thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬,  ১৯ রবিউল আউয়াল 1441

পেশাই যাদের চাঁদাবাজি

২০১৯ সেপ্টেম্বর ০১ ১৬:২৪:১৫
পেশাই যাদের চাঁদাবাজি

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: এলাকায় সবাই সচ্ছল হিসেবেই পরিচিত। বিলাসবহুল বাড়ি, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ মাইক্রোবাস, লেগুনার ব্যবসাও রয়েছে। অধিকাংশই সুনির্দিষ্ট কোনো পেশায় জড়িত নয়।

তবে অন্তরালে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে মোবাইলফোনে চাঁদাবাজি করে অর্থ উপার্জন করে আসছিলেন। সচ্ছলতার পেছনে তাদের চাঁদাবাজিই মূল পেশা। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মোবাইলফোনের সিমগুলোও অন্যের নামে তোলা। ব্যবহারের পর ওয়ানটাইম হিসেবে সিমগুলো ফেলে দেয়ায় তাদের ধরাও অনেকটা কষ্টসাধ্য।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকা ও মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মোবাইলফোনে চাঁদাবাজির সংঘবদ্ধ চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।

৩১ আগস্ট (শনিবার) সকাল ৭টা থেকে ১ সেপ্টেম্বর (রোববার) সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত র‌্যাব-৪ এর একাধিক দল তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতাররা হলেন- মিন্টু খান (৩৫), রাকিব খান ওরফে টিটুল (৩৪), জামাল শেখ (৪৩), রবিউল ইসলাম (৩৪), সোহেল হাওলাদার (২৬), শামিম খান (১৯), বিল্লাল খান (৩৫), আব্দুল মোমিন (২৮) ও রাব্বি হোসেন (২৪)।

রোববার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা মোবাইলফোনে চাঁদা দাবি ও চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করেছে।

চক্রটির চাঁদাবাজির কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, চার স্তরে বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করে আসছে চক্রটি। প্রথম স্তরে (মাঠকর্মী) সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজচক্রের সদস্যরা ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী/কর্মকর্তা, চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের ভিজিটিং কার্ড বিভিন্ন কৌশলে সংগ্রহ করে। পরে তাদের গ্রুপের তথ্য সংগ্রহকারী সদস্যদের কাছে প্রদান করে।

দ্বিতীয় স্তরে চক্রের তথ্য সংগ্রহকারীরা প্রাপ্ত ভিজিটিং কার্ডের উল্লিখিত ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বর-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করে। ব্যক্তির ঠিকানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে। ব্যক্তির দুর্বল বিভিন্ন দিক চিহ্নিত করে।

তৃতীয় স্তরে মোবাইল অপারেটিং গ্রুপ ভিজিটিং কার্ডের তথ্যাদি পর্যালোচনা শেষে ফোন করে চাঁদা দাবি করে। বিভিন্ন মামলার দাগি আসামির নামে ফোন করে। জেল থেকে মুক্তির জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি, আবার কখনও শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত বাহিনীর সদস্য উল্লেখ করে কখনও কাল্পনিক সন্ত্রাসী শাহীন শিকদারের নামেও চাঁদা দাবি করে।

এছাড়া পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নেতা পরিচয় দিয়ে, বাংলাদেশ সর্বহারা পার্টির নেতার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতির প্রদর্শন করে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে।

ভয়ভীতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে টার্গেটকৃত ব্যক্তির স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মাকে অপহরণ করার ভীতি প্রদান করে আবার কখনও ওই ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দাবির কাজে ব্যবহৃত সিমগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত।

চতুর্থ স্তরে বিভিন্ন স্থান থেকে বিকাশের মাধ্যমে চাঁদার টাকা গ্রহণ করে। আবার কখনও সুযোগ-সুবিধা বুঝে নগদ টাকা গ্রহণ করে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চক্রটি ২০০৬ সাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোবাইলফোনে অপহরণ ও হত্যার ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল।

মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন লুন্দী, কৃষ্ণপুর, ইছুবপুরসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজনের প্রধান পেশাই হচ্ছে মোবাইলফোনের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করা। এভাবেই অনেকে অর্থ উপার্জনে আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়েছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/সেপ্টেম্বর ০১ ,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

অপরাধ ও আইন এর সর্বশেষ খবর

অপরাধ ও আইন - এর সব খবর