thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬,  ১৮ সফর 1441

তারকাদের প্রিয় শিক্ষক

২০১৯ অক্টোবর ০৫ ১৬:৪০:০৫
তারকাদের প্রিয় শিক্ষক

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক: শিশুর প্রথম শিক্ষক মা-বাবা। মূলধারার শিক্ষা অর্থাৎ পাঠ্যপুস্তক থেকে জ্ঞান অর্জন শুরু হয় বিদ্যালয় থেকে। তাই মা-বাবার পরই শিক্ষকের মর্যাদা। কবি আবদুল কাদির ‘শিক্ষকের মযার্দা’ কবিতায় বাদশাহ আলমগীর শিক্ষককে কেমন মর্যাদা দিতেন তার বর্ণনা দিয়েছেন। বাদশাহর ছেলে নিজ হাতে শিক্ষকের পা ধুয়ে না দিয়ে, শুধু পানি ঢেলেছিল। বাদশা রাগ করে বলেছিলেন, শুধু পানি না ঢেলে হাত দিয়ে পা ধুয়ে দেয়া উচিত ছিল। যুগে যুগে অতি অত্যাচারী শাসকও শিক্ষাগুরুকে অসম্মানের ধৃষ্টতা দেখাননি।

শিক্ষাগুরুর সম্মানে ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। শিক্ষকদের অবদান স্মরণ করার জন্য দিবসটি পালন করা হয়। ইউনেস্কো শিক্ষক দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য: ‘স্বাধীনভাবে পাঠদান, শিক্ষক হবেন ক্ষমতাবান’! শিক্ষকদের নিয়ে শোবিজ অঙ্গনের শিল্পীদেরও স্মৃতি রয়েছে। তারকাদের প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতি নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন।

আফসানা মিমি: অভিনেত্রী, মডেল ও পরিচালক আফসানা মিমি। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। তারপর অনেক টেলিভিশন নাটকে কাজ করেছেন। কয়েকটি চলচ্চিত্রেও তাকে দেখা গেছে। টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন। প্রিয় শিক্ষক সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি ‘দীপু নাম্বার টু’ থেকে এক ডিগ্রি বেশি। এগারোটা স্কুলে পড়েছি, তাই আমার প্রিয় শিক্ষকের তালিকা অনেক বড়। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয় শিক্ষক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। আমি যখনই কোনো সমস্যায় পড়েছি স্যারকে কল দিলে স্যার সমাধান করে দিয়েছেন। আমার এগারোটা স্কুলের প্রথম স্কুল ছিল সিরাজগঞ্জে। সপ্তম শ্রেণিতে আমি টঙ্গী পাইলট স্কুলে পড়েছি, সেখানে বারি স্যার আমাদের বাংলা পড়াতেন। ভারতেশ্বরী হোমসের মিস বড়ুয়া গণিত ক্লাস নিতেন। পারতাম না বলে একটা অঙ্ক একশবার করতে দিতেন; কিন্তু তিনিই আবার আমাকে ডেকে মাথার উঁকুনগুলো বেছে দিতেন। এছাড়া মিস রয়, যার কাছ থেকে আমি শাড়ি নিয়ে পরতাম। তখন আমি পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। এছাড়া আরো অনেক আছে ।

বন্যা মির্জা: মঞ্চ ও টিভি অভিনেত্রী বন্যা মির্জা। টিভি নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। প্রিয় শিক্ষক সম্পর্কে বলেন, আমার প্রিয় শিক্ষক বেঁচে নেই। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি। দুই বছর আগে তিনি হজে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই মারা যান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়েও আমার অনেক প্রিয় শিক্ষক আছে ড. সৈয়দ জামিল আহমেদ তাদের একজন। আরো আছেন সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। তাঁরা ছিলেন বলেই হয়তো আমরা আমাদের দর্শনের জায়গা খানিকটা পরিষ্কার করে নিতে পারি।

শারমিন সুলতানা সুমি: জনপ্রিয় ব্যান্ড চিরকুট-এর প্রধান গায়িকা শারমিন সুলতানা সুমি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। ২০০২ সালে চিরকুট ব্যান্ড গঠন করেন। প্রধান ভোকালিস্টের পাশাপাশি চিরকুটের বেশিরভাগ গান তার লেখা এবং সুর করা।
সুমি বলেন, আমার অনেক অনেক প্রিয় শিক্ষক আছেন। তবে দুজনের নাম বলতে চাই। একজন আমার স্কুলের মোখলেছ স্যার। গাধা পিটিয়ে মানুষ করার মতো মানুষ করেছেন এবং পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছিলেন। অন্যজন হলেন আমার গানের শিক্ষক ‘হারুন স্যার’। যদিও আমি খুবই অবাধ্য ছাত্রী ছিলাম। সেভাবে শেখা হয়নি, তবে স্যার অনেক চেষ্টা করেছেন।

নিরব হোসেন: চলচ্চিত্র অভিনেতা ও মডেল নিরব হোসেন। মডেলিং দিয়ে শোবিজ অঙ্গনে পথচলা শুরু। বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করার পর চলচ্চিত্রে নাম লেখান। ২০১৭ সালে তিনি সমীর খান পরিচালিত শয়তান সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন। তিনি বলেন, প্রিয় শিক্ষকের কথা বলতে হলে সেই স্কুলের কথা মনে পড়ে যায়। একটা ভয় পাওয়ার ব্যাপার চলে আসে। কী ভয় না পেতাম সেই সময়! ভয়ের সাথে সাথে যে মানুষটার সঙ্গে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়, একটা সময় সেই মানুষ আসলে প্রিয় হয়ে যায়। আমার সেই প্রিয় শিক্ষকের নাম তারেক স্যার, আমাদের গণিতের শিক্ষক ছিলেন।

আব্দুন নূর সজল: অভিনেতা-মডেল আব্দুন নূর সজল রাইফেলস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক পাস করেছেন। এরপর ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রিয় শিক্ষক সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার প্রিয় শিক্ষক রাইফেলস পাবলিক স্কুলের নার্গিস সুলতানা ম্যাম। আমি খুব সৌভাগ্যবান যে, তার মতো একজন শিক্ষক পেয়েছি।

সোমনূর মনির কোনাল: বাবার চাকরি-সূত্রে তার শৈশব কেটেছে কুয়েতে। ২০০৮ সালে দেশে বেড়াতে আসেন কোনাল। ২০০৯ সালে একটি ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতায় ‘সেরা কণ্ঠ’ জয়ী হন। অ্যালবামের পাশাপাশি প্লেব্যাক করেছেন। গান ছাড়াও করেছেন উপস্থাপনা, নাচ, অভিনয় এবং মডেলিং। ২০১৪ সালের টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে গান গেয়েছেন তিনি। এ বছর গ্র্যাজুয়েশন শেষ করবেন। গানে আরো সময় দেবার ইচ্ছা কোনালের। প্রিয় শিক্ষক সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি গান শিখেছি কুয়েতে। আমার গানের শিক্ষক ছিলেন কেকা মুখার্জি। তিনি আমার প্রিয় শিক্ষক। ইরাক-কুয়েত যুদ্ধের সময় তিনি কলকাতা চলে যান। তখন তার কাছে টাকা ছিল না। খুব কষ্টে অনেক দিন পর তিনি একটা হারমোনিয়াম কিনেছিলেন। সেই নব্বই থেকে এ পর্যন্ত আগলে রেখেছিলেন। সেটা দিয়ে ছোটবেলায় আমরা গান শিখেছি। গতবার যখন কুয়েত গিয়েছিলাম, তখন তিনি সেই হারমোনিয়াম আমাকে দিয়ে দেন। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এর চেয়ে বড় আর কি পাওয়া হতে পারে?

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/অক্টোবর ০৫,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জলসা ঘর এর সর্বশেষ খবর

জলসা ঘর - এর সব খবর