thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭,  ১৯ জিলহজ ১৪৪১

সাড়ে ১৫ হাজার টেস্টে প্রায় ৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে জেকেজি

২০২০ জুলাই ০৯ ২০:১০:০৯
সাড়ে ১৫ হাজার টেস্টে প্রায় ৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে জেকেজি

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: ফলাফল দেয়া হতো রোগীর বাহ্যিক উপসর্গ দেখে। নমুনা সংগ্রহের সময় ছয় সদস্যের দলের দুই সদস্য রোগীর উপসর্গ দেখে রিপোর্ট পজেটিভ হবে না নেগেটিভ তা ঠিক করে দিতেন। বাকি সদস্যদের কাজও ছিলো ভাগ করা। প্রতারণা হলেও তা যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবেই করা ছিলো জোবেদা খাতুন সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার (জেকেজি হেলথ কেয়ার) উদ্দেশ্য।

২৩ জুন (মঙ্গলবার) জেকেজি হেলথ কেয়ারের সিইও আরিফুল হক চৌধুরীসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। এরপর একে একে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। জানা যায়, জেকেজি হেলথ কেয়ারের কোনো ল্যাব বা পরীক্ষাগার ছিলো না। কম্পিউটারে ফলাফল লিখে ই-মেইলে তা রোগীর কাছে পাঠিয়ে দিতেন।

সূত্রমতে, জেকেজি নমুনা সংগ্রহ করে কোনো পরীক্ষা না করেই প্রতিষ্ঠানটি ১৫ হাজার ৪৬০ জনকে করোনার টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করেছে। একটি ল্যাপটপ থেকে গুলশানে তাদের অফিসের ১৫ তলার ফ্লোর থেকে এই মনগড়া করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরি করে হাজার হাজার মানুষের মেইলে পাঠায় তারা। তাদের কার্যালয় থেকে জব্দ ল্যাপটপ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর করোনা টেস্ট জালিয়াতির এমন চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে।

জানা যায়, জেকেজির টেস্টে জনপ্রতি নেয়া হতো সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা। বিদেশি নাগরিকদের কাছে জনপ্রতি এক শ ডলার। এ হিসাবে করোনার টেস্ট বাণিজ্য করে জেকেজি হাতিয়ে নিয়েছে সাত কোটি ৭০ লাখ টাকা। করোনা মহামারিতে মানুষের জীবন নিয়ে এমন নির্মম বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত জেকেজির চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও তার স্বামী প্রতারক আরিফ চৌধুরী।

জেকেজির কেলেঙ্কারিতে আরিফসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও সাবরিনা পলাতক। করোনা হাসপাতাল হিসেবে রিজেন্টের অপকর্ম ঘিরে যখন নানামুখী আলোচনা তখনই জেকেজির চারটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে মিলল এমন তথ্য। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আরিফুল হক চৌধুরী গ্রেপ্তারের পর থেকেই অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী জেকেজির সার্বিক কাজে শুরু থেকে তাকে সহায়তা করে আসছিলেন। সাবরিনা নিজে জানিয়েছেন তিনি তিতুমীরের স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন যারা কিনা গ্রেপ্তার আতঙ্কে কলেজ ছেড়ে পালিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে ভুয়া পরীক্ষা সনদ দিতেন এসব কথিত স্বেচ্ছাসেবীরাও। আর তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন সাবরিনা আরিফ। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে প্রশাসন।

এ বিষয়ে ২৫ জুন বনানী থানার ওসি নুরে আজম মিয়া বলেন, জেকেজির কর্মীরা পালিয়ে গিয়েছে বলে আমরা শুনেছি। তবে, তারা ভুয়া রিপোর্ট দিতো কিনা সে বিষয়টি আমাদের জানা নেই। বিস্তারিত তদন্তের পর জানা যাবে।

