thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

মায়ের জন্য ছড়া

২০১৪ মে ১১ ২১:৪৮:৩৫
মায়ের জন্য ছড়া

মা-জননী
খালেক বিন জয়েনউদদীন

নোলক পরা মায়ের মতো আমার দেশ
শাড়ির আঁচল বাতাস করে, শ্যামল রেশ,
হিমালয়ের গঙ্গাজলে নদীর-ধারা
মায়ের বুকে দুধের নহর— প্রাণটি কারা।
আকাশ পাখি তোমার সাথী নিত্যদিন
বটের ছায়ায় খুকুর আঁখি, সব রঙিন,
সুডৌল বাহু আগলে রাখে, কাজল চোখ
ধন্য তুমি জন্ম দিয়ে মর্ত্যলোক।
দুঃখ-শোকে ঝড়-বাদলে শক্তিদাতা
জন্ম-ভূমি মা-জননী, মাতার মাতা।

[সাহিত্যিক ও ছড়াকার খালেক বিন জয়েনউদদীনের জন্ম : ১৯৫৪ সালের ২৪শে জানুয়ারি ]

ছেলেটা মা হতে চায়
নাসের মাহমুদ

আমি যদি মা হই তবে
তুমি আমার ছেলে,
বকবো নাকো একটি বারও
খেলতে মাঠে গেলে।

গাছ লাগাবে, খুঁড়বে মাটি
ঢালবে পানি তা’তে,
উল্টাবো না চক্ষু তখন
আমি তোমার সাথে।

পুষবে পাখি, ব্যস্ত থাকো—
ঘুমাও বিড়াল নিয়ে,
বলবো নাকো কিচ্ছু আমি
তোমায় ধমক দিয়ে।

বৃষ্টি পড়ে ভিজতে যাবে
করবো নাকো মানা,
তোমার যদি ইচ্ছা করে
পোষো কুকুর ছানা।

পড়বে না বই আঁকতে ছবি
আচ্ছা বসে আঁকো।

তুমি আমার ছেলে হলে
আমিই তোমার মা-তো,
বলবো, ‘স্বাধীন ঘরে কেন
বাইরে চলে যা-তো।’

[সাহিত্যিক ও ছড়াকার নাসের মাহমুদের জন্ম : ১৯৫৬ সালের ১ জুলাই]

কী নাম দেবো মায়ের আমি
ফারুক নওয়াজ

পূর্ণিমার ওই চাঁদ দেখেছি সোনারঙের চাঁদ...
চাঁদটি যেন জোছনারাতের স্বপ্নধরা ফাঁদ।
তার তুলনা কার সাথে হয়, কার সাথে যে হয়...
যার সাথে হোক অন্তত তা মায়ের সাথে নয়!
মা যে আমার স্বপ্নে দেখা আলোর মেয়ে ঠিক
মা যে আমার ঝিনুক-মনে মুক্তা ঝিকিমিক।
মায়ের হাসি দেখলে চাঁদও মলিন হয়ে যায়...
দুখের দিনে অন্তরে মা সুখ হয়ে ঝলকায়।
বনের সেরা ফুলটি যখন সৌরভে মৌ মৌ...
মনটা বলে, যা হও তুমি মায়ের মতো নও।
মায়ের গায়ের গন্ধে আমি পাগল হয়ে যাই...
এমন স্নেহের সুবাস বলো কেউ কি কোথাও পায়!
সন্ধ্যাতারা, চাঁদ বলো আর গোলাপ, বেলি, জুঁই;
মাকে রাখি একদিকে আর একদিকে সব থুই।
কী নাম দেবো মায়ের আমি, হারাই ভেবে কূল...
একদিকে মা, অন্য দিকে লক্ষ-কোটি ফুল।

[ সাহিত্যিক ও ছড়াকার ফারুক নওয়াজের জন্ম : ১৯৫৮ সালে নভেম্বরে ]

মা
বিলু কবীর

সবার শেষে ঘুমোও তুমি
---সবার আগে ওঠো,
সবার সাথে সমান তালে
---সকল কাজে ছোটো।
সন্তানেরা না ফিরলে যে
---না খেয়ে রাত জাগো,
তোমার চেয়ে ভালোবাসে
---তাদের কে আর মাগো?
প্রাণীকুলের বংশগতির
---তুমিই উৎসধারা,
সকল নদী তোমার স্রোতে
---উছল পাগলপারা।
তোমার সবাই সবার তুমি
---তুমিই সবার সব,
সবার ভেতর মিশে আছে
---তোমার অনুভব।

[ সাহিত্যিক ও ছড়াকার বিলু কবীরের জন্ম : ১৯৬১ সালের ৪ঠা এপ্রিল ]

মা মানেই সব আমার
জগলুল হায়দার

মা মানেই সব আমার
স্কুলের ব্যাগ
পানির জার
জুতার ফিতা
নকশী মোজা
পাটে পাটে গোছানো ।

মা মানেই সব আমার
কাঁটা কম্পাস
রং পেন্সিল
রুটিন খাতা
ইরেজার ও
সব ঝামেলা মোছানো ।

মা মানেই সব আমার
চুলের সিঁথি
কপালে টিপ
শীতের পিঠা
সন্ধ্যা প্রদীপ
তসবি দানা চুমানো ।

মা মানেই সব আমার
রূপালী চাঁদ
জোসনা রাত
স্বপ্ন আশা
কপালে হাত
আরাম করে ঘুমানো ।

[সাহিত্যিক ও ছড়াকার জগলুল হায়দারের জন্ম : ১৯৬৫ সালের ৮ অক্টোবর (শুক্রবার)]

মায়ের বুকে সুখের স্বর্গ
মিলন সব্যসাচী

সাতরাজার ধন তুচ্ছ অতি মায়ের অনেক মূল্য
মায়ের বুকে সুখের স্বর্গ হয় নাকো তাঁর তুল্য।
‘মা’ ডেকে তাই সুখ খুঁজে পাই আমার অবুঝ মনে
খুশীর ডানায় এ মন হারায় দূরের সবুজ বনে।

রংধনুর ওই রঙের ভিড়ে মনটা কেবল বলে
ধুত্তরী ছাই স্বর্গ কোথায়? মায়ের পদতলে।
স্নেহমাখা মায়ের আঁচল মিষ্টি মধুর গন্ধ
নিখাঁদ মায়ের ভালোবাসা নেইকো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব।

মা যে আমার স্বর্গীয় সুখ ফুলের হাসি ঠোঁটে
মায়ের মধুর পরশ পেলে সুখের কলি ফোটে।
বাবার আমি মানিক-রতন মায়ের চোখের মণি
উজার করে দেয় দু’জনে ভালোবাসার খনি।

পাঠশালাতে পড়তে গেলে বাবা বাসেন ভালো
দুঃখ দিলেও মায়ের মুখটি হয় না কেন কালো?
বাবা আমায় আঁকড়ে ধরে আদর করে কত
তবু কেন হয় না বাবা আমার মায়ের মতো?

মা মানে তো সুখের সাগর ভালোবাসার ঢেউ তো
মায়ের মতো নেই দরদী এই দুনিয়ায় কেউ তো।

[সাহিত্যিক ও ছড়াকার মিলন সব্যসাচীর জন্ম ১ জুন ১৯৭২]


মা বলেছে

কামাল হোসাইন

মাকে রেখে অনেক দূরে থাকি
তাই তো রোজই মনের কোণে
মায়ের ছবি আঁকি,

মা দিয়েছে স্বপ্ন এঁকে
আমার দু’টো চোখে—
সেই স্বপ্ন মাথায় নিয়ে
ছুটছি মায়ালোকে।

কিন্তু মাকে দূরে রেখে
মন থাকে না মনে—
কেমন যেন শূন্য লাগে
সকল আয়োজনে।

মা বলেছে, চিন্তা কিরে
তোর সঙ্গেই আছি—
যত দূরে থাকিস খোকা
এত্ত কেন ভাবিস বোকা!
তোর মধ্যে ঘুরি আমি
তোর মধ্যেই বাঁচি।

[ সাহিত্যিক ও ছড়াকার কামাল হোসাইনের জন্ম : ১লা ফেব্রুয়ারি ১৯৮০]

মেঘ
হিজল জোবায়ের

হাতির মতন, ঘোড়ার মতন
বাঘের মতন মেঘ
দেখতে গিয়ে ছোট্ট খুকির
চোখ জুড়ে উদ্বেগ!

এত্ত হাতি, এত্ত ঘোড়া
বন বনানী ছেড়ে
উড়ে উড়ে যাচ্ছে কোথায়
কাঠ-ফাটা রোদ্দুরে!

ওদের কি নেই শাসন-বারণ
ওদের কি নেই জানা
দুপুরবেলা রোদের ভেতর
বাইরে যাওয়া মানা!

এখন ওদের আম্মু যদি
জেনে ফেলে সব
দুপুর বেলা ওড়াউড়ির
নিষিদ্ধ উৎসব;
এখন যদি জ্বর-জারি হয়
আম্মু জানে তবে,
ফের কোনোদিন বাইরে আসা
কেমন করে হবে!!!

[ সাহিত্যিক ও ছড়াকার হিজল জোবায়েরের জন্ম : ৩ মে ]

মায়ের আদেশ
আহমাদ ফেরদৌস

‘রাত হলো যে পড়্ ঘুমিয়ে’
‘ভোর হলো যে ওঠো’
‘পরিশ্রমে ভয় করো না’
‘ভালো কাজে ছোটো’

‘ক্ষুধার্তকে অন্ন দিও’
‘সময় মেপে চোলো’
‘কথার চেয়ে কাজে থেকো’
‘সত্য কথা বোলো’

‘গুরুজনে কোরো ভক্তি’
‘শিশুর স্নেহ দিও’
‘ভায়ে-ভায়ে ফেসাদ্ রুখো’
‘ফুলের সুবাস নিও’

‘খোদার তরে দীল খুলে দাও’
‘প্রতিবেশী মেনো’
দেশের জন্যে প্রেমটা রেখো’
‘প্রকৃতিকে জেনো’

মাগো তোমার আদেশগুলো
হিরা-মানিক-রতন,
হৃদয় মাঝে আছে গেঁথে
তার তরে সব যতন।

[ সাহিত্যিক ও ছড়াকার আহমাদ ফেরদৌসের জন্ম : ১৫ সেপ্টেম্বর ]

মায়ের শাড়ি
এহসান হায়দার

নদীর চরে কাশের বনে
সাদা বকের সারি
খোকা দেখে বললো হেসে
মায়ের সাদা শাড়ি।

নদীর ঘাটে গা ধুয়ে মা
শুকাতে দিয়ে শাড়ি
ছায়ার মতোন হেঁটে হেঁটে
ফিরতো যখন বাড়ী
তখন মাকে মনে হতো—
দূর দেশেরই পরী।

মা তো এখন অনেক দূরে
ওই আকাশের অন্তপুরে
কেমনে দেখাই মা’কে—
তোমার শাড়ি লুকিয়ে থাকে
শ্যামল নদীর বাঁকে।

[ সাহিত্যিক ও ছড়াকার এহসান হায়দারের জন্ম : ৩০ মার্চ]

মায়ের মুখ
সৌভাগ্যধারা

ঐ মুখটি মায়ার আধার
গভীর আলো-আশার,
ঐ মুখটি জোছনাঘেরা
সকল ভালবাসার।

ঐ মুখটি ঝড়ের দিনের
দিক-হারাদের নীড়,
ঐ মুখটি দুখ-সাগরের
কষ্ট ভুলার তীর।

ঐ মুখটি পুষ্পসম
পবিত্রতার প্রতীক,
ঐ মুখটি স্বপ্নমাখা
সত্য-ন্যায়ের পথিক।

ঐ মুখটির বর্ণনা কি
এতটুকুই হয়?
প্রিয়তম ঐ মুখটি
হৃদয় জুড়েই রয়।

[ সাহিত্যিক ও ছড়াকার সৌভাগ্যধারার জন্ম : পহেলা পৌষ ]

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

ছেলেবেলাপুর এর সর্বশেষ খবর

ছেলেবেলাপুর - এর সব খবর