thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫,  ৭ মহররম ১৪৪০

মনে ভেসে ওঠে আমার আম্মুর মুখখানি

২০১৪ মে ১১ ০০:২৮:৫৯
মনে ভেসে ওঠে আমার আম্মুর মুখখানি

আল হেলাল শুভ, দ্য রিপোর্ট : “মা”। শব্দটি চিন্তা করলেই মনে ভেসে ওঠে আমার আম্মুর মুখখানি। কোমলে-কঠোরে সুন্দর একটি অবয়ব। একজন মমতাময়ী নারী। খুব বেশি শিক্ষিত না হলেও যিনি নিজ সন্তানদের শিক্ষিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। যিনি নিজের শত কষ্টের বিনিময়েও সব সময় সন্তানদের সুখ চেয়েছেন। সন্তানরা দূরে থাকার পরেও যিনি নিজের অব্যাক্ত কষ্টের কথা মুখ খুলে বলেন না।

আমার আম্মুর নাম হোসনে লায়লা। উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও শহরে বেড়ে উঠেছেন আমার আম্মু। যদিও আমার নানার নিজ বাড়ি নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায়। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট আমার আম্মু ছিলেন সকলের বেশ আদরের।

গত দশ বছর ধরে আমি আমার নিজ জেলা শহর ঠাকুরগাঁও-এর বাইরে। ফলে আম্মুর চোখের দৃষ্টি থেকে অনেক দূরে। কিন্তু একটি দিনের জন্যও আমার আম্মু তা আমাকে বুঝতে দেন নি। পেশাগত ব্যস্ততার কারণে যদি কোন দিন আম্মুকে ফোন না করতে পারি তবে ওই দিন রাতে তিনি আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেন কিরে ভাল আছিস তুই? তোর শরীর ভাল তো। ছুটিতে যখন বাড়ি যাই তখন বুঝতে পারি আম্মুর এই গোপন মমতার বিষয়টি। একটু ক্ষণের জন্যও চোখের আড়াল হতে দিতে চান না।

গত বছর আমি আমার লেখাপড়া ও সাংবাদিকতায় বেশ ব্যস্ত থাকার কারণে ছয় মাস বাড়ি (নিজ জেলা শহর-ঠাকুরগাঁও) যেতে পারি নি। তখন লেখাপড়ার অধ্যায় শেষ করার পাশাপাশি কাজ করতাম দৈনিক সংবাদ-এ। সে সময় আম্মু প্রায়ই ফোন করে বলতেন, বাড়ি আসবি না তুই। কবে আসবি? তবে এর বেশি আর কিছু বলতেন না। তখন আমি বুঝতে পেরেছিলাম অনেক দিন আমায় না দেখে আম্মু অস্থির হয়ে গিয়েছেন। তাই বাড়ি গিয়ে কয়েকদিন থেকে এলাম।

এখনও আমার মনে পরে ২০০৪ সালের কথা। ওই বছর আমি এসএসসি পাস করে পড়াশুনার জন্য রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে ভর্তি হই। রংপুরে আমার থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর থেকেই আম্মুর মুখের হাসি যেন মিলিয়ে গেল। যদিও তিনি কাউকে কিছু বলেন নি। শুধু নিজের মনে আল্লার কাছে আমার জন্য দোয়া করতেন। যে দিন কলেজের প্রথম ক্লাস করতে আব্বুর সঙ্গে রংপুরের উদ্দেশে যাই সেদিন আম্মু খুব কেঁদেছিলেন। কিন্তু নিজ সন্তানকে দূরে রাখার তার যে গোপন কষ্ট তা তিনি কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করেন নি।

আম্মুর একটি বড় গুণ হল মানুষের সেবা করা। এ জন্য তিনি তার পরিবার ও বন্ধু মহলে বেশ স্বীকৃত। আমাদের ঠাকুরগাঁও শহরের বাসায় গ্রামের বাড়ি থেকে কোন গরিব মানুষ এলে তিনি তার জন্য বেশ পরিচর্যা করেন। আব্বু পরিবারের বড় হওয়ায় আম্মু সবার কাছে পরিচিত ছিলেন ‘বড় বৌ’ নামে। বড় বৌ হওয়ার তার যে দায়িত্ব তিনি খুব সুচারুভাবে পালন করতেন। এখনও গ্রামের সব গরিব মানুষের কাছে তিনি ‘বড় বৌমা’ নামে পরিচিত।

খুব ধার্মিক আমার আম্মু সব সময় নিজ ধর্ম পালন করার পাশাপাশি আমাকেও ধর্ম পালনে উদ্বুদ্ধ করেন। তবে অন্য ধর্মের মানুষরাও তার কাছে এসে সাহায্য সহযোগিতা না পেয়ে ফিরে যায় না।

ছোটবেলায় আমি কারও সঙ্গে ঝগড়া করে এলে আমার দোষ না থাকলেও আম্মু আমাকেই শাসন করতেন। তখন বেশ রাগ হলেও বড় হওয়ার পরে বিষয়টি বুঝতে পারি। বুঝতে পারি তখন আমাকে শাসন করার কি কারণ ছিল। বুঝতে পারি মাতৃত্বের বিস্ময়কর চেতনারীতি।

(দ্য রিপোর্ট/এএইচএস/এনআই/মে ১১, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

মায়ের জন্য ভালবাসা এর সর্বশেষ খবর

মায়ের জন্য ভালবাসা - এর সব খবর



রে