thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১,  ৭ জিলহজ ১৪৪৫

সব কিছুর দাম এখন আকাশছোঁয়া

২০২৩ মে ১৯ ১৯:২১:০৯
সব কিছুর দাম এখন আকাশছোঁয়া

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক:নিত্যপণ্যসহ সব কিছুর দাম এখন আকাশছোঁয়া। ছয় মাসের ব্যবধানে সবজি, মাছ-মাংস, মুরগি, ডিম, পেঁয়াজ, আদা, চিনিসহ প্রতিটি পণ্যেরই দাম বেড়েছে দ্বিগুন। এই দুমূর্ল্যের বাজারে কোনো পণ্য কিনতে গিয়ে ১০ বার ভাবতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

শুক্রবার সকালে সরজমিনে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কিছু সবজির দাম ১০০ শতাংশ, পেঁয়াজ ১০০ শতাংশ, ব্রয়লার মুরগি ১০০ শতাংশ, আদা ১০০ শতাংশ ছুঁইছুঁই করছে। বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য ১০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একমাস আগে ২০ টাকা যে পেঁপে ছিল, সেই পেঁপে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা বেড়ে এক সপ্তাহ আগে ৮০ টাকা বিক্রি হয়। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আজ ৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচা মরিচ ছয় মাস আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ২৩০ বেড়ে ২৯০ টাকা, গত রমজানে শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এক মাসের ব্যবধানে ৬০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা, প্রতি কেজি টমেটো ৫০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, ২০ দিনের ব্যবধানের আলুর কেজি ২৫ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, এক মাসের ব্যবধানে আলুর দাম বেড়েছে ২৯ শতাংশ।

প্রতিকেজি বেগুন, পটল ৮০ টাকা, মুলা, ৬০ টাকা, ধুন্দুল, ঝিঙে, করলা, কাকরোল, ভেন্ডি, চিচিঙ্গা, বরবটি, ৮০ থেকে ১০০ টাকা, সজনে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিকেজি শিং মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শোল মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, রুই মাছ প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, বড় টেংরা ৭০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পাঙাস ২২০ টাকা, চিংড়ি ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি পেঁয়াজ এক মাসের ব্যবধানে ৩৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকা বেড়ে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আদা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি। চীন থেকে আমদানি করা ভালোমানের আদা কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা। আমদানি করা চীনা রসুনের কেজি ২০-০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা।

রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে কথা হয় রিকশাচালক মানিক মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিদিন আয় ৪০০ টাকা আর ব্যয় এর চাইতে বেশি। বর্তমানে ঋণ করে চলি। আল্লাহ আমাদের খাওয়ার জন্য পেট দিয়েছেন। চোখ দিয়েছেন দেখার জন্য, হাত-পা দিয়েছেন কাজ করে চলার জন্য। কাজকর্ম ঠিকই করছি, কিন্তু বাজারের এমন অবস্থায় চলা দায় হয়ে পড়েছে। কোনো কিছু কিনতে গেলে এক বারের জায়গায় ১০ বার ভাবতে হয়।’

মানিক মিয়া বলেন, ‘জীবনটা কয়লা হয়ে যাচ্ছে। যে পেঁপে এক মাস আগে ২০-২৫ টাকায় কিনছি সেই পেঁপে ৯০ টাকায় বিক্রি করছে। এরকম হলে কোথায় যাব আমরা গরিবরা? কার কাছে গিয়া বলব আমাদের জন্য একটু দয়া করেন?’

রাজধানীর হাতিরপুল এলাকার জাকারিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘সারাদেশের মানুষ মহাবিপদে আছে বাজার নিয়ে। আর আমরা যারা রাজধানীতে থাকি তাদের অবস্থা বেঁচে থেকেও মৃত্যুর সমান। সবকিছুর দাম নাগালের বাইরে চলে গেছে। ব্রয়লার মুরগি কিনতে হচ্ছে ২৩০ টাকা কেজি। যা দুই মাস আগেও ১৬০ টাকা দিয়ে কিনেছি।’

অন্যদিকে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফার্মের মুরগির ডিম প্রতিটি ১২ টাকা, হালি ৪৮ টাকা ও ডজন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফয়ছাল মিয়া নামে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী রামপুরা বাজারে এসেছেন মাছ কিনতে। তিনি বলেন, ‘বাজারে আসলে চোখেমুখে অন্ধকার দেখি। প্রতি সপ্তাহে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েই চলছে। আগে সাতদিনে তিন থেকে চারদিন মাছ খেতাম। কিন্তু সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সপ্তাহে একদিন মাছ কিনতে আসি। গত শুক্রবার পাবদা মাছ ৪৫০ টাকা কেজি কিনেছি। কিন্তু আজকে ৫৫০ টাকা দাম চাওয়ায় কাতল ৩৫০ টাকা করে দুই কেজি ৭০০ টাকায় কিনেছি।’

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ.এইচ.এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা তো আমাদের চলমান। ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে দাম বাড়িয়ে দেয়। বাজার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা লাগবে আমাদের। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙ্গার জন্য আমাদের পরিকল্পনা চলছে। আশা করছি দুর্মূল্যের বাজার খুব শীঘ্রই কন্ট্রোলে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘বাজারে ব্যবসায়ীদের কোনো অনিয়ম দেখলে আমাদের হটলাইনে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করছি।’

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

অর্থ ও বাণিজ্য এর সর্বশেষ খবর

অর্থ ও বাণিজ্য - এর সব খবর