২৩ জুন (মঙ্গলবার) জেকেজি হেলথ কেয়ারের সিইও আরিফুল হক চৌধুরীসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। তখন জেকেজি হেলথ কেয়ারের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে আরিফুল চৌধুরীর স্ত্রী ডা. সাবরিনা আরিফের নাম এলেও তিনি দাবি করছেন, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত দুই মাস ধরে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, আমাকে জড়িত করা হবে কেনো? আমি তো অনেকদিন ধরেই এর সাথে নেই।

তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানের শুরুর দিক থেকেই জড়িত ছিলেন ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। তিতুমীর কলেজে নিজেদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ব্যবহারের সময় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় নিজের এই পরিচয় প্রকাশ করেন তিনি। এই প্রতিষ্ঠানের এমডি আরিফুল চৌধুরী তার স্বামী। অনুসন্ধানে জানা যায়, জেকেজি হেলথকেয়ারের অনুমতি পাওয়া থেকে শুরু করে এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডেও জড়িত এই চিকিৎসক। এ বিষয়ে খোদ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নানা রকম অভিযোগ করেছেন।

তিতুমীর কলেজের হামলার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ডা. সাবরিনা আরিফ। তিনি তখন গণমাধ্যমেও বক্তব্য দিয়েছিলেন। গভীর রাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে কথিত হামলার বিচার চেয়েছিলেন সাবরিনা। সে ঘটনা ঘটে এ মাসের শুরুর দিকে। তার দাবি তিনি গত দুইমাস ধরে এর সাথে সংশ্লিষ্ট নেই।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই কার্ডিয়াক সার্জন ও ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর উদ্যোগেই মূলত জেকেজি হেলথকেয়ার বুথ স্থাপনের কাজ পায়। তবে পরবর্তীতে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আরিফুল চৌধুরী আপত্তি জানালে সেখানেই শুরু হয় টানাপোড়েন। আর এসব বিষয়ে খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেই একাধিক অভিযোগ যায়।

কিন্তু সরকারি চাকরি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, আমরা যারা সরকারি হাসপাতালে চাকরি করি তারা কোনোভাবেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো পদে থাকতে পারি না। কিন্তু হাসপাতালের একজন রেজিস্ট্রারড চিকিৎসক হয়ে ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী কিভাবে এই পদের পরিচয় দিতেন বা চেয়ারম্যান পদে থাকেন তা বোধগম্য না।

ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর কাছে তিতুমীর কলেজের হামলার সময় তিনি সেখানে ছিলেন কিন্তু দুইমাস ধরে নেই কেন দাবি করছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিতুমীরের ঘটনার পর থেকে আমি আর এর সঙ্গে নেই। আমার স্বামীর এর অন্যতম কর্ণধর হলে আমি এর সাথে নেই। আমি যে এর সাথে নেই সেটা সংশ্লিষ্ট অনেকেই জানেন। আমি অনেককে এটা জানিয়ে রেখেছি। আমি দুইমাস ধরে আমার বাবার বাসায় অবস্থান করছি। আমি আসলে দুইমাস ধরেই নাই। কিন্তু তিতুমীরে যখন ঘটনাটা ঘটে আমি সেখানে যাই। কারণ এই স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে আমি ট্রেনিং দিয়েছিলাম। তাই তাদের সাথে একটা ঘটনা শুনতে পেরে আমি ছুটে গিয়েছিলাম। কিন্তু তখনও আমি আমার বাবার বাসায় ছিলাম।

জাল সনদের বিষয়ে কিছু জানেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আসলে স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে সেবা দিতাম। স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ শেখানো বা পড়া বা প্লানিং করে যে, কী করবো- স্যারদের সাথে আলোচনা করা কীভাবে কী করবো- এগুলো আমি করতাম। ওদের ম্যানেজমেন্টের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কাগজ কলমে আমি কোথাও নেই। কোনো মালিকানাতেও আমি নেই। কিছুতেই আমি নেই। আমি এমনি খাটতাম।

সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা
তিতুমীর কলেজের কর্মীদের পর জোবাদা খাতুন হেলথ কেয়ারের কর্মীরা হামলা চালানোর পর সে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গত ২ জুন দুই সংবাদকর্মীর ওপর হামলা চালায় জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের স্বাস্থ্যকর্মীরা। আহত সংবাদকর্মীরা সে সময় বলেন, প্রথমে আমরা তিতুমীর কলেজ কর্মচারীদের কাছে বিস্তারিত জেনে অধ্যক্ষ আশরাফ হোসেনে সাথে কথা বলে জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে কথা বলতে যাই। এসময় তারা বরকত মিলনায়তে থাকেন শুনে আমরা ডাকাডাকি করে কারো সাড়া-শব্দ না পেয়ে ভেতরে ঢুকি। এসময় হঠাৎই প্রায় ৫০ জনের মতো লোক এসে আমাদের ধাক্কা এবং কিল ঘুষি দিতে থাকে। তাদেরকে সংবাদকর্মী পরিচয় দিলেও তারা বলেন, তোরা কিসের সংবাদিক, তোদের আসতে বলছে কে, দেইখা নিমু। সবাইকে পিটামু।

সে সময় এ বিষয়ে সাবরিনা আরিফ বলেছিন, তারা (সংবাদকর্মীরা) আমাদের জানিয়ে যাননি। তাই তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এছাড়া কেউ যদি সংবাদ সংগ্রহ করতে যান তাহলে আমাদের জানিয়ে যাবে। হঠাৎ করেই যাবে না। আমাকে বলে যদি কেউ দশবারও আসে তাতে সমস্যা নেই।

হানিমুন ট্রিপ
করোনার এই ভুয়া প্রতিবেদন তৈরির বিষয়টি জেকেজির প্রায় সব কর্মীর কাছে ওপেন সিক্রেট ছিল। তারা যাতে বিষয়টি বাইরে প্রকাশ করে না দেন সেজন্য ভিন্ন কৌশল হাতে নেন ডা. সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফ। সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করার পর একদিন আনন্দ ট্রিপের নামে ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে একজন নারী একজন পুরুষ কর্মীকে আলাদাভাবে পাঠানো হতো। এটার নাম দিয়েছিল ‘হানিমুন ট্রিপ’। এমনকি মহাখালীতে তিতুমীর কলেজের মাঠে জেকেজি যে বুথ স্থাপন করেছিল সেখানে প্রায় প্রতি রাতে মদের পার্টি বসত। জেকেজির কর্মীরা রাতভর সেখানে নাচানাচি করতেন। এ নিয়ে তিতুমীর কলেজের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারীদের সঙ্গে জেকেজির কর্মীদের মারামারির ঘটনা ঘটে।

ভুক্তোভোগীদের অভিযোগ
রাজধানী মিরপুরের এক ভুক্তোভোগী নাম প্রকাশ না করা শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তিনি। তার বৃদ্ধ মায়ের পর সহধর্মিনীরও জ্বর আসে। একইসঙ্গে ঘ্রাণশক্তি লোপ পায়। নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের আশঙ্কায় তিনি নমুনা পরীক্ষা করাতে চান। বৃদ্ধ মা’কে নিয়ে বুথে যাওয়া সম্ভব হবে না বলে বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহ করানোর বিষয়ে খোঁজখবর করেন। জানতে পারেন, জোবেদা খাতুন সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা (জেকেজি হেলথকেয়ার) নামের একটি সংগঠন সরকারের অনুমতি নিয়ে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।

পারভেজ যোগাযোগ করে জেকেজি হেলথকেয়ারের সঙ্গে। গত ৭ জুন তাদের পক্ষ থেকে পারভেজের বাসায় নমুনা সংগ্রহের জন্য লোক যায়। দু’জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১০ হাজার টাকা বিল নেন তারা। তবে এর জন্য কোনো রশিদ দেননি। তারা জানান, তাদের ওয়েবসাইটে তিন দিনের মধ্যে ফল দেয়া হবে। এসএমএস দিয়েও সিরিয়াল নম্বর ও কিট নম্বর জানিয়ে ফল জানার জন্য ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেয়া হয় সেই এসএমএসে। তবে তিন দিন নয়, পরীক্ষার ফল পাওয়া যায় ১৫ জুন। তারা দু’জনই পজিটিভ আসেন। তবে ফল পাওয়ার আগেই পারভেজ আহমেদের মা প্রায় সুস্থ, স্ত্রীও সুস্থও হয়ে উঠছেন।

পারভেজ আহমেদ বলেন, জেকেজি তো সরকারের অনুমতি নিয়ে বুথে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে থাকে। কিন্তু তাও যখন তারা বাসায় এসে নমুনা নেবেন বলে জানায়, কিছুটা অবাক হয়েছি। ভেবেছিলাম বিনামূল্যেই পরীক্ষা হবে। পরে টাকা চাইলেও পরীক্ষা করানো দরকার বলে সেটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন করিনি।

কেবল পারভেজ নয়, এমন আরও কয়েকজন একই ধরনের অভিযোগ করেন। কেউ কেউ জানান, পরীক্ষার ফল জানার জন্যও তাদের কাছ থেকে বিকাশে ৫০০ টাকা করে চাওয়া হয়েছে।

নেগেটিভ-পজিটিভ
জানা গেছে, জেকেজির মাঠকর্মীরা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের স্যাম্পল সংগ্রহ করতেন। ওই সময় রোগীদের কাছে ১০টি প্রশ্ন সংবলিত একটি কাগজ দেওয়া হতো। সেখানে লেখা থাকত ক'দিন ধরে জ্বর, সম্প্রতি বাড়িতে কোনো মেহমান এসেছেন কিনা, শরীর ব্যথা বা ঠোঁট শুকিয়ে যাচ্ছে কিনা, পাতলা পায়খানা হচ্ছে কিনা। ‘হ্যাঁ’ আর ‘না’ সূচক প্রশ্নশিট তারা পূরণ করে নিয়ে আসতেন। এরপর গুলশানের কার্যালয়ে বসেই ওই প্রশ্নশিট ধরে মনগড়া নেগেটিভ-পজিটিভ করোনা টেস্টের রিপোর্ট তৈরি করে জেকেজি। ১০টি প্রশ্নের মধ্যে যিনি পাঁচটির বেশিতে করোনার উপসর্গ রয়েছে এমন টিক চিহ্ন দিয়েছেন, তাকে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই পজিটিভ রিপোর্ট দেওয়া হতো। অন্যদের দেওয়া হতো নেগেটিভ রিপোর্ট।

বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে জেকেজি ৪৪ বুথ
আইইডিসিআরের অনুমতি সাপেক্ষে জেকেজি বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পৃথক ছয়টি স্থানে ৪৪টি বুথ স্থাপন করেছিল। এসব এলাকা থেকে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করত জেকেজি। শর্ত ছিল, সরকার–নির্ধারিত করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবরেটরিতে নমুনা পাঠাতে হবে। জেকেজি হেলথকেয়ার, ওভাল গ্রুপের একটি অঙ্গসংগঠন।

তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মো. মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, বিনামূল্যে কার্যক্রম শুরু করলেও একপর্যায়ে জেকেজি অর্থের সংকুলান করতে পারছিল না। তখন তারা বুকিং বিডি ও হেলথকেয়ার নামে আরও দুটি প্ল্যাটফর্ম চালু করে। এ দুটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করে তারা।

মাহমুদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হুমায়ুন ও তানজীনা বলেছেন, সংগ্রহীত নমুনা তারা ফেলে দিতেন। এরপর নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী আইইডিসিআরের প্যাডে ফল লিখে তা মেইল করে পাঠিয়ে দিতেন।

আটকরা জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত তারা ৩৭ জনের করোনা নমুনা সংগ্রহ করে মনগড়া রিপোর্ট দিয়েছেন। বাসায় গিয়ে স্যাম্পল সংগ্রহ করতে জনপ্রতি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা তারা নিয়েছেন।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/০৯জুলাই, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

SMS Alert

অপরাধ ও আইন এর সর্বশেষ খবর

অপরাধ ও আইন - এর সব খবর