thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫,  ৭ মহররম ১৪৪০

‘বুট পায়ে অনেক লোকের হাঁটাহাঁটির আওয়াজ কানে আসে’

২০১৪ মার্চ ২৫ ২০:১৪:৩৫
‘বুট পায়ে অনেক লোকের হাঁটাহাঁটির আওয়াজ কানে আসে’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ’৭১-এর ২৫ মার্চ কালরাতে শিশু হওয়ায় মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান রবি মোহন দাস। ভয়াল সে রাতে চোখের সামনে দেখেন জগন্নাথ হল এলাকায় ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারী পরিবারের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ।

জগন্নাথ হলের মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে এক সাক্ষাৎকারে গণসমাধিতে শেষ ঠাঁই পাওয়া প্রিয় মানুষগুলোকে হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন হলটির বর্তমান সিনিয়র অফিস সহকারী রবি মোহন দাস।

তিনি বলেন, ‘হলের মাঠের পাশে কর্মচারীদের জন্য ৫-৬টি টিনের ঘর ছিল। এখানে আমি, বড় ভাই পণীন্দ্র মোহন দাস, বউদি ও ভাতিজা থাকতাম। বাবা রাম বিহারী দাস পিয়ন দায়িত্বে প্রভোস্ট অফিসে থাকতেন।’

‘২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১১টা কী পৌনে ১২টা। আমি তখন পড়ার টেবিলে। হঠাৎ বুট পায়ে অনেক লোকের হাঁটাহাঁটির আওয়াজ কানে আসে। টিনের ঘরের ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি হলের চতুর্দিক অস্ত্রসজ্জিত আর্মি এসে ঘিরে ফেলেছে।’

একটু পরেই চোখে পড়ে সার্চলাইটের আলো। পাকিস্তানি সরকারের সেই ‘অপারেশন সার্চলাইট’। মুহূর্তেই নিভে যায় সার্চলাইটের আলো। এরপর হল এলাকায় শুরু হয় গুলি ও বোমা বর্ষণ। এভাবেই ভোর ৬টা পর্যন্ত চলে মিলিটারিদের অপারেশন।’

‘ফজরের আজানের আগ মুহূর্তে সেনারা আগুন ধরিয়ে দেয় টিনের ঘরগুলোতে। প্রাণ বাঁচতে সবাই পালিয়ে যান, তাদের অগোচরে আমি পেছনে পড়ে যাই। কিছুক্ষণ পরে আর্মি এসে আমাকেসহ মোট ৩০-৩১ জনকে ধরে জগন্নাথ হলের মাঠে নিয়ে যায়। আমি ও আরেকটি শিশুকে এক পাশে সরিয়ে রাখে আর্মিরা।

তাদের মধ্যে প্রথম ১৫ জনকে হলের কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, মাঠ, রাস্তা, পুকুর পাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লাশগুলো টানার কাজে লাগায়। এরপরে তাদেরও লাইনে দাঁড় করে হত্যা করা হয়। বাকিদের দিয়ে তাদের লাশগুলো এক জায়গায় আনা হয়। সর্বশেষে বাকিদেরও একইভাবে হত্যা করে হানাদাররা।

২৬ মার্চ বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রভোস্ট অফিসে আশ্রয় নেন রবি মোহন। মৃত্যুকূপ ছেড়ে স্বপরিবারে নিরাপদ আশ্রয় পেতে পরদিন ছুটে যান ঢাকার জিঞ্জিরায়।

(দ্য রিপোর্ট/এনসি/একে/সা/মার্চ ২৫, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে