thereport24.com
ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
এম এম আকাশ

অধ্যাপক

‘তাজউদ্দীন আহমদের চিঠি’ ইতিহাসের মিসিং লিংক

২০১৪ জুলাই ২২ ২২:২২:৪৪
‘তাজউদ্দীন আহমদের চিঠি’ ইতিহাসের মিসিং লিংক

তাজউদ্দীন আহমদ মাত্র ৫০ বছর তিন মাস ১০ দিন বেচেঁছিলেন। এ অল্প সময়ে তিনি এমন একটা ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করে গেছেন যাকে বাদ দিলে আমাদের সমগ্র ইতিহাসই অসম্পূর্ণ হয়ে যায়। অন্য কথায় বললে তাকে বাদ দিয়ে আমরা কিছুতেই ইতিহাস রচনা করতে পারব না। তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্ব দান।

আত্মপ্রচারবিমুখ তাজউদ্দীন আহমদ সম্পর্কে নেতিবাচক কথা শোনা যায় না। সর্বত্রই আমরা তার প্রশংসা শুনি। ‘তাজউদ্দীন আহমদের চিঠি’ বইতে তাজউদ্দীন আহমদের নিজের লেখায় নিজের মূল্যায়নের একটি বিষয় আমরা দেখতে পাই। তিনি মালেক নামের একজনকে ১৯৫৫ লিখছেন, ‘আমার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ওঠা-বসা থেকে আশা করি আমার সম্পর্কে আপনার অন্তত এটুকু ধারণা হয়েছে যে, আমি যে কোনো ধরনের তোষামোদকে ঘৃণা করি। একই সঙ্গে আমার শত্রুও যদি প্রশংসা কিংবা কৃতিত্বের দাবিদার হয় তাকেও তার প্রাপ্য দিতে কার্পণ্য করি না।’

দুটোই খুব ঠিক মূল্যায়ন। তিনি কোনো তোষামোদকে প্রশ্রয় দিতেন না। এমনকি শত্রুও ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করতেন। এই গুণ এখন আর দেখা যায় না। আরও স্পষ্ট করে যদি বলি, এই গুণ আমাদের রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকে দূরীভূত হয়েছে।

‘তাজউদ্দীন আহমদের চিঠি’ বইতে আমরা বিভিন্ন ধরনের চিঠি দেখতে পাই। সেখানে রাষ্ট্র প্রধান থেকে শুরু করে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী লাভলীর চিঠির দেখাও আমরা পাই। এ সব চিঠিতে ইতিহাসের অনেক মিসিং লিংক পাওয়া যাবে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের চিঠিগুলো আমাদের ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে।

তাজউদ্দীন আহমদ নিঃসন্দেহে মেধাবি ছিলেন। তার একাডেমিক ফলাফলেও বোর্ডে মেধাস্থান রয়েছে। তার প্রতিদিনের ডায়েরিগুলো খেয়াল করলে দেখা যায়, মুক্তার অক্ষরে যেন তিনি ইতিহাসকে ধারণ করেছেন। যেন বিন্দুতে সিন্ধু দর্শন। তবে বঙ্গবন্ধু যেভাবে বাগ্মীতা দিয়ে মানুষের মধ্যে আলোড়ন তৈরি করতে পারতেন সেই বাগ্মীতা হয়ত তার ছিল না, কিন্তু তাজউদ্দীন আহমদের সচেতনতাবোধ ছিল প্রচণ্ড। যেন তিনি ভবিষ্যতকে দেখতে পান। আলোচ্য বইতে নতুন একটি লেখা যুক্ত হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, ভারত থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকালে বাংলাদেশ সরকার গঠিত পরিকল্পনা সেলের সঙ্গে তিনি আলোচনা করছেন। তারা আলোচনা করছেন, মুক্তিযুদ্ধে তো আমরা জয়লাভ করব। জয়লাভের পর কী ধরনের বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই যে বাংলাদেশ তিনি গড়ে তুলতে চান তার স্বপ্নের বীজ বপন করছেন। সেগুলো পড়লে আশ্চর্যজনকভাবে মনে হয় সেই কথাগুলো যেন এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সেখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা আলোচনা করছেন, প্রচলিত গণতন্ত্র বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না। আমাদের চাই লিভিং ডেমোক্রেসি।

নব প্রজন্ম যদি তাজউদ্দীন আহমদের এ সব ভাবনা জেনে-পড়ে গ্রহণ করে তাহলে হয়ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব আমরা। জানি না, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই সুযোগ দেবে কিনা?

[১৯ জুলাই ২০১৪ ‘তাজউদ্দীন আহমদের চিঠি’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে দেওয়া এম এম আকাশের বক্তব্য (সংক্ষেপিত)]

(দ্য রিপোর্ট/এনডিএস/এএল/জুলাই ২২, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর