thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫,  ১০ মহররম ১৪৪০

যে কারণে জয় পেয়েছে জার্মানি

২০১৪ জুলাই ১৪ ২০:০১:৩৬
যে কারণে জয় পেয়েছে জার্মানি

স্পোর্টস এডিটর, দ্য রিপোর্ট : জার্মান কোচ জোয়াকিম লোর শেষ অস্ত্র প্রয়োগেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। ক্লোজের মতো গোলের মধ্যে থাকা সিনিয়র ফুটবলারকে বসিয়ে গোৎজের মতো নবীস ফুটবলারকে নামানো মাস্টার স্ট্রোক। বলা যায় বিশ্বকাপ ফাইনালের টার্নিং পয়েন্ট। গোৎজেকে বলা হচ্ছিল জার্মানির মেসি। ওকে দলে নেওয়ার পর প্রচুর লেখালেখি হচ্ছিল। সবাই আশা করেছিলেন, ও সুযোগ পেলে চমকে দেবে। বায়ার্নের হয়ে বুন্দেশলিগায় দুর্দান্ত খেলেছে গোৎজে। সে জন্যই সবার প্রত্যাশা আরও বেড়ে গিয়েছিল। বিশ্বকাপে ও নিজের জাত চিনিয়ে গেল জার্মানির জার্সি পরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গোলটা করে। গোৎজে নামার পর কার্যত কোনো পজিটিভ স্ট্রাইকার ছিল না জার্মানির টিমে। ৬ মিডফিল্ডার ও ৪ ডিফেন্ডার নিয়ে ফলস নাইন খেলে ৪ নম্বর বিশ্বকাপটা নিয়ে গেল জার্মানি। যেটা স্পেন গত বার করেছিল। ফলস নাইন-এর অর্থ কোনো স্ট্রাইকার ছাড়াই খেলা। যেখানে মাঝমাঠ থেকেই পুরো আক্রমণটা তৈরি হয়, বিপক্ষ ডিফেন্স বুঝতে পারে না ৬ মিডিওর মধ্যে কাকে ছেড়ে কাকে ধরবে। নির্ধারিত সময়ে গোল না হওয়ায় লো ফিরে গিয়েছেন গ্রুপ লিগের পর্তুগাল ম্যাচের ফর্মেশনে। ৪-৩-৩ ছকে। যে ম্যাচাটায় কোনো পজিটিভ স্ট্রাইকার না থাকা সত্ত্বেও ৪ গোলে জিতেছিল জার্মানি।

জার্মানির খেদিরার না থাকাটা ক্ষতি করে দিয়েছিল। মাঝমাঠে ও ই সেরা ফুটবলটা খেলছিল জার্মানির হয়ে। প্রস্তুতির সময় চোট পেয়েছে বলে তাকে নামাননি জোয়াকিম লো। খেদিরার জায়গায় ক্রামারকে নামালেও সেও চোট পেয়েচিল। পরে আবার শুরলেকে নামাতে হয়েছে। জার্মান টিমটা এতটাই ব্যালান্সড যে খেদিরার অনুপস্থিতি বাকিরা সামলে নিয়েছে।

ব্রাজিল ম্যাচে লো যেমন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলিয়েছিলেন, ফাইনালেও সেই স্ট্র্যাটেজি থেকে সরেননি। একইভাবে যুদ্ধে পাঠিয়েছেন দলকে। আর্জেন্টিনা ১৮ গজ বক্সের মধ্যে অন্তত ৫ জন ফুটবলার সবসময় রেখেছে। মুলার-ক্লোসেকে আটকাতে। জার্মানির উইং প্লে ভাল হলে গোলটা নব্বই মিনিটেই হয়ে যেত। সেই চেষ্টাটা অবশ্য শেষ পর্যন্ত চালিয়ে গিয়েছে ওজিল-ক্রুসরা। বিশ্বকাপের ফাইনাল বলে কথা। চাপের মধ্যে ছিল দু’দলই। তা সত্ত্বেও স্ট্র্যাটেজি ও মগজাস্ত্রের ঝলক দেখা দিয়েছে বারবার। শেষ পর্যন্ত টিম গেমে এবং জোয়াকিমের এক চালে মেসিদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

মাঝমাঠের দখল সবসময়ই জার্মানির ছিল। ফলে বল পজেশনেও এগিয়ে ছিল জার্মানি। মেসিরা কাউন্টার-অ্যাটাক নির্ভর ফুটবল খেলছে। তবে আর্জেন্টিনা তুলনামূলক বেশি সুযোগ পেয়েছে। এই ধরনের ম্যাচে এক বা দু’বার এ রকম গোলের সুযোগ আসে। তা থেকেই ফায়দা তুলে নিতে হয়। যেটা মেসিরা না পারলেও জার্মানি পেরেছে।

মেসিকে জোনাল মার্কিং করে রাখা হয়েছিল। ও বল ধরলেই অন্তত তিনজন ওকে ঘিরে ধরেছে বারবার। তার মধ্যেও মেসি দুটো ভাল বল বাড়িয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও মেসি একটা সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু তাও সে কাজে লাগাতে পারল না। মেসির দুরন্ত গতি মাঝে মধ্যেই সমস্যায় ফেলেছে জার্মান রক্ষণভাগকে।

খেদিরা না থাকায় লো যদি উপর দিকে লামকে তুলে আনতেন, তা হলে জার্মানির সুবিধা হত। সোয়াইনস্টাইগারকে সম্ভবত বলা হয়েছিল মেসির ওপর নজর রাখতে। সে জন্যই জার্মানি মাঝমাঠে পুরোটা ছড়িয়ে না খেলে ভিতর দিয়ে বল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিতল লো-র স্ট্র্যাটেজিই। তিনিই ওস্তাদো কা ওস্তাদ হয়ে গেলেন এই বিশ্বকাপে। সেরা কোচের মুকুট উঠল তারই মাথায়।

(দ্য রিপোর্ট/এএস/আরকে/জুলাই ১৪, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

M

M

SMS Alert

বিশ্বকাপ ফুটবল এর সর্বশেষ খবর

বিশ্বকাপ ফুটবল - এর সব খবর



রে