thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬,  ১৭ জিলহজ ১৪৪০

আইপিপি আইনে সংশোধনের দাবি বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের

২০১৯ জুলাই ১৯ ১০:৫১:৩৯
আইপিপি আইনে সংশোধনের দাবি বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: নিজেদের স্বার্থে ১৯৯৬ সালের ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাক্ট (আইপিপি)-এর সংশোধন চায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিনীতির কর অব্যাহতির বাড়তি সুযোগ খুঁজছে তারা। সম্প্রতি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ) এ দাবি জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যন্ত্রাংশ আমদানিতে মূল প্রকল্প ব্যয়ের ১০ ভাগ পর্যন্ত যে কর অব্যাহতির সুযোগ দেওয়া হয়, সেটি যথেষ্ট নয়। তারা এই সুবিধা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানান। তবে বিনিয়োগকারীদের এই সুযোগ দিতে হলে আইপিপি অ্যাক্টে সংশোধন আনতে হবে।

সম্প্রতি দেশের প্রতিষ্ঠিত একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর কর আদায়ের পর ইস্যুটি সামনে আসে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ধরা যাক কোনও প্রকল্পের ব্যয় ৫০০ কোটি টাকা। তাহলে ওই প্রকল্পে খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৫০ কোটি টাকার কর অব্যাহতি পাওয়া যাবে। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা বলছেন, সরকার যে সুযোগ দিয়েছে, তাতে এখন তাদের চলছে না। এর থেকে অনেক বেশি খুচরা যন্ত্রাংশ দরকার হয়।

আইপিপি নীতিমালা অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা ১৫ বছর পর্যন্ত কর অব্যাহতির সুযোগ পান। তবে আইন প্রণয়নের ২৩ বছর পর এসে সংস্কারের কথা কেন উঠছে, জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের দেশে একবার কেউ বিদ্যুৎকেন্দ্র করার অনুমতি পেলে তিনি যতদিন সম্ভব বিদুৎ উৎপাদন করতে পারেন। কিন্তু আইন তো অনন্তকালের নয়। একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে প্রণয়ন করা হয়। ফলে দেখা যায়, চুক্তির পর আবার চুক্তি নবায়ন করতে হয়। এরফলে মেশিন পুরনো হয়। শেষদিকে এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রে খুচরা যন্ত্রাংশের বেশি প্রয়োজন হয়। ফলে তারা খরচ বাঁচাতে এ বিষয়ে দৌড়ঝাঁপ করছে।’

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, দেশে এখন চাহিদার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। অতি পুরনো কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কেন্দ্রের চুক্তি শেষের পর নানা অজুহাতে মেয়াদ বাড়ানোকে অযৌক্তিক বলছেন তারা।

বিদ্যুৎ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এখন দেশের অর্ধেকের কাছাকাছি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে বেসরকারি উৎপাদন কোম্পানিগুলো। ফলে, তাদের হাতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) অনেকটাই জিম্মি। উৎপাদনকারীরা বিশেষ প্রভাবশালী হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই তাদের ইচ্ছাকে মেনে নিতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসাইন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক অবস্থায় বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় ছোট ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনকে উৎসাহিত করেছিলাম। এজন্য একটি আইনও তৈরি করা হয়। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলে। এত বছর পর এসে আইনের পরিবর্তন করার প্রশ্নই আসে না। আমরা যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য এই আইন করেছিলাম, তার বেশিরভাগেরই মেয়াদ শেষ। এখন নতুন করে আইনের পরিবর্তনের কোনও মানেই হয় না।’

এ বিষয়ে বিআইপিপিএ’র সভাপতি লতিফ খানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ফোন করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে লাইন কেটে দেন। পরে আবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/জুলাই ১৯,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর