thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬,  ২৪ রবিউল আউয়াল 1441

দুর্যোগের জরুরি অবস্থার জন্যে গঠিত হচ্ছে ‘জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন’

২০১৯ আগস্ট ২০ ১০:০৩:২৭
দুর্যোগের জরুরি অবস্থার জন্যে গঠিত হচ্ছে ‘জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২’ অনুযায়ী, দুর্যোগের সময় জরুরি সাড়া দিতে ‘জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন’ গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে একটি খসড়া বিধিমালাও প্রণয়ন করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২’ এ বলা হয়েছে ‘দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর জরুরি সাড়া প্রদানের উদ্দেশ্যে সরকার জনগোষ্ঠীভিত্তিক একটি কর্মসূচি প্রণয়ন ও উহার অধীন জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক নামে একটি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন গঠন করিতে পারিবে।’

এই স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের দায়িত্ব, প্রশিক্ষণ, পোশাক, সুবিধাদি, কার্যাবলী ও পরিচালনা পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে বলেও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল বলেন, ‘জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন করার কথা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে আছে। আমরা এটি গঠনে একটি বিধিমালা করেছি। বিধিমালাটি আমাদের পর্যায়ে চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগে পাঠিয়েছি। এটি এখন ভেটিং পর্যায়ে আছে। ভেটিং হয়ে বিধিমালার আদেশ জারির পর এ বিষয়ে আমাদের কাজ শুরু হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন না থাকলেও আমার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে কাজ করছি।’

খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে। এর প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকায়। প্রয়োজনে সরকারের অনুমোদন নিয়ে ঢাকার বাইরে যেকোনো স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।

সংগঠনের একটি লোগো থাকবে যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেবে।

প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশের সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং পৌরসভা বা ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইউনিটের মাধ্যমে এই সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ইউনিট ১০ জন পুরুষ এবং ৫ জন মহিলা স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়ে গঠিত হবে। প্রতিটি ইউনিট ৫টি গ্রুপে ভাগ হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রতিটি গ্রুপে দুজন পুরুষ এবং একজন মহিলা স্বেচ্ছাসেবক অন্তর্ভুক্ত হবে।

প্রতিটি ইউনিটে দুর্যোগ বার্তা প্রচার গ্রুপ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার গ্রুপ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রুপ, আশ্রয় কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা গ্রুপ, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তা গ্রুপ থাকবে।

জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের কার্যাবলী তুলে ধরে বিধিমালায় আরও বলা হয়, তারা দুর্যোগকালে স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করাসহ দুর্যোগ প্রশমনে গাইডলাইন (নির্দেশিকা) প্রণয়ন করবে। দুর্যোগের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর এবং তাদের সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেজ প্রণয়ন ও সদস্য সংগঠনগুলোর ডাটাবেজ ব্যবহার করে একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ প্রস্তুত করবে।

জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল করতে কর্মকৌশল প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন; স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন প্রকাশনা, সভা, সেমিনার, মুদ্রণ ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপক গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা; প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমনভাবে প্রস্তুত করা হবে যাতে তারা দক্ষতার সাথে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।

স্থানীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি সংগঠনটি তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবে যাতে আপদজনিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। এছাড়া জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বছরে কমপক্ষে দুটি মহড়া আয়োজন এবং পরিচালনা করবে বলে খসড়া বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবকদের স্বীকৃতি দিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবক সম্পৃক্তকারী সংগঠনের লোগোসহ পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড), পুরস্কার এবং সার্টিফিকেট দেয়ার ব্যবস্থা করবে সংগঠনটি।

জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দিষ্ট পোশাক বা ইউনিফর্ম থাকবে। অন্য কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার সময় প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবক তাদের সংগঠনের নিজস্ব ইউনিফর্ম ব্যবহার করবে। তবে যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার সময় জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের লোগোসম্বলিত হ্যান্ড ব্যাজ বা গলাবন্ধনী বা ক্যাপ ব্যবহার করবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য নীতিনির্ধারণ, সম্পদ সংগ্রহ এবং জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের সব কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ, পরিচালনা পর্ষদ ও সুপারভিশন কমিটি থাকবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর নেতৃত্বে থাকবে উপদেষ্টা কমিটি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হবেন পরিচালনা পর্ষদের প্রধান।

জাতীয় দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী এবং পরিচালনা পর্ষদের গৃহীত পরিকল্পনা ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে ওয়ার্ডপর্যায় থেকে প্রধান কার্যালয় পর্যন্ত সুপারভিশন কমিটি থাকবে। সুপারভিশন কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ওয়ার্ড কমিটি, ইউনিয়ন কমিটি, পৌরসভা কমিটি, উপজেলা কমিটি, সিটি কর্পোরেশন কমিটি, জেলা কমিটি ও বিভাগীয় কমিটি।

সুপারভিশন কমিটিকে বছরে কমপক্ষে ছয়টি সভায় বসতে হবে। তবে দুর্যোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি সভা আহ্বান করা যাবে।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/আগস্ট ২০, ২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর