thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬,  ২১ রবিউল আউয়াল 1441

এ পি জে আবদুল কালাম: কিংবদন্তি হয়ে ওঠার গল্প

২০১৯ অক্টোবর ১৫ ১০:১০:১৪
এ পি জে আবদুল কালাম: কিংবদন্তি হয়ে ওঠার গল্প

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক: এ পি জে আবদুল কালাম বিশ্ব ইতিহাসে একটি অনুপ্রেরণার নাম। আমরা তাকে অনেক উপাধি, অনেক উদাহরণেই চিনি। এ পি জে আবদুল একজন জীবন্ত ইতিহাস, কিংবদন্তি, আদর্শবাদী, অসাধারণ ব্যক্তিত্বের এক চমৎকার প্রতিচ্ছবি। একেবারে শূন্যের কোটা থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন, হয়েছিলেন জাতির পথপ্রদর্শক। আজ তার জন্মদিন। জন্মদিনে তার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।

বাবা ছিলেন মাঝি, হ্যাঁ নাদের মাঝির ছেলে এ পি জে আবদুল কালাম ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। জন্মেছিলেন ১৫ অক্টোবর ১৯৩১ সালে। জীবনে বার বার হেরে গিয়ে জিতে গেছেন তিনি। কখনো তিনি মনোবল হারাননি হৃদয়ের অধিকারী এই অসাম্প্রদায়িক মানুষ।

এ পি জে আবদুল কালাম ছিলেন দারুণ প্রতিভাবান এক বাগ্মী। তাঁর বাকচাতুর্য মনকে ভরিয়ে দেয়, অদ্ভুত এক অনুপ্রেরণা বোধ হয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যেতেন তরুণদের জাগিয়ে তুলতে, তাদের ভেতরের জীবটি লালন-পালন করার জন্য। ছাত্রছাত্রীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় সাধারণ পোশাকের মোড়কে থাকা এই অসাধারণ মানুষটি।

তিনি এক মহান সুযোগ পেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি হয়ে ভারতের দায়ভার নেওয়ার। সেবা দিয়ে গিয়েছিলেন সুচারুভাবে। দুর্নীতির কালো পাহাড় তাকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি। শিশুসুলভ এই সদাহাস্য ব্যক্তিটি অকপটে সাধারণের ভেতর মিশে গেছেন। কোট-টাই পরা শুরু করেছিলেন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর। এর আগে পোশাকে ছিলেন সাধারণ, কিন্তু ব্যক্তিত্বে ছিলেন অসাধারণ।

ভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতি এ পি জে কালাম যেদিন রাষ্ট্রপতি ভবন ছেড়েছিলেন, সেদিন সেই জিনিসগুলোই তাঁর সঙ্গে ছিল, যেগুলো তিনি ভবনে প্রবেশের সময় সঙ্গে নিয়েছিলেন। তিনি অনুকরণীয় এবং দারুণভাবে অনুসরণীয়।

এই মহান মানুষটি ২০১৪ সালের ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশে এসেছিলেন। মিসাইল ম্যান এ পি জে কালাম ছিলেন দারুণ সাদাসিধে টাইপের মানুষ। কাজের ভারে বিয়ে করার সময়টাও নাকি মেলাতে পারেননি। দেশের জন্য অকাতরে শুধু নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। অকুতোভয় আপসহীন দেশপ্রেমিক ক্ষমতার লোভে কখনো নিজেকে বিকিয়ে দেননি। নিজেকে সাধারণের কাতারে দাঁড় করিয়ে সবকিছুর চুলচেরা বিশ্লেষণ করতেন। সম্ভবত এ জন্য এই নিরহংকারী মানুষটি ‘জনগণের রাষ্ট্রপতি’ হতে পেরেছিলেন।

এই মানুষটি জীবনের আনন্দ খুঁজেছিলেন কাজের মাঝে। কাজই তাঁকে অমর করে রেখেছে। এ পি জে দারুণ আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ। যে রাজ্যে তিনি পদচারণা করেছেন, তা সুশোভিত করেছেন। তাই তো তাঁর অবদানকে আরো তাৎপর্যমণ্ডিত করতে তিনি তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেন নিজের চিন্তাচেতনার কথা। তরুণদের মনে দারুণভাবে দাগ কেটেছিলেন আধুনিক বিজ্ঞানের এই মহীরুহ। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে তরুণ-তরুণীদের মনকে আন্দোলিত করতে ছুটে যেতেন। তিনি স্বপ্ন দেখাতেন তরুণদের।

তাঁর ‘Wings of Fire’, ‘Turning Points’ কিংবা ‘Ignited Minds’ যুবসমাজের মধ্যে সহসা যে শক্তি জুগিয়েছে, তা আসলে ঈর্ষণীয়। অথচ কে জানত, নাদের মাঝির ছেলে ভারতের রাষ্ট্রপতি হবেন! কতদিন খেয়ে না খেয়ে পড়াশোনা করেছেন। দুঃখকে তিনি জয় করেছেন তাঁর সৎ চেষ্টা দ্বারা। হারতে হারতে জিতে যাওয়া এই মানুষটি একসময় চেয়েছিলেন পাইলট হবেন। কিন্তু হয়েছিলেন পরমাণুবিজ্ঞানী। ভারতের পারমাণবিক ক্ষেত্র সাফল্যের চূড়ায় আরোহণ করেছে যে ব্যক্তিগুলোর হাত ধরে, তার মধ্যে এ পি জের ভূমিকা সর্বাগ্রে বিদিত।

এ পি জে সম্ভবত একবিংশ শতাব্দীতে ভারতের সেরা আবিষ্কারের মধ্যে অন্যতম। পেছনে না তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাতেন তিনি। আধুনিক ভারতের রূপকার এ পি জে মনে করতেন, পৃথিবীর সব মানুষ সমান। মিডিয়ায় বিতর্কিত কমেন্ট করে কখনো পত্রিকার শিরোনাম হননি। তাঁর ‘Wings of Fire’ অন্যতম বেস্ট সেলার। ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে এ বইটি। তাঁর লেখা জ্ঞানের এমন আধার, যার ভেতরে ধার ও ভার দুটিই আছে। আসলে যে পারে, সে পারে। একাধারে তিনি একজন বিজ্ঞানী, রাষ্ট্রপতি, বক্তা, লেখক সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ। জীবনে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, তবে সমাজকে দূষিত করে নয়। তাঁর জীবনের সবচেয়ে সেরা পুরস্কার মানুষের ভালোবাসা। তাঁর কর্মময় জীবনের জন্য তিনি বেঁচে থাকবেন কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে। এ পি জের মতো ব্যক্তিত্বদের আজ দরকার ভঙ্গুর দেশের ভার নেওয়ার জন্য। তিনি আমাদের ছেড়ে যান ২৭ জুলাই, ২০১৫। শিলংয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগকারী এই নিরহংকার, সদা হাস্যোজ্জ্বল, সহজ-সরল মানুষটি আমার জীবনের সবচেয়ে সেরা পথপ্রদর্শক।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/অক্টোবর ১৪,২০১৯)

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

বিশ্ব এর সর্বশেষ খবর

বিশ্ব - এর সব খবর