thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ৬ বৈশাখ ১৪২৬,  ১৩ আগস্ট ১৪৪০

পাঁচটি কবিতা

সবুজ শামীম আহ্সান

২০১৯ এপ্রিল ০৫ ২০:৪৩:৪৩
সবুজ শামীম আহ্সান

বৃষ্টির পূর্বাভাষ

মানুষের চেয়ে ছায়া বড়ো হলে
রাত্রির পূর্বাভাষ।
কর্মির চেয়ে নেতা বেশি হলেই
দেশের সর্বনাশ।।

জ্ঞানীর চেয়ে বুদ্ধিজীবী বেশি হলে
সাধারণের মরণ।
কবিতার চেয়ে কবি বেশি হলেই
ছন্দময়তার পতন।।

পথের চেয়ে পথিক বেশি হলেই
সময়ের কপালে হাত।
শিক্ষার্থীর চেয়ে পরীক্ষার্থী বেশি হলে
আগামির হাতে রাত।।

সত্যের চেয়ে মিথ্যা বড়ো হলে
ধ্বংসের আলামত।
সূর্যের চেয়ে গ্রহ বড়ো হলেই
পৃথিবীর কেয়ামত।।

ভালোবাসা সজনে ডাটার মতো নিম্নমুখি

ভালোবাসা তুমি কেবলি সজনে ডাটার মতো নিম্নমুখি
কাঁঠাল পাতার মতো তুমি বন্ধু হওনা কেনো ঊর্ধ্বমুখি।
কীর্তনখোলা বালিকাদেহের ঘ্রাণে ভৈরববালকের মায়া
নির্লিপ্ত কোমল গান্ধারীর কাছে শুধু কোজাগরী ছায়া।
চোখের জলের সম্মোহিত আহ্বান বেদনার মতো নীল
পল্লবিনীর লাগামহীন পায়ে পথের হয়নি যেনো মিল।
নেশার নায়ে উত্তরী বায়ে আপনের বন্দরে শুধু কাঁপন
ভালোবাসা চলে স্রোতেরই লয়ে সকালি রোদের মতোন।
বাতাসের পরাগে চুম্বনের আরাধনায় নাচে সেই ওলি
কবিতা যেন বিলাবলিসুরে মেঘের মন্দিরে যায় চলি।
অমাবতী গোনে স্বচ্ছতার মনে ফোটে বাহারি শতদল
প্রথমার মনে বাজে ক্ষণে ক্ষণে সেই বালাসি ঘাটের ছল।
মনুর সারেঙ্গীতে আজও বাজে শতরূপারই চেনা সুর
মহুয়া বাতাসে প্রণয়ের বেহাগ চলেছে যে অচেনা দূর।

সত্যের চোখে মেঘ

জীবন যেন একটুকরো চলন্ত মেঘ
একটু বৃষ্টি হলেই সব শেষ।
সমুদ্রের কাছে গেলেই পলকেই পুনর্জন্ম হয় মেঘমল্লার
চালকের পথ ভাটায় গেলে আসেনা জোয়ার।
তবু ভুলপথে হাঁটাহাঁটি
নাগরিক সভ্যতায় অহংকারী।

ক্ষমতা আর সুগন্ধি সেতো সল্পায়ুর আধার
পরিবর্তনের হাওয়ায়
ওড়ে সে আরবার।
মরীচিকার মায়ায় সত্যের চোখে আজ জলাতঙ্ক
সোমেই পড়েনা কাহারবা তালের অঙ্ক।

অশুদ্ধ সূত্রে রসায়ন শিক্ষা :
মানবিক মাস্টারের
দার্শনিক দোতারা বাজে ঝুলন্ত পোস্টারে।
দশদিকে সর্বনাসী সুর
চলে যেতে হবে নিশ্চিন্তপুর।

নীল স্বপ্ন

পঙ্কজ রায় বন্ধু আমার
হতে চেয়েছিলো শাদা কাশফুল সকালের রোদ্দুর
ভোরের শিশিরে মন ধুয়ে চেতনার তুলিতে
এঁকে যেত মায়ের মুখ।
মার্কস-লেনিনের দর্শনে
চষে যেতো বাংলার বুক।

শিল্পের বুননে কবিতা-গল্পে
পুবাকাশে উঠতো পবিত্র মানচিত্র
মেঘেরা লজ্জায় মিশে যেতো
অন্ধকারের অন্তরে।

সতের বছর পরে হঠাৎ গাঁয়ের হাটবারে
দেখেছি তারে সন্ধ্যের ঘরে গোস্বামীরূপে
মুখের ধোঁয়ায় স্বপ্নেরা নীল
বেজে ওঠে হারানো দিনের বীণ।
কেমন চলছে বল :
”এই বেশ ভালো আছি”
ঘর-সংসার মানুষের , আমিতো ঘাসফড়িং।

শিউলিশাদা ধূমায়িত দেহ

সত্যের রেল লাইনে একাকী হেঁটে
চলে যাবো ধর্মের দেশে।
জোছ্নার হাতের হাজার গোলাপে নির্মল হবো
দূর হবে গহীনের অতীত অসঙ্গতি ;
শিউলিশাদা হবে ধূমায়িত দেহ।
সমুদ্রের লোনাজল পূর্ণিমার আলিঙ্গনে
কাকচক্ষু যেন , পাখিদের পুণ্যস্থান।
ভুলের বালুচরে ময়ূরী দেবতা
বিয়োগের ব্যাধিতে বিশুদ্ধ নগর
বেহিসেবী ভিটামিনে প্রজন্মের উৎসব।

[কবি পরিচিতি : সবুজ শামীম আহ্সান নব্বই দশক থেকে লেখালিখি করছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ১৯৯০ সালে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে অধ্যাপনা পেশায় যুক্ত হনে। তিনি ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজে যোগদানের পর কবি সিকানদার কবীরের প্রতিষ্ঠিত কবিতাচক্রের সদস্য হন। তাঁরই প্রণোদনায় রিশালসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লিটল ম্যাগাজিনে নিয়মিত কবিতা লিখতে থাকেন। কবি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে পি-এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি যশোর সরকারি সিটি কলেজে অধ্যাপনা করছেন।
দুই কন্যা দিগঙ্গনা আহসান, পুরাঙ্গনা আহসান, পুত্র রাদিঙ্গন আহসান। কবির স্ত্রী নাসরিন সুলতানা জেলা শহরের একটি কলেজে একইভাবে অধ্যাপনায় যুক্ত ]

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/এপ্রিল ০৫,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

সাহিত্য এর সর্বশেষ খবর

সাহিত্য - এর সব খবর