thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬,  ২১ রমজান ১৪৪০

 নাঈম রাশিদকে জাতীয় পদক দেওয়ার ঘোষণা ইমরান খানের

২০১৯ মার্চ ১৭ ২২:২৪:১৩
 নাঈম রাশিদকে জাতীয় পদক দেওয়ার ঘোষণা ইমরান খানের

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্টকে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন নাঈম রাশিদ। সেই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাকে মরণোত্তর জাতীয় পদক দেওয়ার ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রবিবার (১৭ মার্চ) এক টুইটার বার্তায় এ ঘোষণা দিয়ে তিনি আরও জানিয়েছেন, নিহত অপরাপর পাকিস্তানিদের পরিবারের সদস্যদের জন্য দেশটি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা লিখেছে, নাঈম রাশিদ সেই ৯ পাকিস্তানির একজন, যারা ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে হওয়া হামলায় মারা গেছেন।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকার দুইটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলা হয়। এদের একটি শহরের আল নূর মসজিদ। আরেকটি মসজিদ লিনউডে অবস্থিত। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুই হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৫০ জনে উপনীত হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে নূর মসজিদে। হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্ট একজন শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী, যে মনে করে ‘মুসলিমদের জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি’ তৈরি করা উচিত এবং শ্বেতাঙ্গরা ‘গণহত্যার শিকার।’

ইমরান খানের টুইটার বার্তার ভাষ্য, ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী হামলাকারীকে বাধা দেওয়া মিয়া নাঈম রাশিদের ভূমিকায় পাকিস্তান গর্বিত। জাতীয় পদকের মাধ্যমে এই সাহসিকতার স্বীকৃতি দেওয়া হবে।’ পাকিস্তানের প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের টুইটার বার্তায় বলা হয়েছে, নাঈম রাশিদ পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের বাসিন্দা ছিলেন।
আল নূর মসজিদে হামলা চালানোর সময় ব্রেন্টন ট্যারান্টকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। হামলাকারীর সরাসরি সম্প্রচার করা ভিডিও ফুটেজ থেকে দেখা গেছে, বাধা দিতে যাওয়া রাশিদকে ট্যারান্ট কয়েকটি গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন নাঈম। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। তিনি ক্রাইস্টচার্চের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন তিনি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, নাঈম রাশিদের ছেলে তালহা নাঈমও ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের দুই জনকেই রবিবার ক্রাইস্টচার্চে কবর দেওয়ার কথা। তালহার বন্ধুদের কাছে থেকে জানা গেছে, খুব সম্প্রতি তিনি চাকরি পেয়েছিলেন। বিয়ের পরিকল্পনাও ছিল তার। মসজিদের হামলায় আহত হয়েছেন নাঈম রাশিদের আরেক ছেলে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে পাকিস্তানে থাকা নাঈম রাশিদের মা আবেদন করেছেন, যেন তাকে দ্রুততম সময়ে নিউ জিল্যান্ড পৌঁছানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়। নাঈমের ভাই পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে বলেছেন, ‘আমার মাকে যেন অনতিবিলম্বে নিউ জিল্যান্ডে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। আমার ভাবী সেখানে একা।’

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/মার্চ ১৭,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশ্ব এর সর্বশেষ খবর

বিশ্ব - এর সব খবর