thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

তাজউদ্দীন আহমদের চিঠি

২০১৪ জুলাই ২৩ ১৭:৫১:২৬
তাজউদ্দীন আহমদের চিঠি

তাজউদ্দীন আহমদের চিঠি এবং ইতিহাস কখনো আলাদ হয়ে পারে না। তরুণ বয়স থেকে রাষ্ট্র ভাবনায় বিভোর এই মানুষটির হাত দিয়েই ১৯৭১ সালে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। গত ১৯ জুলাই ‘তাজউদ্দীন আহমদের চিঠি’ শিরোনামে মহান এই রাষ্ট্রনায়কের চিঠি সংবলিত একটি বই প্রকাশ করেছেন তারই সুযোগ্য কন্যা সিমিনি হোসেন রিমি। সেই বই থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি নিয়ে দ্য রিপোর্টের এই আয়োজন…





মন্ত্রিসভা
থেকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে তাজউদ্দীন আহমদকে লেখা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিঠি

প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা,

২৬শে অক্টোবর, ১৯৭৪

প্রিয় তাজউদ্দিন আহম্মদ

বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে আপনার মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত থাকা সমীচিন নয় বলে আমি মনে করি। তাই আপনাকে আমি মন্ত্রী পদে ইস্তাফা দেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এই সাথে আপনার স্বাক্ষরের জন্য পদত্যাগপত্র পাঠানো হ’ল।

ইতি

স্বাক্ষর

( শেখ মুজিবুর রহমান)

২৬/১০/৭৪

সময়-সকাল ১১টা

জনাব তাজউদ্দিন আহমদ,

মন্ত্রী, অর্থ এবং বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়।

………………………………………………………………………………………............

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা তাজউদ্দীন আহমদের পদত্যাগপত্র

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধাবের ৫৮(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মন্ত্রী পদ হইতে ইস্তফা দিলাম। আমার এই পদত্যাগপত্র মাননীয় রাষ্ট্রপতি সমীপে পেশ করিলে বাধিত হইব।

বিনীত

স্বাক্ষর

(তাজউদ্দীন আহমদ)

২৬/১০/-৭৪

সময়: ১২:২২

মাননীয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

প্রধানমন্ত্রী,

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।

………………………………………………………………………………………............

স্বাধীন বাংলাদেশ

কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ

মুজিবনগর/বাংলাদেশ

তারিখ : ২৫/০৭/৭১

মাননীয়

প্রধানমন্ত্রী,

বাংলাদেশ সরকার

খুলনা ও যশোর জেলার সীমান্তে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শন করে উক্ত ক্যাম্পগুলির অবস্থা বর্ণনা করা হইতেছে।

(১) বনগার নিকটবর্তী টালিখোলা ক্যাম্পে যেখানে ২০০ জনের থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা আছে সেখানে বর্তমানে ৪২০ জনে পৌঁছেছে।

অতয়েব-

(ক) থাকার যায়গার সংকুলান না হওয়ায় সেখানে অনতিবিলম্বে তাঁবু পাঠানোর প্রয়োজন।

(খ) উক্ত ক্যাম্পে ১ মাস বা ততোধিক কাল অবস্থান করতে হয়। সেখানে তেল, সাবান, গামছা, লুংগির কোন ব্যবস্থা নেই।

এগুলি অনতিবিলম্বে পাঠানো দরকার।

(গ) খাওয়ার ব্যবস্থা মোটেই ভাল নয়। এক মাসের মধ্যে কোনো মাছ মাংস দেওয়া হয় নাই। সকালের নাস্তা ছাতু দেওয়া হয়। ওষুধের প্রয়োজন।

(২) (ক) টাকিপুর ক্যাম্পে ২০০ সতরঞ্জি, প্লেট, মগ ও কম্বলের বিশেষ প্রয়োজন।

(খ) ঔষধের বিশেষ প্রয়োজন।

(৩) দক্ষিণ বাগুন্ডি (টাকি)- এখানে ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি ক্যাম্প কয়েক দিন হলো খোলা হয়েছে। এই ক্যাম্পের অবস্থা চক্ষে না দেখলে বিশ্বাস করা সম্ভব নয়।

(ক) ২০শে জুলাই এই ক্যাম্পে ২৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা (গেরিলা ট্রেনিংপ্রাপ্ত) উপস্থিত হয়। অথচ তাদের জন্য কোনো খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। ৫ মাইল দূর থেকে তাদের খাবার তৈরি করে আনতে হয়। সকালের খাবার রাত্রিতে আসে রাতের খাবার পরের দিন আসে এবং তাও পর্যাপ্ত নয়। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের গায়ের জামাকাপড় বিক্রি করে বাহির থেকে সামান্য খাবার কিনে কোনোভাবে জীবন ধারণ করছে।

(খ) ক্যাম্পটি সীমান্তের অত্যন্ত কাছে থাকা সত্ত্বেও সেখানে তাদের জন্য কোন প্রকার নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই।

(গ) একজন ডাক্তার ও ঔষধের বিশেষ প্রয়োজন।

(৪) গোজাডাংগা- এই ক্যাম্পে ১৫০ জন ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা (গেরিলা) উপস্থিত। অথচ তাদের থাকার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অবশেষে একটি জংগল পরিষ্কার করে তারা থাকার ব্যবস্থা করে। বৃষ্টি হলেই তাঁবুর ভিতর পানি ও কাদা হয়। মাটিতে বিছানোর কোন প্রকার ত্রিপল নেই। মশার উৎপাতে দিনে থাকা সম্ভব নয়- অথচ কোন মশারি নেই। অতয়েব অনতিবিলম্বে- ক. মশারি, সতরঞ্জি, জুতার ব্যবস্থা করা দরকার।

(৫) হাকিমপুর- এখানে একটি ক্যাম্পে ১৫০ জন ই.পি.আর. আছে। তাদের জন্য মশারির বিশেষ প্রয়োজন।

খুলনা ও যশোর জেলার অভ্যন্তরে লোক পাঠিয়ে সংগঠনের কাজ ও মানুষের মনোবল যাতে নষ্ট না হয় তার ব্যবস্থা করা দরকার। রেজাকারবাহিনীর অত্যাচার দিন দিন বেড়েই চলেছে।

* নূর-এ-আলম সিদ্দিকী

*আ.স.ম. আবদুর রব

* শাজাহান সিরাজ

*আবদুল কুদ্দুস মাখন

………………………………………………………………………………………............

Fazlul Huq Muslim Hall

Room No. N12

P.O. Ramna, Dacca

1.9.53

Dear Malek Sahib,

আমার ছালাম গ্রহণ করিবেন। বিগত ১৯শে আগস্ট আমার পরীক্ষা শেষ হইয়াছে। ২০শে আগস্ট শ্রীপুরে যাইয়া আপনাকে খোঁজ করিয়া জানিতে পারিলাম আপনি ছুটিতে গিয়াছেন। তারপর আহমদ সাহেব বললেন যে আপনি চট্টগ্রামে চলিয়া গিয়াছেন। ঠিকানা জানিতে পারি নাই বলিয়া সংবাদ লইতে পারি নাই। গত ২৭শে আগস্ট বিকালে ঢাকায় পৌঁছিয়াছি। ৩০শে বিকালে আপনার পত্র পাইয়াছি। সময়ের ব্যবধানে অবস্থা এবং অবস্থান উভয়েরই ব্যবধান হওয়া অস্বাভাবিক নয়; অনেক সময় মানসিক ব্যবধানও বিচিত্র নয়। কিন্তু শেষ ব্যাপারটা পীড়াদায়ক এবং একবার ঘটিয়া গেলে পুনঃ সংস্থাপন একপ্রকার অসম্ভব, যেমন মানুষের মন একবার স্থানচ্যুত হইলে জড় পদার্থের ন্যায় খাঁজে খাঁজে মিলিতে চায় না।

প্রচেষ্টা আত্ত্বিক সংযোগ গড়িয়া তুলিতে অপারগ। বিভিন্ন জলস্রোতের গন্তব্যস্থল এক হইলে গতিপথ স্বতন্ত্র থাকা সত্ত্বেও তারা মিলিত হইবে মহান এক আধারে, মহাসাগরে। সিন্ধু এবং ওয়েজারের মুখোমুখি হওয়া যেমন অসম্ভব, গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্রের যোগসূত্র বিচ্ছিন্ন করা ততোধিক অসম্ভব। গন্তব্যস্থান এক হইলে সহযাত্রী না হইতে পারিলেও সহচর একদিন হইতেই হইবে। আপনাদের সঙ্গে আমার পরিচিতি ঘটাটা একটা আকস্মিক ব্যাপার। কিন্তু ইহা আমার মনে দাগ কাটিয়াছে খুব গভীরভাবে। জীবন স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াটা ছিল আমার পক্ষে অত্যন্ত ভয়ের কারণ; যথাসম্ভব এড়াইয়া চলার চেষ্টাও করিয়াছি। চলার পথে পাইয়াছি হয় অতিমাত্রার শাসন না হয় অযাচিত অপরিমিত স্নেহ। উভয়ই এককভাবে জীবনকে একঘেয়ে করিয়া তোলে। যে-দিন উভয়ই সংমিশ্রিত হইয়া “স্নেহ এবং শাসন” এর স্ব স্ব প্রভাব ত্যাগ করিয়া এক নূতন ‘নেতৃত্ব’ আকারে দেখা দিলে সে-দিন হার মানিতে হইল তাহার কাছে। মনে করিয়া দেখুন, যখন আমরা খাওয়া-দাওয়া ভুলিয়া গিয়া, কি দিনে, কি রাত্রিতে, ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাইয়া দিতাম দাবা খেলার নেশায় তখন আমার বোনটির শাসনই আমাদেরকে প্রকৃতিস্থ করিত। আপনি হয়তো তখন সংকোচ বোধ করিতেন আমার জন্য। কিন্তু এই শাসনই দূরে না ঠেলিয়া বরং আপনাদের কাছেই টানিয়াছে। গর্জ্জনের পর বর্ষণ, সব শান্ত। আমার বোনটির উপর এত দৌরাত্ম্যের পরও তিনি কত কষ্ট করিয়া আমাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করিতেন। কত অসময়ে তিনি নিজের আয়াস বিসর্জ্জন দিয়া আমার খাওয়ার ব্যবস্থা করিয়াছেন তাহা এত অল্প সময়ে ভুলিয়া যাওয়া কোনোদিন সম্ভব হইবে না। পক্ষান্তরে আমি কি করিয়াছি? আমার সংস্পর্শে অনেক পবিত্র পরিবেশ, সুবিমল আবহাওয়া সংক্রামিত করিয়া বিষাইয়া তুলিয়াছে।

আপনার ওখানে যাইতে সত্যি মন চায়। কিন্তু ফুরসৎ হইবে কিনা জানি না। কাসেম সাহেব এখন ঢাকায় নাই, কোথায় আছেন তাহা আপাততঃ জানি না। হয়তো তিনি একবার আমার কাছে আসিতেও পারেন। কারণ তাঁর অনেকগুলো বই আমার নিকট রহিয়াছে।

মকসুদ বিশ্বাসের মোকদ্দমা সেসনস্এ গিয়াছে বলিয়া শুনিয়াছি।

আমার পরীক্ষার ফল প্রকাশ হইতে দেরী আছে। হয়ত নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রকাশ হইতে পারে। তার আগে Viva-voce হইবে। আমি ঢাকায় থাকিতে চেষ্টা করিব। আসিলে অবশ্য দেখা করিবেন। পিয়ার, শেলী ও বাহারকে আমার স্নেহাশীষ দিবেন। বোনকে শুধু ছালাম পাঠাইয়া ক্ষান্ত হইতেছি না, তার সঙ্গে উপদ্রবের নোটিশও গাঁথিয়া দিলাম। আজিকার মত এখানেই শেষ। ইতি-

আপনারই তাজউদ্দীন

১/৯/৫৩

১১/৫৫

17Karkon Bari Lane, DA.

The 27th Feb., `55.

………………………………………………………………………………………............

আল্লাহু

১৮/৮/৭১ ইং

আজমীর শরীফ

জনাব তাজউদ্দিন আহম্মদ সাহেব,

আমার সালাম গ্রহণ করিবেন। আশা করি খোদার ফজলে খাজা বাবার দোয়ায় ভাল আছেন। আমি গরীবে নেওয়াজ খাজা মইন উদ্দিন চিশ্তির মাজার জিয়ারত প্রাক্কালে আপনার জন্য দোয়া করিয়াছি যাতে আপনার মঙ্গল হয়। দিল্লীতে সফর কালে হজরত শাহ অলি উল্লাহ্ মোহাদ্দেছিন দেহলভী, শাহ আবদুল আজিজ (রঃ), হজরত কুতুব উদ্দিন বখতিয়ার কাফী, হজরত নাছির উদ্দিন চেরাগ দিল্লী, হজরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়া প্রমুখ আউলিয়ার মাজার জিয়ারত প্রাক্কালে বাংলার প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমান এর মুক্তি ও আওয়ামী লীগের সকল কর্মীর জন্য দোয়া করিয়াছি। আশা করি খোদার ফজলে খাজা বাবার দোয়ার বরকতে শেখ মুজিব মুক্তি লাভ করিবেন। আমার জন্য দোয়া করিবেন যেন বাগদাদ শরীফ ও মদিনা মনওয়ারা জিয়ারত করিতে পারি। আমি হজরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার মসজিদের ইমাম সাহেব ও অল ইন্ডিয়া বেতার কেন্দ্রের মওলানার সাথে আলাপ করিয়াছি। ইতিপূর্বে আমাদের প্রতি তাদের খারাপ ধারণা ছিল, আমি তাদেরকে বুঝাইয়া বলিয়াছি। তাঁরা এখন পাকিস্তানের তরক্কীর জন্য মুনাজাত করেন না। বিশেষ কিছু লিখলাম না। আসিলেই দেখা করিব। ইতি

নূরুল ইসলাম জেহাদী (বাংলা বেতার কেন্দ্র)

………………………………………………………………………………………............

এ,কে, মুজিবুর রহমান ফোন নং-৬১৯৭

সাধারণ সম্পাদক বগুড়া

জিলা আওয়ামী লীগ তাং-২৫/৮/৭১

My dear Tajuddin Sb.

ভক্তিপূর্ণ ছালাম জানবেন। সেবার আপনি দলবলসহ দিল্লী যাওয়ায় কোন প্রকার আলাপ-আলোচনা করতে পারিনি। তাছাড়া এত ভীড় থাকে যে আপনার সাথে কিছু মূল্যবান ও গঠনমূলক আলোচনা করার সময়ও হয়ে উঠে না-যা নাকি হতো ঢাকায়। রাস্তা বন্যার জন্য বন্ধ থাকায় কলকাতায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না জন্য নিম্নে কিছু Suggestion দিলাম। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে আমি যা মতামত পেয়েছি এবং আমার ব্যক্তিগত মতামতও তাই।

১। বাংলাদেশের টাকা নিয়ে এসে যারা ছিনিমিনি খেলছে তাঁদের বিরুদ্ধে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ।

২। Other then camp কাউকে Ration Card দেয়া হবে না বলে যে জিলা কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন তা নাকচ করে অল্প জায়গায় থাকলেও Card দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কারণ সবাই Camp এ থাকতে পারে না বা পারলেও কর্তৃপক্ষ তাদের জায়গা দিতে পারেন না। তাছাড়া এখনও বহু লোক ওপার থেকে আসছে।

৩। প্রত্যেক Relief camp এবং youth campগুলি বিভাগীয় মন্ত্রীর অন্তত মাসে ১ বার করে পরিদর্শন করা।

৪। যে মন্ত্রী সাহেবের কাজ একটু কম আমার মনে হয় তাঁকেই Relief & Rehabilitation এর চার্জ দেয়া ভাল।

৫। লম্বা দূরত্ব এবং কাজের সুবিধার জন্য বহরমপুর ও মালদা এবং বালুঘাট, ইসলামপুর ও রায়গঞ্জ মিলে দুটো zonal office হওয়া দরকার।

৬। ছোট বড় সব office থেকে ঠিকমত মাহিনা দেয়া নতুবা ওপারে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অধিক আর কী। ছেলেমেয়ে নিয়ে এখানে খুব কষ্টের মধ্যে আছি। সকলের অসুখ। চিকিৎসার উপায় নেই। আশা করি ভাল আছেন। ইতি

আপনারই

এ.কে. মুজিবুর রহমান  

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

তাজউদ্দীন অাহমদের জন্মদিন এর সর্বশেষ খবর

তাজউদ্দীন অাহমদের জন্মদিন - এর সব খবর