thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৪ আশ্বিন ১৪২৭,  ১ সফর 1442

খালেদার মুক্তির আন্দোলনে নেমেছি, আন্দোলন চলবে: ফখরুল

২০২০ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৯:৩৭:৩৯
খালেদার মুক্তির আন্দোলনে নেমেছি, আন্দোলন চলবে: ফখরুল

রাজপথে আন্দোলন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় দুই বছরে কারাবন্দি দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারেনি বিএনপি। এই অবস্থায় তার কারাবন্দিত্বের দুই বছর পূর্তিতে মুক্তি চেয়ে সমাবেশ থেকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সরকারকে বাধ্য করব। আমরা আন্দোলনে নেমেছি, আমাদের আন্দোলন চলবে, এর মধ্য দিয়ে এই দানব সরকারকে বাধ্য করব।’

শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশ থেকে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

দুপুর ২টায় সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চ থেকে দলের নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।

বেলা ১২টার পর থেকেই নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে আসতে শুরু করে বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থকরা। বিভিন্ন ইউনিট থেকে খণ্ড, খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন তারা। তাদের হাতে ধানের শীষের রেপ্লিকা, ফেস্টুন, খালেদা জিয়ার পোস্টারসহ প্রতিবাদী স্লোগান লেখা ব্যানার ছিল। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান দেন তারা।

ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, জেল খেটেছেন। গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় রাজনৈতিক কারণে বন্দী রাখা হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ, নিজে খেতে পারেন না, চলতে পারে না। দুই বছর বিনা দোষে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে আটকে রাখা হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করা হয়েছে। একদিন আগে অর্থমন্ত্রী বললেন, সবদিক থেকে অর্থনীতি ঊর্ধ্বমুখী। পরের দিন জাতীয় সংসদে বললেন অর্থনীতির অবস্থা ভালো না। এরপরও তার চাকরি থাকে কী করে?’

ফখরুল বলেন, ‘রপ্তানি আয় নিচের দিকে, রাজস্ব আয় কমে গেছে, গার্মেন্টস, ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুর্নীতি কমেনি। দুর্নীতির জন্য যুবলীগের প্রেসিডেন্টকে বাদ দিতে হয়েছে, ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্টকে বাদ দিতে হয়েছে। জনগণ এখন আর আওয়ামী লীগকে চায় না। তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় রয়েছে জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। এ সরকার জনগণের সরকার নয়। কারণ তাদের জনগণের ম্যান্ডেট নেই। তারা গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করেছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের বিচার ব্যবস্থা এখন স্বাধীন নয়। দেশের প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নলের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।’

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীদের রাজপথ না ছাড়ার অনুরোধ জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন আইনি ব্যবস্থায় গিয়েছি দেশের মানুষ বলেছে, আপনারা বিচার পাবেন না। বন্ধুগণ আজকে মনে রাখতে হবে- বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে না পারলে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি পাবে না। আমি আপনাদের অনুরোধ করছি- কেউ রাস্তা ছেড়ে যাবেন না। যতদিন আমরা গণতন্ত্রের মাকে আমাদের মাকে মুক্ত করতে না পারবো ততদিন আমরা রাস্তায় থাকবো।’

সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপির ভাইস- চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, 'কথা একটাই, যদি সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠে তাহলে আমরা আঙ্গুলটা বাকা করবো। আপনাদেরকে আর সময় বেশি দেবো না এখনো সময় আছে, বলি মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়েন, ছাড়েন, ছেড়ে দেন। অনুরোধ করছি।’

সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য একত্রিত হয়ে শপথ নিতে হবে বলে জানান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। বলেন, মানসিকতা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে পারবো না। তা যত বড় বড় কথাই মাইকের সামনে বলি না কেন।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকরা বক্তব্য দেন।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/ফেব্রুয়ারি ০৮,২০২০)

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর

রাজনীতি - এর সব খবর