thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

‘নালিশ করে বালিশ পায়, ভাঙা জুতার বাড়ি খায়’

২০১৪ মে ০১ ১৭:২৬:৪৪
‘নালিশ করে বালিশ পায়, ভাঙা জুতার বাড়ি খায়’

গাজীপুর প্রতিনিধি : ‘নালিশ করে বালিশ পায়, ভাঙা জুতার বাড়ি খায়’ গ্রাম বাংলার এ বচনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনের আগে বিদেশিদের কাছে নালিশ করে বিএনপি নেত্রী বালিশ পেয়েছেন। আর নির্বাচনে না গিয়ে জনগণের কাছে ভাঙা জুতার বাড়ি খেয়েছেন।

মহান মে দিবস উপলক্ষে গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার আমরা শুরু করেছি। বিচারের রায়ও বাংলার মাটিতে কার্যকর করা হবে।

শ্রমিকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এই গাজীপুর থেকেই মুক্তিযুদ্ধের প্রতিরোধ তৈরি হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, শ্রমিকনেতা ময়েজ উদ্দিন ও আহসানউল্লাহ মাস্টারের অবদানের কথাও স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার চেষ্টা করছে। মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এখন সারের জন্য কৃষকদের মার খেতে হয় না। অথচ বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন সার চাওয়ায় ১৮ কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয়।

তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী যা বলেন করেন তার উল্টো। খালেদা জিয়া নির্বাচনের আগে বক্তব্য দেন, ক্ষমতায় আসলে তিনি কলকারখানা খুলে দেবেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর কলকারখানা বন্ধ করে দেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মেহনতি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। মানুষের জীবন সুন্দর হয়। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কৃষক শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের জন্য রাজনীতি করে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে কাজ করে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির জনককে স্বপরিবারে হত্যা, ১৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে জেলখানায় হত্যা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পদদলিত করে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে জিয়াউর রহমান।

জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু করেন। উনি যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে রাজনীতি শুরু করেন। রাজাকার-আলবদরদের ক্ষমতায় বসান।

ঠিক একই পথ অনুসরণ করেন খালেদা জিয়া। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকা তুলে দেন রাজাকার-আলবদরদের হাতে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়। কৃষকেরা ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার আমলে সারের জন্য ১৮ কৃষককে হত্যা করা হয়েছিল।

তারা ক্ষমতায় আসার আগে বলেন, বন্ধ কলকারখানা চালু করবেন। কিন্তু করেন তার উল্টো। আদমজীর মতো বৃহৎ পাটকল বন্ধ করে দেন তিনি। ক্ষমতায় এসে খুলনা, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন কলকারখানা বন্ধ করে দেন। হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। অনেকে আত্মহত্যা করেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বন্ধ কলকারখানা চালু করে। বিজিএমসির ৮টি কারখানা চালু করা হয়। শ্রমিকদের শিল্প কলকারখানার মালিকানা দেওয়া চুল করে আওয়ামী লীগ সরকার।

‘খালেদা জিয়ার হাত কৃষক ও শ্রমিকের রক্তে রঞ্জিত’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার সময় ন্যায্য শ্রমের দাবিতে রমজান মাসে ১৭ শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করা হয়।

তিনি বলেন, সরকার পতন আন্দোলনের নামে তিনি বাসের ঘুমন্ত ড্রাইভার ও হেলপার, সিএনজির ড্রাইভারকে পেট্রোল দিয়ে হত্যা করেন, স্কুলছাত্রীকে হত্যা করেন।

‘আওয়ামী লীগ শ্রমিকদের সেবক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তার সরকার গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়েছে। চাকরির বয়সসীমা ৫৭ বছর থেকে ৬০ বছর করেছে।

গাজীপুরে শ্রমিকদের ডরমেটরি, আবাসন ব্যবস্থা, বস্তিবাসীদের জন্য ফ্ল্যাট তৈরি করা এবং গ্রামে ফিরতে আগ্রহী বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা।

মন্ত্রিপরিষদের অনেক সদস্যসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত শ্রমিক জনসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হকএমপি, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজমতউল্লাহ খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ। জাতীয় শ্রমিক লীগ গাজীপুর জেলা সভাপতি আলহাজ্ব শুক্কুর মাহমুদ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন।

বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি জনসভাস্থলে পৌঁছান। প্রথমে তিনি গাজীপুর মহানগরে অবস্থিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। এরপর তিনি গাড়িতে করে জনসভাস্থলে আসেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গাজীপুরকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। স্থানীয় শ্রমিক, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভাস্থলে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছার পর বিপুল করতালি ও শ্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ জনসভাস্থল ঘিরে রাখে। আইনশৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর ডগ স্কোয়াড সার্বক্ষণিক মাঠে প্রস্তুত রাখা হয়। জনসভাস্থল ঘিরে আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত মহাসড়কে অসংখ্য তোরণ নির্মাণ করা হয়। রাস্তায় রাস্তায় রঙ-বেরঙের ব্যানার ও ফেস্টুন শোভা পায়।

(দ্য রিপোর্ট/এমএফ/এসবি/এমএআর/মে ০১, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

মহান মে দিবস এর সর্বশেষ খবর

মহান মে দিবস - এর সব খবর