thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫,  ৭ মহররম ১৪৪০

‘এলোপাতাড়ি গুলি, বোমা, কখনও কামানের শব্দ’

২০১৪ মার্চ ২৫ ১৯:৪৬:০৬
‘এলোপাতাড়ি গুলি, বোমা, কখনও কামানের শব্দ’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ ও ইকবাল হলের (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) পাশাপাশি পাকিস্তানি হানাদারদের টার্গেটে ছিল ফুলার রোডে শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা। এখানে ২৬ মার্চ সকালে গুলি করে বেশ কয়েকজন শিক্ষককে হত্যা করা হয়।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মমতাজুর রহমান তরফদারের ছেলে খুররম মমতাজ। তার সঙ্গে কথোপকথনে ফুটে ওঠে ফুলার রোডে আবাসিক শিক্ষক পরিবারের ওপর হামলার নির্মমতা।

ভূ-পদার্থবিদ খুররম মমতাজ বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমি কেবল ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়েছি। প্রতিদিনের মতো বিকেলে পাড়ার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খেলাধুলা, হৈ-হুল্লোড় করেছি। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে, এরপর রাত। খেলার সময় আমার বাবা-মায়ের পাশাপাশি অন্যদের বাবা-মা উপস্থিত ছিলেন।’

রাত আনুমানিক ৯টা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আহমদ শরীফ এসে খবর দিলেন, ‘আপনারা সবাই সাবধানে থাকেন। নারীরা আপনারা যে, যার বাসায় নিরাপদে থাকার চেষ্টা করুন। পরিস্থিতি ভালো না। আমার এক আত্মীয় ক্যান্টনমেন্ট থেকে খবর দিয়েছেন, রাতে শহরে আর্মি নামবে।’

‘রাত ১১টার দিকে আহমদ শরীফের বড় ছেলে রিজভী খবর দিতে ছুটে যান ইকবাল হলের (বর্তমান জহুরুল হক হল) দিকে। বাসা থেকে তাকিয়ে দেখি, ছাত্ররা আগে থেকেই হল ছেড়ে নিরাপদে যাওয়া শুরু করেছে।’

‘ঘণ্টাখানেক পরে চতুর্দিক থেকে পাকিস্তানি মিলিটারিরা এসে জহুরুল হক ঘিরে ফেলে। শুরু হয় এলোপাতাড়ি গুলি, কখনও বোমা, কামানের ভারী শব্দ। এভাবে কয়েক ঘণ্টা অবিরাম চলার পরে থেমে থেমে আওয়াজ আসে।’

‘পরদিন সকালে ইকবাল হল থেকে একদল সৈন্য তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে ঢুকে পড়ে ফুলার রোডের আবাসিক এলাকায়। একদল গেল আবাসিক এলাকার ডানে ১২ নম্বর ভবনের দিকে, একদল বামে এবং অন্য দল আমাদের ১৮ নম্বর ভবনের দিকে। আমাদের বিল্ডিংয়ের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে গুলি ছুড়ছেন সৈন্যরা। পরে হানাদাররা এ ভবনের দিকে না এসে অন্যদিকে চলে গেল।’

‘জানালা দিয়ে যতদূর দেখা যায়, ১২ নম্বর ভবনের ওদিক থেকে একজন একজন করে মোট চারটা মৃতদেহ এনে মাঠের মাঝখানে রাখে ওরা। এরই মধ্যে একটি ট্রাক এসে লাশগুলে নিয়ে যায়। এরপরই সৈন্যরা চলে যায়।’

২৬ মার্চ তখনও কারফিউ চলছে। চরম আতঙ্কের মধ্যে কেটে যায় বিকেল ও রাত। পরের দিন কারফিউ কিছু সময়ের জন্য তুলে নেওয়ার খবর আসে বেতারে। কারফিউ তুলে নেওয়ার খবর শুনে আতঙ্কগ্রস্ত মানুষেরা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে শুরু করেন।

(দ্য রিপোর্ট/এনসি/একে/সা/মার্চ ২৫, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে