thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭,  ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, চরাঞ্চলে বন্যা

২০২০ জুন ২৬ ১৫:৩০:৫০
বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, চরাঞ্চলে বন্যা

নীলফামারী প্রতিনিধি: উজানের ঢল ও কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বয়েছে। ফলে লালমনিরহাট ও নীলফামারীর তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।

শুক্রবার সকাল ৬টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার) ওপরে। যা, স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। পরে অবশ্য সকাল ৯ টার দিকে পানি প্রবাহ কিছুটা কমে ৫২ দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটার হয়। তবে এটাও বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর। এর আগে গত শনিবার দুপুরেও (২০ জুন) তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারী অঞ্চলে গত ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৪০ মিলিলিটার। এতে বেড়ে যায় তিস্তার পানি। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকাল ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও শুক্রবার ভোররাতের পর থেকে তা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা ভোর ছয়টার দিকে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপরে চলে যায়।

এদিকে টানা দুই দিনের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তাসহ জেলার সকল নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। পানি বাড়ায় আমন ধানের বীজতলার পাশাপাশি বাদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে বিভিন্ন পুকুরের মাছ বের হওয়ার ফলে মৎস্য চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তার চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। উজানের ঢল সামাল দিতে খুলে দেয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট। তিস্তার বন্যায় বসতঘরে পানি ঢুকছে। চরাঞ্চলে ১০ হাজার পরিবার ইতোমধ্যে পানিবন্দী হয়ে গেছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন।

ফলে এসব মানুষ মাচাং বানিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছেনি জানাচ্ছেন অনেকে।

ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানান, তিস্তার বন্যায় ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশাচাঁপানী, ঝুনাগাছচাঁপানী, ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৌলমারী, কৈমারীসহ ১০ ইউনিয়নের তিস্তা অববাহিকার ১৫টি চর ও গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ওই সকল এলাকায় বসবাসকারীদের নিরপদে উঁচু স্থানে সরে থাকার জন্য বলা হয়েছে। তিস্তার চরাঞ্চলের বাদাম ক্ষেত ও আমন ধানের বীজতলা হাঁটু থেকে কোমড় পানিতে তলিয়ে রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার অধিকাংশ নিচু এলাকায় বন্যা দেয়া দিয়েছে।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ বৃহস্পতিবার রাত থেকে বাড়তে থাকে। শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিন ঘণ্টা পর ৯টার দিকে কমে গিয়ে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় বিকালের মধ্যে তিস্তার পানি প্রবাহ কমে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/২৬জুন, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর

জেলার খবর - এর সব খবর