thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫,  ১০ মহররম ১৪৪০

তাজউদ্দীন আহমদের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী বুধবার

২০১৪ জুলাই ২৩ ১৩:১০:৪৬
তাজউদ্দীন আহমদের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী বুধবার

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ৮৯তমজন্মবার্ষিকী ২৩ জুলাই বুধবার। স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এই নেতার এবারের জন্মদিন উপলক্ষে গত ১৮ জুলাই ধানমন্ডির গ্যালারি টোয়েন্টিওয়ানে তার কর্মময় জীবনের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। ১৯ জুলাই প্রকাশিত হয়েছে ‘তাজউদ্দীন আহমদের চিঠি’ বইটি।

তাজউদ্দীন আহমদ ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলভী মুহাম্মদ ইয়াসিন খান ও মা মেহেরুন্নেসা খানম। তারা ছিলেন চার ভাই ও ছয় বোন।

শিক্ষাজীবনে দুর্দান্ত মেধাবী তাজউদ্দীন নিয়মিত সাধারণ পড়াশোনার পাশাপাশি কোরআনের হাফেজ ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তিনি সিভিল ট্রেনিং নেন। স্কুলজীবন থেকেই সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। রাজনীতির কারণে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষার পর একাধিকবার নিয়মিত অধ্যয়নে ছেদ পড়ে। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। বেছে নেন আইন পেশা।

১৯৫৯ সালে সৈয়দা জোহরা খাতুনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ১৯৪৪ সালে তাজউদ্দীন আহমদ বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ (বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগ (বর্তমানে আওয়ামী লীগ) প্রতিষ্ঠারও অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তাজউদ্দীন।

১৯৫৩ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকির আবদুল মান্নানকে ১৪ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে এমএলএ নির্বাচিত হয়েছিলেন তরুণ তাজউদ্দীন আহমদ।

তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৫৫ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও ১৯৬৪ সালে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত বাঙালির মুক্তির সনদ ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছয় দফার অন্যতম রূপকার ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। ১৯৬৭ সালে তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অসহযোগ আন্দোলনের সাংগঠনিক দিকগুলো অসাধারণ দক্ষতায় সম্পন্ন করতেন তাজউদ্দীন আহমদ। অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানি জান্তাদের সঙ্গে ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর অন্যতম আস্থাভাজন সহযোগী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।

২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তার আক্রমণে দিশেহারা বাঙালি জাতির দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ভারতে যান তিনি। ১০ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন হলে সর্বসম্মতিক্রমে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের নতুন অধ্যায়। শত বাধা অতিক্রম করে জাতিকে স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেন এই মহান নেতা।

স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর কেবিনেটে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছা অনুযায়ী ১৯৭৪ সালের ২৬ অক্টোবর পদত্যাগ করেছেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেল হত্যাকাণ্ডে নিহত হন তাজউদ্দীন আহমদ।

(দ্য রিপোর্ট/বিকে/কেএন/এজেড/জুলাই ২৩, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

তাজউদ্দীন অাহমদের জন্মদিন এর সর্বশেষ খবর

তাজউদ্দীন অাহমদের জন্মদিন - এর সব খবর



রে