thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫,  ১১ মহররম ১৪৪০

স্বপ্নের সূর্যটা যেখানে অস্তমিত

২০১৪ জুলাই ১৩ ১৯:৪০:৩০
স্বপ্নের সূর্যটা যেখানে অস্তমিত

My mind always dancing
when I'm here.
The rhythm of the passion
we can hear.
The bossa nova beat
that makes me move my feet.
We are dancing in Brazil.

ব্রাজিলে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের সময় যখন ঘনিয়ে আসছিল, তখন বুকের মধ্যে বাজতে থাকে রুমানিয়ান শিল্পী আন্দিয়া বানিকার-`লাভ ইন ব্রাজিল’। এই গানের সুর, ছন্দ, দোলায় নেচে উঠছিল মন-প্রাণ। শুনতে পাচ্ছিলাম উদ্দীপনার ছন্দ। দুলিয়ে দিচ্ছিল বোসা নোভা বিট। ব্রাজিলের প্রাণের স্পন্দন অনুভব করার জন্য একটু একটু করে প্রস্তুত হচ্ছিলাম। অপেক্ষায় ছিলাম ফুটবল, সাম্বা আর ভালবাসার চিরায়ত রোমাঞ্চের। এমনিতেই বিশ্বের বিভিন্ন মাঠে দেখতে পেয়েছি ব্রাজিলীয় ফুটবলের লাবণ্য, গ্যালারিতে সাম্বার দোলা আর হলুদের অপরূপ শোভা। আর এবার ব্রাজিলের মাঠে বিশ্বকাপ! ভাবতেই কেমন শিহরণ লেগেছিল। লাগাম ছাড়িয়েছিল কল্পনা। বুঁদ হয়েছিলাম রোমান্টিকতার আবেশে। অনেক বেশি প্রত্যাশার রঙে রাঙানো ছিল মন। কত আকাশ-কুসুম স্বপ্ন দেখেছিলাম। হায়! অনেক বেশি চেয়েছিলাম বলে কি অনেক বেশি না পাওয়ার বেদনায় জর্জরিত হতে হলো। কী চেয়েছিলাম আর কী পেলাম? ব্রাজিলীয় ফুটবল যে এতটা দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে, সেটা বোধকরি বুঝতে পারিনি। কত কত শিল্পীর পায়ের তুলিতে আঁকা হয়েছে ব্রাজিলীয় ফুটবলের প্রচ্ছদপট, সেই ফুটবল আজ কোথায়? আমি তো ব্রাজিলীয় ফুটবলের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখি না। জিতলে ভাল, না জিতলেও বড় কোনো আক্ষেপ নেই। যে ব্রাজিলকে ভালবেসেছি, সেই ব্রাজিলের খেলা দেখিনি, যখন খেলা দেখেছি, তখন তো চ্যাম্পিয়ন হতে দেখিনি। দেখেছি হৃদয়নিংড়ানো ভালবাসার ডালি সাজিয়ে নান্দনিক ফুটবলের সৌন্দর্য উপহার দিয়ে ব্যর্থতার হাহাকার নিয়ে বছরের পর বছর ফিরতে। ব্রাজিল হয়তো চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি, কিন্তু ব্যর্থ সেই দল ও দলের খেলোয়াড়রা হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছেন। যে ভালবাসা চ্যাম্পিয়ন দলও আদায় করে নিতে পারেনি। বিশ্বকাপ জয়ী ডুঙ্গার চেয়ে বিশ্বকাপ জিততে না পারা সক্রেটিসই ভালবাসা, সম্মান ও সমাদর পেয়ে আসছেন। সবসময় চেয়েছি ফুটবল মাঠে আনন্দের পসরা সাজিয়ে ব্রাজিল জয় করুক ফুটবল অনুরাগীদের মন। যেভাবে ব্রাজিল হয়ে উঠেছে ফুটবলের দেশ, যেভাবে ব্রাজিল হয়ে উঠেছে ভালবাসার দেশ, যেভাবে ব্রাজিল হয়ে উঠেছে ফুটবলীয় উৎসবের দেশ, এবারও তো সেই ব্রাজিলকে দেখতে চেয়েছিলাম। ফুটবলে তো তা পেলামই না, গ্যালারির সেই সাম্বাইবা কোথায়? প্রতিটি ম্যাচেই স্টেডিয়ামের গ্যালারি রকমারি ফুলের বাগান হয়ে উঠলেও দেখতে পাইনি ব্রাজিলের দুনিয়াখ্যাত সাম্বা নৃত্য। গ্যালারিতে হলুদ আর সাজের বাহার থাকলেও দেখা যায়নি সাম্বা নৃত্যের ছিটেফোঁটাও। ব্রাজিলীয় ফুটবল যেভাবে হারিয়ে ফেলেছে তার শিল্প, তার সৌন্দর্য, তার আভিজাত্য, সাম্বা নাচেরও কি এখন তেমন দুর্দিন যাচ্ছে? এটা কী করে সম্ভব? বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে যে সাম্বার ছন্দে ও দোলায় ব্রাজিল অনেক বেশি কল্লোলিত হওয়ার কথা ছিল, সেই ব্রাজিলকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে তাদের জীবন আন্দোলিত হয় সাম্বায়। ফুটবল আর সাম্বা তো তাদের বেঁচে থাকার জীয়নকাঠি। আনন্দের স্বর্ণখনি। তাহলে বিশ্বকাপের এই মহোৎসবে কোথায় সাম্বা?

I'm dreaming of a life
with no regrets.
I'm dreaming of a
sun that never sets.
That burns my heart and
takes my feels apart.
I'm dreaming of Brasil.

না, এখন আর ব্রাজিলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি না। ব্রাজিল আমার হৃদয়টাকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। আমার অনুভূতিকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। অনুতাপের আগুনে ছটফট করছি। এ ছাড়া আর কী বা করার আছে? ধুঁকতে ধুঁকতে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠতে দেখলাম ছন্দহীন ব্রাজিলকে। সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে দেখলাম কলঙ্কিত ব্রাজিলকে। আর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দেখলাম দিশাহীন ব্রাজিলকে। এমন ব্রাজিলকে কখনোই দেখতে চাইনি। যে ব্রাজিলের স্বপ্ন দেখেছিলাম, স্বপ্নের সেই ব্রাজিলের যেন মৃত্যু হয়েছে। ভেবেছিলাম ফুটবলে যে ব্রাজিলের সূর্য অস্ত যাবে না, সেই ব্রাজিলেই দেখতে পেলাম অস্তগামী সূর্যের হলুদ বিষণ্ন আভা। তাতে বোধহয় লেখা হয়ে গেছে ব্রাজিলীয় আনন্দময়, গতিময় ও ছন্দময় ফুটবলের এপিটাফ। জানি না, এ জীবনে স্বপ্নের, কল্পনার আর ভালবাসার সেই ব্রাজিলকে আর ফিরে পাব কিনা?

(দ্য রিপোর্ট/ডিএম/এএস/সিজি/আরকে/জুলাই ১৩, ২০১৩)

dulalmahmud@yahoo.com

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

শ্যূট আউট এর সর্বশেষ খবর

শ্যূট আউট - এর সব খবর



রে