thereport24.com
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭,  ১১ জিলকদ  ১৪৪১

মাতৃভাষাতেই সফল সেসব ক্রীড়াবিদরা

২০২০ ফেব্রুয়ারি ২১ ১০:৫৮:১১
মাতৃভাষাতেই সফল সেসব ক্রীড়াবিদরা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক: একজন ক্রীড়াবিদকে মূল্যায়ন করতে হয় তাঁর ক্রীড়াশৈলী দ্বারা, যার যার ক্ষেত্রে তাঁর সমালোচনা কিংবা প্রশংসার একমাত্র কারণ হতে তাঁর পারফরমেন্স, খেলায় অবদান। তবে এসব ছাপিয়ে বেশিরভাগ সময় একজন ক্রীড়াবিদকে সমালোচিত হতে হয় ইংরেজিতে তাঁর পারদর্শীতার উপরে। ইংরেজি বলাতে তিনি কতটা স্বাভাবিক, সেটার উপর।

তবে ইংরেজি না জানাটা কিংবা অপারদর্শী হওয়াটা যে কোন দোষের কিংবা ব্যর্থতার নয় সেটা যুগে যুগে প্রমাণ করেছেন বেশকিছু ক্রীড়াবিদ। যাদের ইংরেজি জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা আকাশ সমান উঁচু হতে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারেননি। বরং তাদের নিজের মাতৃভাষাতেই সেসকল ক্রীড়াবিদরা বিশ্ব জয় করে দেখিয়েছেন।

ফুটবল কিংবা ক্রিকেট- এই দুটো খেলাতেই ইংরেজির প্রয়োজনটা বেশি। ম্যাচের আগে বা পরে, সাক্ষাৎকার কিংবা অনুশীলনে, ইংরেজি ভাষায় একটু দক্ষতা না রাখলে পিছিয়ে পড়তে হয় খানিকটা, তবে আসলেই কি তাই? কিংবদন্তীতুল্য বহু খেলোয়াড় রয়েছেন, যারা এই ভাষার কাঁটাতার ডিঙিয়ে জ্বলে উঠেছেন, যারা ইংরেজি না জেনেই পৃথিবীকে মুগ্ধ করেছেন, বিশ্বটাকে জয় করেছেন।

বিশ্বসেরা ফুটবলার, অথচ জানেন না ইংরেজিটা
লিওনেল মেসি। ৬ বারের ব্যালন জয়ী এই আর্জেন্টাইন ফুটবলার যে সর্বকালের সেরাদের একজন তাতে সন্দেহ নেই কারো। ফুটবল অঙ্গনে প্রায় সকল রকমের সাফল্য ধরা দিয়েছে এই ক্ষুদে জাদুকরের হাতে। অথচ নিজের ইংরেজিটা শুধরানোর দরকার মনে করেননি এই কিংবদন্তী।

নানান সময়ে নানান অনুষ্ঠান কিংবা সাক্ষাৎকারে মেসিকে প্রশ্ন করতে কিংবা মেসির সঙ্গে কথা বলতে প্রয়োজন পড়ে দোভাষীর, তাতে মেসির কই? মেসি তাঁর মাতৃভাষাতে ছুটে চলছে অসীমের দিকে, পায়ের জাদুতে মুগ্ধ করেছে গোটা দুনিয়াকে। ভাষার সামর্থ্য কই তাকে আটকে রাখাবে?

২২ গজে নিষ্প্রয়োজনীয় ‘ইংরেজদের ভাষা’
ক্রিকেটটা পথচলা শুরু করেছিল ইংরেজদের হাত ধরে। তাই এই খেলার সঙ্গে ইংরেজির সম্পর্কটাও সবথেকে পুরনো। খেলায় ব্যবহৃত শব্দ, নিয়মাবলী কিংবা পরিচালন- ইংরেজিটা মিশে আছে এই খেলার সর্বত্র। তবে খেলাটা যখন বৈশ্বিক, ভাষার সীমাবদ্ধতা সেখানে তুচ্ছ!

ক্রিকেটারদের ইংরেজি সমস্যাটা সবথেকে বেশি প্রকট এই এশিয়ার ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোতে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা কিংবা ভারত- সব দেশের খেলোয়াড়দের মাঝেই ইংরেজি দক্ষতার ভীষন অভাব। তবে এই অদক্ষতা প্রভাব ফেলতে পারেনি নিজের যোগ্যতা প্রমাণে।

ভারতের যুবরাজ সিং হিন্দিতে, পাকিস্তানের ইনজামাম উল হক উর্দুতে, শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা সিংহলীতে কিংবা আমাদের মোহাম্মদ রফিক বাংলাতে- নিজ মাতৃভাষাতেই এরা অর্জন করেছে অনেক কিছু। প্রভাব সৃষ্টি করেছেন ২২ গজে। ইংরেজিতে অদক্ষতা বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি এদের সফলতাতে।

ইংরেজি ছাড়াই ইপিএলে সফল তাঁরা
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (ইপিএল) তারকা ফুটবলার। মাঠে দাপটের সঙ্গে পার করে সকল আকর্ষন ঘিরে রাখে নিজের প্রতি। তবে মাঠ মাতানো এসব খেলোয়াড়রা সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে নয় ততটা সাবলীল। কখন দোভাষী, কখনো বা ভুলভাল ইংরেজি- বিশ্বের সবথেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ক্লাব ফুটবলে এমনভাবেই পার করেছেন বেশ কিছু তারকা ফুটবলার।

এদের মধ্যে ম্যানসিটির স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরো কিংবা সাবেক ম্যানইউ ডিফেন্ডার মারউইন ফেলাইনি- যারা বছরের পর বছর ইপিএলে খেলেও শেখার চেষ্টা করেননি ইংরেজিটা। নিজেদের মাতৃভাষাতে আর ইংরেজির প্রতি তোয়াক্কা না করেই নিজ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে এসব ফুটবলার।

ইটের জবাব পাথরে
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে গেছে পাকিস্তান। স্থানীয় এক গনমাধ্যমে পাকিস্তানি পেসারের ভুলভাল ইংরেজিতে দেয়া সাক্ষাৎকার হাসির খোরাকে পইনত হয়। এই সাক্ষাৎকারের পর স্থানীয় সাংবাদিক টনি তারদিও টুইট করেন, ‘অ্যাডিলেড ওভালে ফক্স স্পোর্টসকে পাকিস্তানের এক পেসারের দেওয়া সাক্ষাৎকার শুনলাম। একটা কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি, ওর বলা একটা শব্দও আমি বুঝিনি।’

সাংবাদিক তারদিওকে এর পরই জবাব দিতে আসরে নেমে পড়েন সাবেক অজি তারকা ডিন জোনস। তিনি লিখেন, ‘ওরা অন্তত চেষ্টা করেছে। ওদের দ্বিতীয় ভাষা ইংরেজি। আমাদের ছেলেরা (অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা) কিন্তু আরব আমিরাতে গিয়ে সাক্ষাত্কার দেওয়ার সময় উর্দুতে কথা বলতে পারে না।’

ক্রিকেট ম্যাচের শেষে এমন দৃশ্য প্রায় সময়ই দেখা যায়। এই নিয়ে বহুবার বহু সঞ্চালক সমালোচনাও করেছেন। বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু ডিন জোনসের মতো করে কেউ হয়তো মুখের উপর মোক্ষম জবাব দেননি। এরপর ওই সাংবাদিক টনি তারদিও অবশ্য চুপ মেরে গেছেন। তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছেন, ব্যঙ্গ করার বিষয় নির্বাচনটা সঠিক হয়নি।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/ফেব্রুয়ারি ২১,২০২০)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর