thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫,  ১৪ মহররম ১৪৪০

এক অসহায় মা রিনিয়া বেগম

২০১৪ মে ১১ ১৬:৪২:৫৯
এক অসহায় মা রিনিয়া বেগম

সাজ্জাদ হোসেন, ফরিদপুর : ফরিদপুরের রিনিয়া বেগম। বয়স তার ৬৫। রিনিয়া বেগমের বিয়ে হয়েছিল দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ঢাকা জেলার আজিমনগরের রাজাপুর গ্রামের শেখ আমিরুদ্দীনের সঙ্গে। দুই বছরের এক পুত্র সন্তান আব্দুল কুদ্দুছ আর মাত্র ২ মাসের মেয়ে সেতারা বেগম মিনুকে রেখে স্বামী আমিরুদ্দীন মারা যান। তার কিছুদিন পর নদীতে ভেঙে যায় স্বামীর রেখে যাওয়া বাস্তুভিটে। এতে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন রিনিয়া বেগম।

ঘরবাড়ি হারিয়ে রিনিয়া বেগম দুই শিশু সন্তান নিয়ে আশ্রয় খোঁজেন ফরিদপুর শহরে। অবশেষে আশ্রয় হয় শহরের লক্ষ্মীপুরের খোরশেদ ফকিরের বাড়িতে। সেখান থেকেই দুই সন্তানকে বড় করেন রিনিয়া বেগম। জীবনের সব শক্তি দিয়ে সকল প্রকার বিপদ-আপদ থেকে পিতৃহারা দুই সন্তানকে আগলে রাখেন বিধবা রিনিয়া বেগম। পিতার অভাব কোনোদিনই বুঝতে দেননি সন্তানদের। প্রায় ১৫ বছর আগে মেয়ে সেতারা বেগম মিনুর বিয়ে দেন ঢাকায়। মেয়ের জামাই ঢাকায় চাকরি করে। বিয়ের পর মেয়ে মিনু ভালোই আছে।

রিনিয়া বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিয়ের পর একবারের জন্যও মেয়ে, মেয়ের জামাই আমাকে দেখতে আসেনি।’ তারপরও মায়ের মন বলে কথা। মেয়েকে একনজর দেখার জন্য তিনি নিজেই কয়েকবার ছুটে গেছেন ঢাকায়।

এরপর ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের পর ছেলে বাড়ি করেছে ফরিদপুর সদর থানার মুন্সীডাঙ্গী। ছেলেকে বিয়ে দিয়ে রিনিয়া বেগম আরও একা ও অসহায় হয়ে পড়েন। ছেলে বউ নিয়ে যেখানে থাকে, সেখানে জায়গা হয় না রিনিয়া বেগমের। যখন ছেলের কথা খুব বেশি মনে পড়ে, তখন সেখানে গিয়ে ছেলেকে একনজর দেখে আসেন।

বয়সের কারণে তিনি এখন আর কাজ করতে পারেন না। ছেলেমেয়েকে ভালো রাখতে নিজের ভালো থাকার কথা ভাবেননি। এমনকি নিজের জন্য অবশিষ্ট কিছুই রাখেননি। জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে এখন তার কিছুই করার নেই।

দুই বছর আগে রিনিয়া বেগমের ঠাঁই হয় ফরিদপুর টেপাখোলা শান্তি নিবাসে। সব কিছু হারিয়েও তার সান্ত্বনা এখন আর কারও উপর তার নির্ভর করতে হবে না।

তারপরও আবেগের সুরে আক্ষেপ করে রিনিয়া বেগম বলেন, সরকারের আশ্রয়ে আছি, ভালোই আছি। কত আশা ছিল স্বামী, সংসার নিয়ে শান্তিতে থাকব। নিয়তি একে একে আমার সবই কেড়ে নিল।বাকি থাকল আমার চলে যাওয়া। এখন শুধুই অপেক্ষা কখন এই নিষ্ঠুর পৃথিবী থেকে আমার চিরবিদায় হবে। আমি যতই কষ্টে থাকি না কেন, সব সময় দোয়া করি, আমার সন্তানেরা যেন ভালো থাকে।

(দ্য রিপোর্ট/এসএইচ/এপি/এনআই/মে ১১, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

মায়ের জন্য ভালবাসা এর সর্বশেষ খবর

মায়ের জন্য ভালবাসা - এর সব খবর



রে