thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

উধার তাজউদ্দীন নেহি হতি তো

২০১৪ জুলাই ২২ ১৯:২৫:৫৬
উধার তাজউদ্দীন নেহি হতি তো

তোমলোগ বহুত খোশনসিব যো তুমকো মুজিব যাইসি লিডার মিলি অউর মুজিব বি বহুত খোশনসিব যো উসকো তাজউদ্দীন যাইসি লেফটেন্যান্ট মিলি। আগার সেভেন্টিওয়ানমে উধার তাজউদ্দীন নেহি হতি তো শায়েদ হিস্ট্রি অউর বি কুছ হো সাকতা (তোমরা সৌভাগ্যবান যে তোমাদের মুজিবের মতো নেতা ছিল। আর মুজিবও সৌভাগ্যবান যে তার তাজউদ্দীনের মতো একজন সহযোগী ছিল। ১৯৭১-এ যদি ওখানে তাজউদ্দীন না থাকতেন, তাহলে ইতিহাস অন্য কিছুও হতে পারত)। একজন পাকিস্তানি জেনারেলের মুখে এ কথা শুনে আমার রীতিমতো মাথা টলতে শুরু করেছিল।

১৯৯২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের ছাত্র হিসেবে সার্ক শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে আমার সুযোগ হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান সফরের। পূর্ব পাকিস্তানের এক সময়ের গভর্নর লে. জেনারেল (অব.) আজম খান জেনেছিলেন বাংলাদেশের এ ছাত্র প্রতিনিধি দলের সফরের বিষয়ে। এক বিকেলে আমাদের সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তার বাড়িতে চা-চক্রে। বাংলাদেশ আর বাঙালি নিয়ে তার স্মৃতিচারণ করলেন।

আজ ২০১৪ সালে এসে এটুকু অন্তত বুঝি যে, কী কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে বিশ্ব রাজনীতির এক জটিল সমীকরণকে বিবেচনায় নিয়ে আমাদের জাতিরাষ্ট্রের জন্য একটা নিরাপদ সার্বভৌম ঠিকানা খুঁজে দিয়েছিলেন একজন তাজউদ্দীন আহমদ। সেই পরীক্ষায় দেশি-বিদেশি সকল বিরুদ্ধবাদী শক্তিকে ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি সফল হয়েছিলেন। কিন্ত স্বাধীন দেশ অর্জনের পরে সেই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র আর মোকাবিলা করা যায় নাই। তার আদর্শবাদী পরামর্শ গৃহীত হওয়ার বদলে উল্টো তাকেই দায়িত্ব পালনের সুযোগ ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।

জাতির জন্মের জন্য তিনি যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন সেই তুলনায় আমরা তাকে তার প্রাপ্য সম্মানের প্রায় কিছুই দেইনি। জেলখানায় আরও তিন নেতার সাথে বন্দি অবস্থায় ঘাতকের হাতে নির্মমভাবে নিহত হবার কারণে তার দল আওয়ামী লীগ হয়ত গতানুগতিকভাবে প্রতিবছর তাকে/তাদের স্মরণ করে ঠিকই। কিন্তু এর বাইরে কী দেখি আমরা? রাষ্ট্রের যে ইতিহাস আমরা পাঠ করি সেখানে বঙ্গবন্ধুর পরে কোথায় তাজউদ্দীন? ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর বা ১৯৭২-এর ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ইতিহাসের কথা বলি, ১৯৭১ সালের ১-২৫ মার্চ পর্যন্ত ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলন পরিচালনার কথা বলি, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের আগে বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছায় তাজউদ্দীনে মুক্তিলাভের এবং আইউবের গোলটেবিলে তার ভূমিকার কথা বলি বা তারও আগের ঐতিহাসিক ৬ দফা নিয়ে প্রকাশ্যে মুজিব-ভুট্টো বিতর্ক আয়োজনে তার নেপথ্য ভূমিকার কথা চলমান ইতিহাসে কোথায়? বা তারও আগের আরও আরও ভূমিকার কথা কোথায়?

হ্যাঁ, এ কথাও সত্যি যে, বিভিন্ন সরকারের আমলে বিকৃত ইতিহাস চর্চার মোকাবিলায় কিছু ইতিহাস অনুসন্ধানী মানুষের সৎ ইতিহাস চর্চায় সত্যিকারের বাংলাদেশকে খুঁজে পাবার চেষ্টা চলছে। সেই বাংলাদেশকে খুঁজতে যেয়ে বঙ্গবন্ধুর ঠিক পরেই যিনি বের হয়ে আসছেন তিনি তাজউদ্দীন আহমদ। তাই বিশ্বাস করি যে, সর্বসাধারণের কাছে তাকে তুলে ধরা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জাতীয় মন-মানস-চেতনা তৈরির জন্যই অতি জরুরি একটা বিষয়।

(দ্য রিপোর্ট/এনডিএস/সা/জুলাই ২২, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর