thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫,  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

ভালো নেই শান্তি নিবাসের মায়েরা

২০১৪ মে ১১ ১০:৪২:৫৩
ভালো নেই শান্তি নিবাসের মায়েরা

বিধান সরকার, বরিশাল : ছেলে-মেয়ে, নাতি-পুতি সবই আছে। তারপরও যেন কিছু নেই। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই; দেখভাল করারও কেউ নেই। তাইতো এক যুগ পার হলো কদবানুর (৭৮) ঠাঁই মিলেছে সমাজসেবা বিভাগের শান্তি নিবাসে।

এই অবস্থা শুধু কদবানুর একার নয়; তার মতো একই অবস্থা সোনেকা রানী (৭০), সুফিয়া বেগম (৬৮) ও সালেহা বেগমের (৫৫)।

২০০১ সালের ১ ডিসেম্বর এই শান্তি নিবাসের যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু ৭ মাসের মাথায় বন্ধ হয়ে রূপ নেয় সেভ হোমে। সরকারি বরাদ্দ নেই। তারপরও কোথায় যাবেন এই মায়েরা। তাইতো কষ্ট ভোগ করেও এই শান্তি নিবাসে দিন পার করছেন ৯ জন মা।

শান্তি নিবাসের জানালা দিয়ে দৃষ্টি ছিল দিগন্তের পানে। ভাবনায় তার সামনের দিনগুলো। কেমন করে কাটবে জীবন। একটু সুখের দেখা মেলেনি কখনও। কথা বলার সময় চোখ গড়িয়ে পানি নেমেছিল কদবানু বেগমের।

তার বাবার বাড়ি নোয়াখালী। বিয়ে হয়েছিল পটুয়াখালী জেলার বড় বিঘাই গ্রামে। স্বামী আফসার মৃধা ছিলেন দিনমজুর। ৪ মেয়ে ২ ছেলে নিয়ে বেশ কষ্টে পার করতেন সংসার। এর পর ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের বছরে বরিশাল নগরীতে চলে আসেন কাজের সন্ধানে। স্বামী মারা গেলে বাসা-বাড়িতে ঝিয়ের কাজে নামেন কদবানু। অনাথ আশ্রমে রেখে পড়িয়েছেন দুই সন্তানকে। একে একে বিয়ে দিয়েছেন ছেলে-মেয়েদের। তাদের প্রত্যেকের সংসার হলো। সেখানে কেবল ঠাঁই মেলেনি তার। এখন থেকে ১৩ বছর তার আগে স্থান মেলে শান্তি নিবাসে।

আর স্বরূপকাঠি উপজেলার সোনেকা রানীর এই পৃথিবীতে থাকার বলতে আছেন দুই ভাইয়ের ছেলে। স্বামীর বাড়ি ছিল ঝালকাঠি সদর উপজেলার রামনাবাদ গ্রামে। স্বামী সুরেন হালদার গত হয়েছেন তিন দশক আগে। ভাই মারা যাওয়ার পর সোনেকার ঠাঁই মিলেছে এই শান্তি নিবাসে। বছর খানেক আগে ভাইয়ের ছেলের বিয়েতে গিয়েছিলেন। এর পর আর কেউ খোঁজ নেয়নি। তাই ইচ্ছা হলেও যাওয়ার উপায় নেই, এখানেই পড়ে থাকা।

বরিশাল সদর উপজেলার চড়বাড়িয়া গ্রামের সালেহা বেগম সর্বহারা। বাবা আদম আলী হাওলাদারের জমিজিরাত ছিল একদা। বিয়ে হয়েছিল পাশের গ্রাম চরআদবানীর আহমদ হাওলাদারের সঙ্গে। তিনিও অবস্থাসম্পন্ন লোক ছিলেন। স্বামীর মৃত্যু আর কীর্তনখোলার ভাঙন তাকে সর্বস্বান্ত করেছে। এখন তিনি শান্তি নিবাসবাসী। এ নিয়ে আক্ষেপ হলেও করার কিছুই নেই বলে জানান তিনি।

একই অবস্থা নলছিটি উপজেলার রাজাপুর গ্রামের ঠিকানা ব্যবহারকারী সুফিয়া বেগমের। সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলে মারা যাওয়ার পর ১৩ বছর হলো তার ঠিকানা এখন শান্তি নিবাস। কেউ নেই বলে খোঁজ নিতেও আসেনা। শুরু থেকেই শুনে আসছেন এখানে বরাদ্দ নেই, চিকিৎসাসেবার অবস্থাও তথৈবচ। তারপরও এখানেই আছেন; বেশ আছেন।

অবকাঠামো, জনবল সবই আছে; কেবল কর্মসূচিটি চালু নেই। সরকার পরিবর্তনের পর ২০০১ সালের ১ ডিসেম্বর শান্তি নিবাস উদ্বোধনের ৭ মাসের মাথায় বন্ধ হয়ে একই স্থানে সেভ হোমের কার্যক্রম চালু হয়। এমনটা জানালেন দায়িত্বরত উপ-তত্ত্বাবধায়ক শ্যামল সেনগুপ্ত। শুরুতে শান্তি নিবাসে ৬০ নারী ও ৪০ জন পুরুষ রাখার ব্যবস্থা হয়েছিল। বরাদ্দ নেই বলে এখন ৯ জন মা এখানে থাকছেন। এদের সেভ হোমের বরাদ্দ দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছেন তারা।

শান্তি নিবাস ব্যাবস্থাপনা ও তদারকি কমিটির সভাপতি বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম জানালেন, মানবিক দিক বিবেচনা করেই শান্তি নিবাস চালু রাখা খুবই প্রয়োজন ছিল। তবে আশার বাণী হলো, সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে শান্তি নিবাস ফের চালু করার জন্য তথ্য নিয়েছে। এটা দ্রুত চালু করার যাবতীয় চেষ্টা তিনি করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

(দ্য রিপোর্ট/বিএস/এসবি/এজেড/মে ১১, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ আয়োজন এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ আয়োজন - এর সব খবর