thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬,  ১৭ জিলহজ ১৪৪০

‘কাশ্মীর ধ্বংস করার জন্য একটি উল্লুকই যথেষ্ট’

২০১৯ আগস্ট ০৮ ১৬:৪৬:০৩
‘কাশ্মীর ধ্বংস করার জন্য একটি উল্লুকই যথেষ্ট’

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক: ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পাশাপাশি সেখানে গত রোববার থেকেই কারফিউ জারি করেছে সরকার। কাশ্মীরের ওপর নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের সাম্প্রদায়িক ও বর্ণবাদী কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী অপর্ণা সেন, অনুরাগ কাশ্যপসহ বিশিষ্টজনরা।

বুধবার নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় বাঙালি অভিনেত্রী ও নির্মাতা অপর্ণা লেখেন, কাশ্মীরের মানুষের ওপর ১৯৮৯-৯০ সালে অনেক অত্যাচার হয়েছে। তারা যে বাড়ি ফিরতে পারছেন, সেটি ভেবে ভালো লাগছে। আশা করব, তারা বাড়ি ফিরলেও প্রতিশোধ নেয়ার ব্যাপারটি আর ফিরবে না। শান্তি বিরাজ করবে কিনা তা সময়ই বলবে।

তবে যে কায়দায় কাশ্মীরকে বিভাজিত করা হলো, সেটি ঠিক হলো কিনা, সে প্রশ্ন তুলে অপর্ণা লেখেন- এই অগণতান্ত্রিক বিভাজনের পর কাশ্মীর কি আদৌ কাশ্মীর থাকবে?’

ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ বলেন, একটি সাজানো বাগান নষ্ট করার জন্য একটি উল্লুকই যথেষ্ট, এখানে তো গাছে গাছে উল্লুক, বাগান বাঁচাবে কী করে?

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা-সংঘাত, নিম্নবর্ণের মানুষের ওপর নির্যাতন, বর্ণবাদী অসহিষ্ণুতা এবং গণপিটুনির মতো ইস্যুগুলো নিয়ে সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনের ৪৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ‘মুক্তচিন্তাকে পিষে মারবেন না’ শিরোনামে গত ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খোলা চিঠি দিয়েছিলেন। এ চিঠি প্রস্তুত করার পেছনে অন্যতম একজন ছিলেন প্রগতিশীল অভিনেত্রী অপর্ণা সেনও।

বিজেপির সমালোচনা করে বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করকে অনুরাগ কাশ্যপের পোস্টটি রিটুইট করেছেন। পাশাপাশি কাশ্মীরে বিপদের মধ্যে পড়া মানুষকে সাহায্য করতে চেয়ে দেয়া বিভিন্ন পোস্টও তাকে রিটুইট করতে দেখা গেছে।

কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন দিল্লির জহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির (জেএনইউ) সাবেক শিক্ষার্থী এবং কাশ্মীরের বাসিন্দা শেহলা রশিদ। তিনি তার ফেসবুক ও টুইটার পোস্টে আবেদন করেন- ‘দ্রুত উপত্যকায় খুলে দেয়া হোক যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম।’

প্রসঙ্গত ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর, প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত-পাকিস্তান উভয়ই কাশ্মীরের দখল নেয়।

কাশ্মীরের একটি অংশের দখল নেয় পাকিস্তান। আরেকটি অংশ তথা কাশ্মীর ও জম্মুর দখল নেয় ভারত। পাকিস্তানের সঙ্গে কাশ্মীরের যে অংশ যুক্ত রয়েছে, সেটি আজাদ কাশ্মীর হিসেবে পরিচিত। এ দুই কাশ্মীরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকট জম্মু-কাশ্মীর ঘিরেই।

১৯৪৭ সালে কাশ্মীরের সঙ্গে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা একটি অস্থায়ী সংস্থান (টেম্পোরারি প্রভিশন)। এ অনুচ্ছেদ বলে জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা ও বিশেষ স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয়েছিল। সংবিধানের অন্যান্য ধারা অন্য সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও জম্মু-কাশ্মীরের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হতো না।

গত সোমবার ভারতের রাজ্যসভার অধিবেশনে সংবিধানের সেই ৩৭০ ধারা বাতিল করে দেয় নরেন্দ্র মোদির সরকার। এর মধ্য দিয়ে ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের ৭০ বছরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল হয়।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/আগস্ট ০৮, ২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জলসা ঘর এর সর্বশেষ খবর

জলসা ঘর - এর সব খবর