thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭,  ১৬ জিলকদ  ১৪৪১

‘আমি জানালা দিয়ে বের হইছি, দুই মামা বের হতে পারে নাই’

২০২০ জুন ২৯ ১৩:৫৯:২৪
‘আমি জানালা দিয়ে বের হইছি, দুই মামা বের হতে পারে নাই’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: ‘ঘাটে ভেড়ার জন্য আমাদের লঞ্চ সোজা আসছিল। অন্য একটা লঞ্চ তেছড়াভাবে (বাঁকা) রওনা দিছে। তেছড়াভাবে রওনা দেয়াতে ওই লঞ্চটা বাড়ি দিছে আমাদের লঞ্চের মাঝে। বাড়ি দেয়ার সাথে সাথে লঞ্চটা কাইত হয়ে ডুবে গেছে। তলায় যেতে ১০ সেকেন্ডও সময় নেয় নাই। আমি কেবিনে ছিলাম। গ্লাস খুলে আমি বের হইছি। ভেতরে আমার আপন দুই মামা ছিলেন। তারা তো বের হতে পারেন নাই। তাদের খোঁজ করছি।’

সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটের মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

ডুবে যাওয়া এই লঞ্চ থেকে বেঁচে ফেরা মো. মাসুদ এভাবেই লঞ্চডুবি ও নিজের দুই মামা নিখোঁজের বর্ণনা দিচ্ছিলেন। তার নিখোঁজ থাকা দুই মামা হলেন আফজাল শেখ ও বাচ্চু শেখ।

দুই মামার খোঁজে সদরঘাটের জেটিতে অবস্থান করা মো. মাসুদ গণমাধ্যমকে জানান, রাজধানীর ইসলামপুরের গুলশানআরা সিটিতে কাপড়ের ব্যবসা করেন তিনি। প্রতিদিন তিনি সকালে মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে কাপড়ের দোকান করেন। গতকাল রোববার ময়মনসিংহ থেকে তার দুই মামা তাদের মুন্সিগঞ্জের বাসায় বেড়াতে যান। তাদের নিয়ে আজ সকালে লঞ্চের একটি কেবিনে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। কিন্তু লঞ্চ পাড়ে ভেড়ার আগে মুহূর্তে লঞ্চ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

মাসুদ আরো বলেন, দুর্ঘটনার পর লঞ্চে থাকা প্রায় ৫০ জনের মতো যাত্রী আমরা সাঁতরে উঠতে পারছি। বাকি যাত্রী কেউ উঠতে পারে নাই। তারা লঞ্চের ভেতরেই ছিল। আমরা প্রায় ১৫০ জনের মতো লোক ছিলাম।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/২৯জুন, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর