thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭,  ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

সন্ধ্যায় আঘাত হানবে সাইক্লোন ‘আম্পান’

২০২০ মে ২০ ০৭:২২:২৬
সন্ধ্যায় আঘাত হানবে সাইক্লোন ‘আম্পান’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: সুপার ঘূর্ণিঝড় আম্পান আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এখন পর্যন্ত এটির মূল কেন্দ্র বা চোখ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাগরদ্বীপ এবং ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চলে। যদিও বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন না আবহাওয়াবিদরা। কেননা, আম্পান মাঝেমধ্যে গতিপথ পরিবর্তন করছে।

সামান্য পূর্বদিকে বাঁক নিলেই আম্পানের মূল কেন্দ্র আছড়ে পড়তে পারে বাংলাদেশের সুন্দরবন ও আশপাশের জেলায়। তবে কেন্দ্র যেখানেই উপকূল অতিক্রম করুক না কেন, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা থেকে বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার হাতিয়া দ্বীপ পর্যন্ত দুই দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলে বড় ধরনের ছোবল মারবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়বে পৃথিবীর বৃহত্তর ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন।

কেননা, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করেই মূল তাণ্ডব চালাবে আম্পান। গত কয়েক বছরে সিডর, আইলা, বুলবুল ও ফণীর তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত এই বনের দগদগে ঘা এখনও শুকায়নি।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় এবং জনগণের জানমাল রক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত কাজ মনিটরিং করছেন তিনি। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের সবধরনের পণ্য ওঠানামা মঙ্গলবারই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জাহাজগুলো পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বহির্নোঙ্গরে। দুর্গতদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য খোলা হয়েছে ১২ হাজারের বেশি আশ্রয় কেন্দ্র। আশ্রয় কেন্দ্রে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে সাধারণ আশ্রয় নেয়া মানুষের জন্য ইফতারসহ রাতের খাবার এবং সেহরীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আম্পান মোকাবেলায় মোতায়েন করা হয়েছে যুদ্ধজাহাজ ও ল্যান্ডিং ক্রাফট।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মঙ্গলবার থেকে পড়েছে দেশের উপকূলীয় বিভিন্ন জেলা এবং ঢাকাসহ মধ্যাঞ্চলে।

কখনো ঝিরিঝিরি আবার কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। শেষরাত থেকেই বইছে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া। তা ক্রমশ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। রাত দেড়টায় এই রিপোর্ট লেখাকালে জানা যায়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর (বিএমডি) উন্মত্ত আম্পানের প্রভাবে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে।

আর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে জারি করা হয়েছে ৬ নম্বর বিপদসংকেত। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, বুধবার সকাল থেকে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি থাকবে।

বুয়েটের পানি ও বন্যাব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ২১ বছর পর বঙ্গোপসাগরে সুপারঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলো। বর্তমান শতাব্দীর প্রথম সুপারঘূর্ণিঝড় হচ্ছে আম্পান। এরআগে ১৯৯৯ সালে উড়িষ্যায় আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়টি ছিল ‘সুপারসাইক্লোন’।

তিনি মার্কিন যৌথ টাইফুন সতর্কতা কেন্দ্র ও ফিলিপাইনভিত্তিক জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের (জেটিডব্লিউসি) বরাত দিয়ে বলেন. এটিকে বঙ্গোপসাগরের রেকর্ড করা ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবেও চিহ্নিত করা যায়। এরআগে ১৯৭০ সালের ভোলাঘূর্ণিঝড়, ১৯৯১ সালের বরিশালঘূর্ণিঝড় এবং ২০০৭ সালের সিডরকে ভয়ঙ্কর হিসেবে মানুষ স্মরণ করে। কিন্তু সেগুলোর সর্বোচ্চ গতি ছিল ২২০ থেকে ২৪০ কিলোমিটার। আর আম্পান বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল।

এটি আটলান্টিক মহাসাগরের হ্যারিকেন ক্যাটাগরি-৪ এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের সুপার টাইফুনের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তবে বর্তমানে এর শক্তি কমতির দিকে। আঘাত হানারসময়ে এটি ক্যাটাগরি-৩ পর্যায়ের ‘অতিপ্রবল’ ঘূর্ণিঝড় রূপে থাকতে পারে।

দেশি বিদেশি আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে আম্পান ২৪১ কিলোমিটার গতির বাতাসের বেগ নিয়ে উড়িষ্যা উপকূলের দিকে এগোচ্ছিল। রাত ১টায় তা আরও কমে ২২৫ থেকে ২৩৫ কিলোমিটার হয়েছে। ২২১ কিলোমিটারের উপরে বাতাসের গতি হলে সেটিকে সর্বোচ্চ মাত্রার বা ক্যাটাগরি-৫ পর্যায়ের ‘সুপার’ ঘূর্ণিঝড় বলা হয়। অর্থাৎ, সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আম্পান সুপার ঘূর্ণিঝড়রূপেই আছে।

আম্পান সঙ্গে নিয়ে আসছে জলোচ্ছ্বাস, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং প্রচণ্ড ঝড়োহাওয়া। ঘূর্ণিঝড়ের তীব্র থেকে অতি তীব্র ঝড়ো হাওয়া চলারপথে লণ্ডভণ্ড করে যায় জনপদ। ২২ মে অমাবশ্যা থাকায় আম্পানের সঙ্গে ৫ থেকে ১০ ফুট জলোচ্ছ্বাসও হতে পারে। আম্পান বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই শতাব্দীর প্রথম ‘সুপারসাইক্লোন’। এরআগের দানবীয় সিডরও সাগরে থাকাকালে ‘সুপারঘূর্ণিঝড়’ আকারে ছিল না।

সেটি ছিল অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়রূপে। যদিও সিডর-পরবর্তী সময়ে এর সর্বোচ্চ ২২৩ কিলোমিটার ঝড়ো হাওয়ার রেকর্ড পাওয়া যায়। তবে আম্পান উপকূলের যত কাছে আসবে, এর শক্তি তত কমতে পড়তে পারে। সেই ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত আম্পান ‘অতিপ্রবল’ বা ‘প্রবল’ ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আঘাত হানতে পারে।

সন্ধ্যায় উপকূলে আঘাত হানার সময়ে এর বাতাসের গতি ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকতে পারে। সেটি ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে সমুদ্র থেকে যখন স্থলভাগে আম্পান আছড়ে পড়বে তার গতি থাকবে প্রবল। এর আগে নিম্নচাপ চাপ থেকে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর আম্পানের গতিমুখ ছিল উত্তর-পশ্চিম দিকে।

আম্পানের প্রভাবে ইতিমধ্যে অস্থির হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। মঙ্গলবার দুপুর থেকেই উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের আকাশ হালকা-ধুসর মেঘে ছেয়ে যায়। শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। ঘূর্ণিঝড়ের ভয়ঙ্কর রূপের কারণে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার বুলেটিনে আবহাওয়া বিভাগ (বিএমডি) মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর মহাবিপদ এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৬ নম্বর বিপদসংকেত জারি করেছিল। পরে বিকাল ৩টার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আম্পানের শক্তি ক্রমান্বয়ে কমে এলে ‘মহাবিপদ’ সংকেত নামিয়ে শুধু ‘বিপদ’ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয় মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে।

ভারতীয় আবহাওয়া সংস্থা (আইএমডি) এবং জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের (জেটিডব্লিউসি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিনের বেলায় আম্পানের ঘন্টায় গতি ছিল ১২ থেকে ১৬ কিলোমিটার। এটি যতই উপকূলের কাছে পৌছাতে থাকে, ততই গতি এবং শক্তি কমতে থাকে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঝড়ের অগ্রবর্তী অংশ প্রথম পৌছায় ওডিশা উপকূলে।

পরে সেটি ডানদিনে বা উত্তরপূর্ব দিকে বেকে ধেয়ে যায় পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে। উপকূলের কাছে আসার আগেই এর গতি আরও কমে যায়। কম্পিউটারের মডেল বিশ্লেষণ করে আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, আজ দুপুর বা বিকেলের দিকে পশ্চিমবঙ্গে এবং বিকাল বা সন্ধ্যায় বাংলাদেশের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে আম্পান।

আর বুয়েটের পানি ও বন্যাব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, আছড়ে পড়ার সময় আম্পানের শক্তি কিছুটা কমে তা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তখন ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬৫ থেকে ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এই মাত্রার ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় ‘অতিপ্রবল’ ঘূর্ণিঝড়।

তিনি বলেন, মনে হচ্ছে, সিডরের মতই এবারও সুন্দরবনের কারণে আমরা বেঁচে যাচ্ছি। ঝড়ের মূল অংশটি সুন্দরবনের ভেতরে উঠতে পারে। এতে জানমালের বড়ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে পারি। তবে ঝড়ের ডানে বাতাসের গতি বেশি থাকে। সেটাই পড়েছে বাংলাদেশ অংশে।

তাই ঝড়ো হাওয়ার কারণে বাগের হাট থেকে শুরু করে নোয়াখালী পর্যন্ত উপকূলীয় জেলাগুলো বড় ঝুঁকিতে আছে। কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেঙে পড়তে পারে। ক্ষতি হবে বিভিন্নধরনের ফসলের। মহামারীর প্রকোপ প্রতিরোধে আশ্রয় কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এটা বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জে জয়লাভ করা জরুরি।

এদিকে বিএমডি মঙ্গলবার রাত ১২টার ২৯ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সুপার সাইক্লোন আম্পানের শক্তি কিছুটা কমেছে। এটি ওই সময়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি রাত ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরও উত্তর/উত্তর-পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে সন্ধ্যায় সুন্দরবনের নিকট দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ আছে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭নম্বর বিপদসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর জেলা ও এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ এবং চরসমূহও ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং এসব হেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতেও ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বিএমডি ১৪টি জেলায় প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া ও জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ এবং চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-১০ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম জেলায় এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০-১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ঘূর্ণিঝড়ের ৫টি ক্যাটাগরি আছে। পঞ্চম বা সবচেয়ে ভয়ংকর রূপটির নাম ‘সুপার সাইক্লোন’। বাতাসের গতি যখন ঘণ্টায় ২২১ কিলোমিটারের উপরে থাকে তখন সেটিকে সুপার সাইক্লোন বলে। চার নম্বর ক্যাটাগরি হচ্ছে এক্সট্রিম সিভিয়ার সাইক্লোন। এর বাতাসের গতি থাকে ১৬৬-২২০ কিলোমিটার। তৃতীয় পর্যায়েরটির নাম ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোন। এর বাতাসের গতি থাকে ১১৮-১৬৫ কিলোমিটার। দ্বিতীয় ক্যাটাগরির নাম সিভিয়ার সাইক্লোন। এর বাতাসের গতি ৮৯-১১৭ কিলোমিটার।

আর প্রথম ক্যাটাগরির ঘূণিঝড়ে বাতাসের গতি থাকে ৬৫-৮৮ কিলোমিটার। সাগরে আম্পানের বাতাসের গতি ২৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছিল। এর গতি এখন কমতির দিকে। আঘাত হানারসময়ে এটি ১৬৫ থেকে ১৮৫ কিলোমিটার হতে পারে। সেই হিসাবে এটি ক্যাটাগরি-৩ বা অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়।

পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী : বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসা সুপার সাইক্লোন ‘অম্পান’ সৃষ্ট সর্বশেষ দুর্যোগ পরিস্থিতি সর্বক্ষণ মনিটরিং করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বক্ষণ দুর্যোগ পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন। তিনি সকলকেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়ার জন্য ইতোপূর্বে নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশে ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে ৩ লক্ষাধিক মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। রাতের মধ্যেই সকলকে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্কুল-কলেজ আশ্রয় কেন্দ্র করার নির্দেশ : সুপার ঘূর্ণিঝড়’ আম্পান মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকার স্কুল-কলেজগুলো জনসাধারণের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) দাফতরিক আদেশ জারি করেছে।

এতে মাউশি বলেছে, আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা সংগ্রহ করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। এরপর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সমন্বিত তালিকা মাউশির নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাঠাবেন। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে উপদ্রুত এলাকায় যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে ঘূণিঝড়পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই তথ্য পাঠাতে হবে।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/২০মে, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর