thereport24.com
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২, ৬ মাঘ ১৪২৮,  ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চর-প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবশিষ্ট মানুষের বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিতের নির্দেশ

২০২১ নভেম্বর ২৭ ১১:২২:০৭
চর-প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবশিষ্ট মানুষের বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিতের নির্দেশ

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক: এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে থাকা চর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে দ্রুত বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য প্রয়োজনে নতুন প্রকল্প নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের কয়েক হাজার পরিবার এখনো বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে থাকার বিষয়টি তার নজরে এলে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তার নির্দেশের পর দ্রুততম সময়ে চর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবশিষ্ট মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে কাজ শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া জানান, প্রধানমন্ত্রী চর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে দ্রুত বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোনো বাড়ি বা পরিবার অন্ধকারে থাকবে না। তার নির্দেশনা অনুযায়ী শতভাগ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনার লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিড এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মাত্র ০.২৫ শতাংশ বাদে সব মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে সরকার। শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য পূরণের পথে এখনও বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে থাকা মানুষের জন্য দ্রুত বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান।

পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) তথ্য অনুযায়ী, 'বাংলাদেশের বিদ্যুৎবিহীন প্রত্যন্ত এবং চর এলাকায় সৌর শক্তির উন্নয়ন' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রংপুর জেলার রংপুর সদর ও গঙ্গাচড়া উপজেলা এবং লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় মোট ১২ হাজার ১৭০টি সোলার হোম সিস্টেম বসানোর কথা ছিল। সেখানে ৯ হাজার ৮৪৫টি স্থাপন করতে সক্ষম হয় বাস্তবায়নকারী সংস্থা পিডিবিএফ।

গঙ্গাচড়ায় সর্বশেষ নির্বাচিত ৪ হাজার ৫০৪ জনের মধ্য থেকে কন্ট্রিবিউশনের অর্থ ও এনআইডি জমাসহ অন্যান্য শর্ত পূরণকারী ৭১২ জনকে গত জুনে সোলার হোম সিস্টেম বিতরণ করা হয়। ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও তালিকাভুক্ত ৯০ পরিবারের মধ্যে সোলার হোম সিস্টেম বিতরণ করতে পারেনি পিডিবিএফ। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে এলে তার নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করে সেই ৯০ জনের বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম বসানো হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে থাকা অন্য পরিবারগুলোকেও দ্রুত বিদ্যুৎ সুবিধার মধ্যে আনার নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনার নির্দেশে বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে থাকা গঙ্গাচড়া উপজেলার অবশিষ্ট ৩ হাজার ৭০৮ পরিবারকেও দ্রুত বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে এ কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে পিডিবিএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহম্মদ মউদুদউর রশীদ সফদার বলেন, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চরাঞ্চলের ৩ হাজার ৭০৮ পরিবারকে বিদ্যুতের আওতায় আনার জন্য তারা পল্লী বিদ্যুতের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, যেখানে যেখানে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া যাবে, সেখানে তাই দেওয়া হবে। যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে পল্লী বিদ্যুতের লাইন টানা যাবে না, সেখানে সোলার হোম প্যানেল সিস্টেম বসানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। যেসব প্রত্যন্ত এলাকায় গ্রিড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব নয়, সেখানে সোলার হোম প্যানেল সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে সরকার।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে এখন পর্যন্ত ৬২ লাখ হোম সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। এসব সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ২৬৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। নামমাত্র মূল্যে বিতরণ করা এসব সোলার প্যানেল সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে ২ কোটি মানুষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করছে শেখ হাসিনার সরকার। লক্ষ্য অর্জনে এখন পর্যন্ত জাতীয় গ্রিড এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সরকার এখন পর্যন্ত ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এনেছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে দেশে ৪৭ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধা পেত।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট। ২০০৯ সালে সক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াটের। বিদ্যুৎ বিভাগ আরও জানায়, ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮ লাখ। বর্তমানে এ সংখ্যা বেড়ে ৪ কোটি ১৪ লাখে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া ২০০৯ সালে সেচ সংযোগ ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার, বর্তমানে সেচ সংযোগ সংখ্যা ৪ লাখ ৪৬ হাজার। ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাতে সরকার ২৮ হাজার ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

(দ্য রিপোর্ট/আরজেড/২৭ নভেম্বর, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর