thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬,  ১৫ রমজান ১৪৪০

অজগরটি যেভাবে আবার ছেড়ে দেয়া হলো জঙ্গলে

২০১৯ মে ১৫ ২২:৩১:৪৮
অজগরটি যেভাবে আবার ছেড়ে দেয়া হলো জঙ্গলে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : পাহাড়ে আগুন লাগার কারণে বা প্রচন্ড গরমে হয়তো অজগরটি চলে এসেছিল বাইরে। এরপর ধরা পড়ে স্থানীয় কিছু মানুষের হাতে। খবর পেয়ে সেটি উদ্ধার করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক। এরপর তিন দিন ধরে এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ কেন্দ্রে রেখে সেবা-যত্ন করে আবার ছেড়ে দেয়া হয়েছে জঙ্গলে। খবর বিবিসির।

সাপের উপদ্রব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ঘটনা নয়। তবে কয়েকদিন আগে যেটি ধরা পড়লো ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায়, সেটি প্রায় সাড়ে চৌদ্দ ফুট দীর্ঘ একটি অজগর।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডীন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান জানান, স্থানীয় কিছু মানুষ এটিকে ধরেছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন একটি এলাকা থেকে। ''এরপর এটিকে হয়তো বিক্রির জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। তখন আমাদের কাছে খবর আসে।''

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা রক্ষীদের নিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহসান।

তিনি জানান, হয়তো প্রচন্ড গরমের কারণে বা পাহাড়ে আগুন দেয়ার কারণে এটি ক্যাম্পাসের কাছে চলে এসেছিল। সাপটির শরীরের কয়েকটি জায়গায় ক্ষতচিহ্ন ছিল যা আগুনে পুড়ে যাওয়ার কারণেও হতে পারে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাপ রাখার একটি কেন্দ্র আছে। সেখানে তিন দিন ধরে এটিকে রেখে খাবার-দাবার দেয়া হয়। প্রথমদিন মুরগী খেতে দেয়া হয়েছিল। সাপটির শরীরের ক্ষত সারিয়ে তোলার জন্য ঔষধও দেয়া হয়।

অধ্যাপক ফরিদ আহসান জানান, অজগরটি প্রথম যখন ধরা পড়ে এটিকে বেশ দুর্বল দেখাচ্ছিল। কয়েকদিনের পরিচর্যার পর এটি যখন কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠে, তখন তারা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জঙ্গলে এটি ছেড়ে দেন।

অধ্যাপক আহসান জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অজগর সাপ ধরা পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত দশ বছরে অন্তত সাতটি অজগর সাপ ধরা পড়ার কথা জানালেন তিনি। প্রথম দুটি সাপ তারা চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে এরকম সাপ ধরা পড়লে বা উদ্ধার করা গেলে সেগুলো তারা জঙ্গলেই আবার ছেড়ে দেন।

পাহাড়ী এলাকার মাঝখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু সাপ নয়, সাম্প্রতিক সময়ে আরও অনেক ধরণের বন্যপ্রাণীর বিচরণ আবার বেড়েছে বলে জানান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান।

"চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সময় হরিণ দেখা যেত। মাঝখানে হারিয়ে গিয়েছিল। এখন আবার দেখা মিলছে। বানর দেখা যাচ্ছে। বন্য শুকর দেখা যাচ্ছে। খাবারের সন্ধানে এরা প্রায়ই জঙ্গল থেকে বাইরের দিকে লোকালয়ে চলে আসে।"

(দ্য রিপোর্ট/একেএমএম/ মে ১৫,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর