thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫,  ১০ মহররম ১৪৪০

তিস্তা অভিমুখে বিএনপির লংমার্চ

‘তাবেদারির কারণে পানি আনতে পারছে না সরকার’

২০১৪ এপ্রিল ২২ ২১:৫২:৩২
‘তাবেদারির কারণে পানি আনতে পারছে না সরকার’

তারেক সালমান, রংপুর থেকে : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তাবেদারি ও ‘নতজানু নীতি’র কারণেই সরকার তিস্তার পানির হিৎসা আদায় করতে পারছে না। তিস্তার পানি চাইলে তাবেদার এ সরকারকে হটিয়ে দেশে জনগণের সরকার গঠন করতে হবে বলেও দাবি করেছে দলটি।

এদিকে তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ বিএনপির সিনিয়র ও কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কোনো সাড়া ফেলেনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের নেতৃত্বে এ কর্মসূচিতে দলের সিনিয়র ও প্রভাবশালী নেতাদের উপস্থিতি একেবারেই নগণ্য। এর মধ্যে স্থায়ী কমিটির একমাত্র সদস্য নজরুল ইসলাম খান ছাড়া আর কেউ অংশ নেননি। দলের কোনো যুগ্মমহাসচিবও লংমার্চে শরিক হননি। দেখা যায়নি দলের কোনো সাংগঠনিক সম্পাদককেও।

গোবিন্দগঞ্জের পলাশবাড়ীতে লংমার্চের প্রথম দিনের সর্বশেষ পথসভায় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘ভারত ইতোমধ্যে তিস্তা নদীর উজানে ১৪টি বাঁধ নির্মাণ করেছে। এর ফলে পানিপ্রবাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। ভারত অন্যায়ভাবে পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। যার কারণে আমাদের দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর প্রায় তিন কোটি জনগণ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। আমরা কৃষি কাজ করতে পারছি না। নষ্ট হচ্ছে আমাদের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিস্তার পানি পেতে সরকারের হাতে দরকষাকষির জন্য হাতিয়ার ছিল ট্রানজিট। কিন্তু সরকার একতরফাভাবে ভারতকে ট্রানজিট দিয়েছে। তারা কোনো দরকষাকষি করেনি। বিনিময়ে দেশের জন্য কিছুই পায়নি। দরকাষাকষির হাতিয়ারটি ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে। ফলে তাদের পক্ষে তিস্তার পানিচুক্তি সম্পাদন কিংবা ন্যায্য পানির হিৎসা আদায় করা সম্ভব নয়। এ সরকারের গণভিত্তি নেই। জনগণ এ সরকারকে ভোট দেয়নি। তাই তিস্তায় পানি আনতে হলে সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

এ জন্য অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের জন্য সরকারকে বাধ্য করতে আন্দোলনের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন ফখরুল।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর উত্তরার আমির কমপ্লেক্সের সামনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়। ঢাকা থেকে শতাধিক গাড়িবহরের এ অভিযাত্রাটি গাজীপুরের কালিয়াকৈর, টাঙ্গাইলের বাইপাস সড়ক, সিরাগঞ্জের কড্ডার মোড়, বগুড়ার মাটিডালী, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ীতে পথসভা করে। সর্বশেষ পথসভাটি হয় পলাশবাড়িতে সন্ধ্যা ৬টায়।

লং মার্চের অভিযাত্রায় গাজীপুরের কালিয়াকৈর, টাঙ্গাইলের বাইপাস সড়ক মোড়, এলেঙ্গা মোড় ও যমুনা সেতুর পূর্বপারে টাঙ্গাইল বিএনপির উদ্যোগে ব্যাপক লোক সমাগম ঘটে। এর মধ্যে যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর নির্বাচনী এলাকা ভূয়াপুরের নেতাকর্মীরা লং মার্চ বহরে ওর সালাইন, পানির বোতল ও খাবার রুটিও সরবরাহ করেন। এলেঙ্গা মোড়ে এলেঙ্গা পৌর মেয়র সাফি খান ও ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে লং মার্চ বহরকে স্বাগত জানান।

এরপর যমুনা সেতু পশ্চিম পাড়ে সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ে পথসভা করে বিএনপি। সেখানে তুলনামূলক লোক সমাগম ছিল কম। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দ্য রিপোর্টের কাছে অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের মঞ্চ সকালে ভেঙে ফেলে। ব্যানার-ফেস্টুনও ছিড়ে ফেলে। জেলার নেতাদের বাড়ি গত রাত থেকেই ঘেরাও করে রাখার কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। যার কারণে লোকজনের উপস্থিতি কম।

এরপর লংমার্চ বহর বগুড়ার উদ্দেশে যাত্রা করে। দুপুরের পরপর বগুড়ার মাটিডালি মোড়ে পথসভায় পৌছায় লং মার্চ। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্ম ভূমি ও বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত বগুড়ার পথসভায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল নিতান্ত হতাশাজনক। সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যে বগুড়াকে শহীদ জিয়ার জন্মভূমি ও পবিত্রস্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের জনকের জন্মভূমি হিসেবে বগুড়া পবিত্রস্থান।’

এরপর লংমার্চ বহর এগিয়ে যায় রংপুরের উদ্দেশে। পথে বগুড়ার মোকামতলায় হাজার হাজার মানুষ খালি মাটির কলসির গায়ে পানি চাই লেখা ম্লোগান লিখে লং মার্চকে স্বাগত জানায়।

সরকারের সমালোচনা করে বিভিন্ন পথসভাগুলোতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লৗগ সরকার জনগনের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। তারা উটপাখির মতো বালুতে মাথা ঠুকে দিয়ে মনে করছে, তাদের কোনো বিপদ নেই।’

তিনি বলেন, ‘সরকারকে বলব জনগণ জেগে উঠেছে। মানুষ ৫ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করেছে। উপজেলা নির্বাচনেও তারা দেখিয়ে দিয়েছে, এ সরকার জনবিচ্ছিন্ন সরকার। এখন তারা বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন চালিয়ে গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে।’

ভারতের সঙ্গে সুস্পর্কের বিষয়ে ফখরুল বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই। তবে এটা হতে হবে সমতার ভিত্তিতে। তিস্তা নদী একটি আন্তর্জাতিক নদী। তিস্তা পানি পাওয়া আমাদের জন্য অধিকার, এটা কোনো দয়াদাক্ষিণ্য নয়।’

একতরফাভাবে ভারতকে ট্রানজিট দিয়ে সরকার দরাকষাকষির জায়গা হাত ছাড়া করেছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার এতই নতজানু যে তারা ভারতকে ট্রানজিট দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের ন্যায্যা হিৎসার পানির বিষয়টির কোনো সুরাহা করতে পারেনি। গত ৫ বছর তারা জনগনের কাছে মুলা ঝুলিয়ে রেখেছে। কিন্তু তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি করতে পারেনি।’

গোবিন্দগঞ্জে বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফখরুল তিস্তা নদীর পানি প্রবাহের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘এবার এ মৌসুমে এসেছে মাত্র ৪শ কিউসেক পানি। আমরা শুনেছি, আজ তিস্তার পানি প্রবাহ ১৬ শ কিউসেকে উন্নীত হয়েছে। আমরা মনে করি এটি লংমার্চে কর্মসূচির কারণেই হয়েছে। এটা আমাদের প্রাথমিক সফলতা।’

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে লংমার্চের শেষ পথসভা করে লং মার্চ রংপুরে পৌছে। সেখানে বিএনপি নেতারা ও বহরসঙ্গীরা রাত্রিযাপন করেন।

দ্বিতীয় দিন বুধবার সকাল ৯টায় শহরের পাবলিক লাইব্রেরির সামনে পথসভা করে নীলফামারীর ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারেজের কাছে গিয়ে সমাবেশের মধ্য দিয়ে লং মার্চ শেষ হবে।

লং মার্চের বিভিন্ন পথসভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ওসমান ফারুক, আবদুল মান্নান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আযম খান, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, আসাদুজ্জামান রিপন, নাজিম উদ্দিন আলম, খায়রুল কবীর খোকন, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, শামীমুর রহমান শামীম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, অঙ্গসংগঠনের মধ্যে যুব দলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সভাপতি নুরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, স্থানীয় নেতাদের মধ্যে গাজীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, কালিয়াকৈর পৌর সভাপতি হুমায়ুন কবীর, পৌর মেয়র মজিবুর রহমান, টাঙ্গাইল জেলা সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম তোফা, বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান, গোবিন্দগঞ্জ থানা সভাপতি আবদুল মান্নান মন্ডল, ফারুক আহমেদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক কবির আহমেদ, বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন পাতা, আমিনুল ইসলাম, পলাশবাড়ীর পৌর আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

লং মার্চের বহরে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, উলামা দলের সভাপতি আবদুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক শাহ নেসারুল হক, ছাত্র দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল করীম চৌধুরী আবেদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল করীম নাসির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সভানেত্রী শ্যমা ওবায়েদ, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমি, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, হারুন অর রশীদসহ বিএনপি ও সকল অঙ্গ সংগঠনের সিনিয়র নেতারাও ছিলেন।

(দ্য রিপোর্ট/টিএস/একে/এপ্রিল ২২, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর



রে