thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭,  ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ভাসানচর যেতে জাহাজে উঠছেন রোহিঙ্গারা

২০২০ ডিসেম্বর ০৪ ১১:১৪:৫২
ভাসানচর যেতে জাহাজে উঠছেন রোহিঙ্গারা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার জন্য জাহাজে তোলা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। নৌবাহিনীর সদস্যরা তিনটি ঘাট দিয়ে রোহিঙ্গাদেরকে জাহাজে তুলছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ২০টি বাসে করে তাদেরকে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে আনা হয়।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে এসব রোহিঙ্গাকে জাহাজে তোলার কার্যক্রম শুরু হয়। তবে রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাহাজগুলো কখন ভাসানচরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে তা জানা যায়নি।

কক্সবাজারের উখিয়া থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে নিতে এসব রোহিঙ্গাদের ২০টি বাসে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের রাখা হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী রেডি রেসপন্স বাথ ও বিএএফ শাহীন কলেজ মাঠে অস্থায়ী ‘ট্রান্সজিট ক্যাম্পে’।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে ছেড়ে আসা এসব বাসকে নিরাপত্তা দিয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত নিয়ে এসেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম থেকে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের তত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের জাহাজে করে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পতেঙ্গায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী রেডি রেসপন্স বাথ ও বিএএফ শাহীন কলেজ মাঠ এলাকায় দেখা গেছে, তাবু টাঙিয়ে অস্থায়ী ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ শরণার্থী শিবির থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ২০টি বাস রওয়ানা দেয়। নিত্য ব্যবহার্য মালামাল নিয়ে সকালে তারা গাড়িতে করে ট্রানজিট পয়েন্টে যান বলে জানায় স্থানীয়রা।

বিভিন্ন ক্যাম্পের মাঝিরা জানান, অনেক রোহিঙ্গা পরিবার স্বেচ্ছায় ভাসানচর যেতে উদ্যোগী হচ্ছে। উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যেতে উখিয়া কলেজ মাঠে অস্থায়ী ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। মাঠে একাধিক কাপড়ের প্যান্ডেল ও বুথ তৈরি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যার পর বেশ কিছু রোহিঙ্গা ট্রানজিট পয়েন্টে চলে আসেন। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে আসা শুরু করেন অন্যরাও। আগে থেকে প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থা ও খাদ্যসামগ্রী মজুত করা হয়। উখিয়া কলেজ মাঠ থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু হয় বেলা সোয়া ১১টা হতে।

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে সেখান থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে নৌবাহিনীর ১৪টি জাহাজ। ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের জন্য সেখানে মজুত করা হয়েছে প্রায় ৭০ টন খাদ্যসামগ্রী। প্রথম দুই মাস তাদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হবে। এরপর নিজ নিজ বাসস্থানেই তারা রান্না করতে পারবেন।

ইতিপূর্বে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর কার্যক্রম ঘিরে ভাসানচর দ্বীপ ঘুরে আসে ২২টি এনজিওর প্রতিনিধি দল। সরকারের পরিকল্পিত আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আন্তর্জাতিক একটি এনজিওর কর্মকর্তা বলেন, বারবার অভিযোগ উঠেছে এনজিওদের প্ররোচনায় রোহিঙ্গারা ভাসানচর যাচ্ছে না। তাই এবারের যাত্রায় কোনো এনজিও রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। তবে বেশ কিছু এনজিও সেখানে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

সূত্র আরো জানায়, উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ে ঠাসাঠাসির বসবাস ছেড়ে ভাসানচরে যেতে ৩ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা রাজি হয়েছেন। তবে ৪ থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত।

ভাসানচরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের অনেকে জানান, তারা ভাসানচর পরিদর্শন শেষে ফিরে আসা রোহিঙ্গা নেতাদের মুখে সেখানকার বর্ণনা শুনে সেখানে যেতে রাজি হয়েছেন। তাদের মতে পাহাড়ের ঘিঞ্জি বস্তিতে বসবাসের চেয়ে ভাসানচর অনেক নিরাপদ হবে। এছাড়া ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য নির্মিত অবকাঠামো অনেক বেশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত বলে মনে হয়েছে তাদের।

দীর্ঘ দিন ধরে প্রচার পেয়ে আসছে যে, এক লাখ রোহিঙ্গা ভাসানচর যাচ্ছেন। অবশেষে এই যাত্রা শুরু হওয়ায় উখিয়া-টেকনাফের সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করছেন। নোয়াখালীর হাতিয়ায় সাগরের মধ্যে ভেসে থাকা ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বসবাসের যে ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা দেখতে গত সেপ্টেম্বরে দুই নারীসহ ৪০ রোহিঙ্গা নেতাকে সেখানে নিয়ে যায় সরকার। তারা ভাসানচরের আবাসন ব্যবস্থা দেখে মুগ্ধ হন।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/০৪ডিসেম্বর, ২০২০)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর