলের সিইও আক্তার হোসেন সান্নামাত।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আইপিও অনুমোদনের জন্য আবেদন করা কোম্পানির কাছ ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও অনেক কোম্পানি ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো জবাব দিচ্ছে না। এতে কোম্পানির আইপিও অনুমোদন আটকে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আইপিও আবেদন বাতিল করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শর্ত পরিপালন হলে দ্রুত প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন দেওয়া হবে। এর আগে দ্রুত শর্ত পরিপালনের কারণে এক-দেড় মাসের মধ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন দেওয়ার রেকর্ড আছে। আবার শর্ত পরিপালনে ব্যর্থতার কারণে অনেক কোম্পানির আইপিও বাতিলও করা হয়েছে।

খায়রুল হোসেন বলেন, এখনো প্রত্যেকটি কোম্পানির আইপিওতে কয়েকগুণ আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু তারপরেও আইপিও’র সংখ্যা বাড়াতে গেলে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কারণ শেয়ারবাজারে লেনদেনের পরিমাণ কম। এছাড়া আইপিও বেশি দিতে গেলেই নানা জায়গা থেকে অভিযোগ আসে, যা আইপিও কম দেওয়ার একটি কারণ।

তিনি বলেন, সব কোম্পানিরই শেয়ারবাজারে আসার অধিকার রয়েছে। কিন্তু শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরে কোনো কোম্পানি খারাপ করলেই নানা ধরনের সমালোচনা করা হয়। অথচ আইন পরিপালন করেনি এমন একটি কোম্পানিকেও আইপিও দেওয়া হয়নি।

সেমিনারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বিএসইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারের স্বার্থে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ভালো ভালো কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে হবে। ২০১০ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সময় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার মতো ২৬টি সরকারি কোম্পানি নির্বাচন করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১টি কোম্পানিকেও শেয়ারবাজারে আনা যায়নি। অথচ এক গবেষণায় দেখা গেছে, মালয়েশিয়ার শেয়ারবাজার ৪০ শতাংশ সরকারি কোম্পানির দখলে।

তিনি বলেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যোগ্যতা অনুযায়ি অনেক কোম্পানির যথার্থ দর নির্ধারন হচ্ছে না। এটা দুঃখজনক। এমতাবস্থায় বিষয়টি নিয়ে বিএসইসির ভাবার দরকার আছে।

এদিকে ডিবিএ’র সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ভাল ভাল কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত করতে হবে। এর জন্য যাবতীয় প্রণোদনা এবং সুযোগ সুবিধা কোম্পানিগুলোকে দিতে হবে। তাহলেই কেবল দেশের জন্য একটি শক্তিশালী শেয়ারবাজার গঠন করা সম্ভব হবে।

ডিবিএ সভাপতি বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতি দিনদিন বড় হচ্ছে। এখন আমাদের দরকার প্রাইম কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা। এজন্য এসব কোম্পানিগুলো নির্বাচন করে এদের জন্য আলাদা পরিকল্পনা গঠন করতে হবে। ভাল ১০০ কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনতে পারলে বর্তমানের চেয়ে আরও বেশি সফল হওয়া সম্ভব। তাহলে বাজার শক্তিশালী হবে এবং বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন।

'লিস্টিং ফি'র চেয়ে কোম্পানি লিস্টেড করাটা বেশি জরুরি জানিয়ে শাকিল রিজভি বলেন, ভাল কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত করার জন্য যত ধরনের বুদ্ধি আছে সব কাজে লাগাতে হবে। কোম্পানিগুলোকে কি কি ইনসেন্টিভ দিতে হবে তার সঠিক পরিকল্পনা থাকতে হবে।

প্রাইম কোম্পানিগুলোর প্রথম ২ বছরের জন্য লিস্টিং ফি’র জায়গাতে কোন ছাড় দেওয়া যায় কিনা তার জন্য বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত ২৫ বছরে শেয়ারবাজারের যে উন্নতি হয়েছে তার তুলনায় এখন আরও বেশি উন্নতি করা সম্ভব। কেননা যে কোন কিছুর শুরুর দিকে নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু একবার সেই ধাপ পার করে আসলে সে সমস্যাগুলো আর থাকে না। খারাপ সময় পার করে আজ শেয়ারবাজার ভাল অবস্থানে রয়েছে। গুরুত্বের সাথে সঠিক পরিকল্পনা থাকলে শেয়ারবাজারকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, বিএমবিএর সাবেক সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান,ক্যাপিটাল মার্কেটজার্নালিস্টসফোরামের (সিএমজেএফ) সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল। এছাড়া সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গাজী টিভির প্রধান প্রতিবেদক রাজু আহমেদ।

(দ্য রিপোর্ট/এনটি/ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর