thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫,  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

মা হওয়া যাদের কাছে অভিশাপ

২০১৪ মে ১১ ১৩:৪৫:৪৯
মা হওয়া যাদের কাছে অভিশাপ

লুৎফর রহমান সোহাগ, দ্য রিপোর্ট : প্রায় প্রতিদিনই কারও না কারও সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কে জড়ান তারা। একাধিক পুরুষের সঙ্গে একাধিকবার। কারও বয়স ২০ কিংবা কারও ৪০ ছাড়িয়েছে। তাদের অধিকাংশই মা নন। অথচ চাইলেই তারা মা হতে পারেন। কিন্তু মাতৃত্বকে তারা বিড়ম্বনা হিসেবেই মনে করেন। আর যে গুটি কয়জন মা হয়েছেন, তাদের অনেকেই মাতৃত্বকে অভিশাপ বলেই মনে করেন। কিন্তু মনের কোণে সবারই ‘মা’ ডাক শোনার ইচ্ছা জাগে। সবাই চান নিজের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে নিজের একান্ত অনুভূতিগুলো ভাগ করে নিতে। কিন্তু বাস্তবতা আর সমাজের কারণে তাদের সে ইচ্ছা গোপন করাকেই তারা পুণ্য বলে মানেন। ঢাকার বিভিন্ন স্থানের একাধিক নিশিকন্যার কথায় এ চিত্রই ফুটে উঠেছে।

রাজধানীর ফার্মগেটের ফুটপাতে কথা হয় এমন একজনের সঙ্গে। শুরুতেই কথা বলতে চাইলে ক্ষেপে যান তিনি। পরিচয় গোপন রাখা হবে জানালে পরিস্থিতি পুরোই পাল্টে যায়। একজন আবেগী মায়ের মতো তিনি বলে ওঠেন, একটি মাত্র ছেলে। কষ্ট করে পড়ালেখা করান। কিন্তু এলাকার লোকজন, ওর বন্ধুবান্ধব ওকে বাঁকাচোখে দেখে। আমার কারণে ছেলেটাকে অনেক কষ্ট পেতে হয়। ওর পরিচয় নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তোলেন। বাবা না থাকা যেন এ সমাজে কঠিন অপরাধ।

কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ছেলের কাছে আমাকে অনেক মিথ্যা বলতে হয়। ও আমাকে প্রচুর ঘৃণা করে। পেশাটা ছেড়ে দিতে বলে। কিন্তু কিছু করার নেই।

রমনা এলাকায় কথা হয় এমনই এক মায়ের সঙ্গে। এক মেয়ের মা তিনি। সামাজিক স্বীকৃতি না থাকায় আর নানা সমস্যার কারণে মেয়েটাকেও শেষ পর্যন্ত একই পেশায় নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু এখনও এক ধরনের বেদনা কাজ করে তার মধ্যে। তিনি জানান, মাঝে মধ্যে মনে হয় আমরাই এ জগতের সবচেয়ে নগণ্য প্রাণী। ভাবছিলাম মেয়েটাকে অন্য কোনো পেশায় পাঠাব। কিন্তু কিছু করার ছিল না। ভাবতে কষ্ট হয়, পুরুষকে খুশি করতে সেও নিশ্চয়ই নোংরা সব উপায় বেছে নেয়!

পুরান ঢাকার আজাদ সিনেমা হলের সামনে গেলেই বড় ধরনের জটলা চোখে পড়ে। খদ্দেরের আশায় প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত অবধি একদল নারী এখানে অবস্থান নেন। কাছে যেতেই চেঁচিয়ে ওঠেন তাদের কয়েকজন, ‘আমরা পয়দা দিলে তোর মতো ছাওয়াল কত হইত! দুই দিনের নালায়েক পোলা তোর এহানে কাম কী?’

পুরো বিষযটি খুলে বললে তারা জানান, সন্তান হলে কী হবে? বেকার থাকতে হবে। খরচ দেবে কে? তারপর সমাজের কোথাও সে সন্তানের ঠাঁই হবে না। শুধু শুধু যন্ত্রণা কিনে আনার মানে হয় না।

তবে প্রায় সবাই স্বীকার করেন, ‘মা’ ডাক শুনতে বড্ড ইচ্ছা হয়। সুযোগ থাকলে পেশাটা বদলে আবার নতুন করে জীবন শুরু করতেন! যে জীবন আলো করে থাকত সন্তান!

ফিরে আসার পথে নিজের অজান্তেই মৌসুমী ভৌমিকের সেই গানটি ঠোঁটের কোণে সুর তোলে-

‘রাস্তার ধারে রাতজাগা মেয়ে, প্রেমহীন পথে ঘুরে ঘুরে মরে।

মুখে হাসি আঁকে, রাত যত বাড়ে ভালোবাসা বেচে ঘরে ফিরে চলে।

মেয়েটার ঠোঁটে ক্ষত জমে আছে, শরীরের ভাঁজে ক্ষত জমে আছে।

কিছু দেখি কিছু দেখতে পাই না।’

(দ্য রিপোর্ট/এলআরএস/এজেড/শাহ/মে ১১, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ আয়োজন এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ আয়োজন - এর সব খবর