thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩ আশ্বিন ১৪২৭,  ১ সফর 1442

যেভাবে ডুবেছিল মালয়েশিয়াগামী ট্রলারটি

২০২০ ফেব্রুয়ারি ১১ ১৭:৫৭:১৮
যেভাবে ডুবেছিল মালয়েশিয়াগামী ট্রলারটি

টেকনাফ প্রতিনিধি: অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সেন্টমার্টিনের কাছে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় যাত্রী নিয়ে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, ছেঁড়া দ্বীপের কাছে পৌঁছালে ডুবন্ত পাথরে ধাক্কা খেয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা অনুসন্ধান চালিয়ে ৭১ জনকে জীবিত এবং ১৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। ট্রলারটিতে ১৩৮ জন যাত্রী ছিল বলে কোস্টগার্ডকে জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা।

কোস্টগার্ড সদস্যদের তৎপরতায় জীবিত উদ্ধার ৭১ যাত্রীর একজন হলেন মো. আব্দুল (২৮)। তার দাবি তিনি উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা।

আব্দুল বলেন, সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ১৩৮ জন মালয়েশিয়াগামী যাত্রীকে টেকনাফের নোয়াখালী পাড়া গ্রাম থেকে ছোট ছোট ট্রলারে করে বড় একটি ট্রলারে নিয়ে যায় দালালেরা। ভোররাতের দিকে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণের দিকে ছেঁড়া দ্বীপের কাছে পৌঁছালে ট্রলারটি পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরে তলা ফেটে ট্রলারটিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। এসময় দালাল ও মাঝি-মাল্লারা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পালিয়ে যায়।

আব্দুল জানান, প্রথমে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে বাঁচার আকুতি জানান। সেখান থেকে টেকনাফের কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার সোহেল রানার নম্বর দেওয়া হয়। পরে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিস্তারিত জানান আব্দুল। এরই সূত্র ধরে শাহপরী ও সেন্টমার্টিন থেকে কোস্টগার্ডের দুটি টিম অনুসন্ধান শুরু করে। তবে কোস্টগার্ডের অনুসন্ধানী দল খুঁজে পাওয়ার আগেই ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা ভাসমান অবস্থায় ১৫টি লাশ উদ্ধার করেন। এর মধ্যে ১২ জন নারী ও তিনটি শিশু। এছাড়া ৭১ জনকে (৪৬ জন নারী, ২১ জন পুরুষ, ৪ শিশু) জীবিত উদ্ধার করে কোস্টগার্ড।

ট্রলার ডুবির পর জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা নারী রাজুমা আক্তার জানান, তিনি উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। উন্নত জীবনের আশায় অন্য রোহিঙ্গা সদস্যদের সঙ্গে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যেতে সাগর পাড়ি দিচ্ছিলেন, এসময় ট্রলারডুবি হয়।

দীর্ঘ ৫ বছর ধরে রাজুমার স্বামী মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। ইচ্ছা ছিল তিনি স্বামীর কাছে যাবেন। তবে সেই স্বপ্ন আর বাস্তব হলো না।

উদ্ধার তৎপরতা বিষয়ে টেকনাফের কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার সোহেল রানা বলেন, ভোর ৫টায় মালয়েশিয়াগামী এক যাত্রী কান্নাকাটি করে ফোন দেন ও বাঁচার আকুতি জানান। আব্দুল নামে ওই যাত্রী জানান ১৩৮ জন ট্রলারে করে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। পথে ট্রলারটি পাথরে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যাচ্ছে। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে দুটি অনুসন্ধানী দল কাজে নামে। সকাল ৭টায় ডুবন্ত ট্রলারটিকে খুঁজে পান কোস্টগার্ড সদস্যরা। পরে ৭১ জনকে জীবিত ও ১৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করেন তারা। মৃতদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় মিলেছে। আর ৫২ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে কাজ করছেন কোস্টগার্ড সদস্যরা।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/ফেব্রুয়ারি ১১,২০২০)

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর