thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫,  ১৪ মহররম ১৪৪০

তাজউদ্দীন আহমদের সংক্ষিপ্ত জীবনী

২০১৪ জুলাই ২৩ ১৮:০০:১৩
তাজউদ্দীন আহমদের সংক্ষিপ্ত জীবনী

এই সময়ে তাজউদ্দীন আহমদকে জানা ও জানানো জরুরি। সিমিনি হোসেন রিমি সম্পাদিত তাজউদ্দীন আহমদের আলোকভাবনা বই থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের এই সংক্ষিপ্ত জীবনী সংকলন করা হয়েছে।

তাজউদ্দীন আহমদের জন্ম ২৩ জুলাই ১৯২৫ সালে। ঢাকা থেকে সড়কপথে ৮২ কিলোমিটার দূরবর্তী কাপাসিয়া থানার দরদরিয়া গ্রামে। তাঁর বাবা মৌলভি মুহাম্মদ ইয়াসিন খান ও মা মেহেরুন্নেসা খানম। তাঁরা ছিলেন চার ভাই ও ছয় বোন। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের সন্তান হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদের শিক্ষাজীবন শুরু হয় তাঁর বাবার কাছে আরবি শিক্ষার মাধ্যমে। একই সময় তিনি ভর্তি হন বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরবর্তী ভুলেশ্বর প্রাইমারি স্কুলে। প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন প্রথম হয়ে। এ জন্য স্কুল থেকে জীবনে প্রথম ১০ পয়সা মূল্যমানের পুরস্কারও লাভ করেন- দেড় পয়সার কালির দোয়াত এবং সাড়ে আট পয়সার একটি কলম । চতুর্থ শ্রেণীতে উঠে তিনি ভর্তি হন দরদরিয়া থেকে পাঁচ মাইল দূরের কাপাসিয়া মাইনর ইংরেজি (এমই) স্কুলে। এই স্কুলে থাকার সময় তিনি তিনজন প্রবীণ বিপ্লবী নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁরা ওই স্কুলের শিক্ষকদের কাছে তাজউদ্দীন আহমদকে আরও ভালো স্কুলে পাঠানোর সুপারিশ করেন। সেই সুবাদে তাকে কালীগঞ্জের সেন্ট নিকোলাস ইনস্টিটিউশনে ভর্তি করা হয়। এখানেও তার মেধা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পরামর্শে তিনি ভর্তি হন ঢাকার মুসলিম বয়েজ হাইস্কুলে। তারপর সেন্ট গ্রেগরীজ হাইস্কুলে।

স্কুলে তাজউদ্দীন আহমদ বরাবরই প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। ষষ্ঠ শ্রেণীর এমই স্কুলারশিপ পরীক্ষায় তিনি ঢাকা জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৪৪ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় তিনি প্রথম বিভাগে দ্বাদশ স্থানের অধিকারী হন। ১৯৪৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় তিনি প্রথম বিভাগে চতুর্থ স্থান লাভ করেন। তাজউদ্দীন আহমদ পবিত্র কোরআনে হাফেজ ছিলেন, যা তিনি নিয়মিত লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার সান্নিধ্যে আয়ত্ত করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪২ সালে তিনি সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং নেন। তখন স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় কয়েক মাস নিয়মিত রাতের বেলায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। এ কাজের জন্য তিনি প্রতি রাতের জন্য সম্মানী পেতেনে ৮ আনা। তিনি আজীবন স্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তাজউদ্দীন আহমদ স্কুলজীবন থেকে রাজনীতি তথা প্রগতিশীল আন্দোলন ও সমাজসেবার সঙ্গে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এ কারণেই তার শিক্ষাজীবনে মাঝে মধ্যেই ছেদ পড়েছে। নিয়মিত ছাত্র হিসেবে পরীক্ষা দেওয়া তাঁর ভাগ্যে বড় একটা জোটেনি; তবুও রাজনীতি ও শিক্ষা তার হাতে হাত ধরে চলেছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার কারণে তার এমএ পরীক্ষা দেওয়া সম্বব হয়নি। এমএলএ নির্বাচিত হয়েও তিনি আইন বিভাগের ছাত্র হিসেবে নিয়মিত ক্লাস করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় পরীক্ষা দিয়ে তিনি আইন শাস্ত্রেও স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পেশায় তিনি আইনজীবী ছিলেন। ১৯৫৯ সালে এপ্রিলের ২৬ তারিখে তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে সৈয়দা জোহরা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের তিন মেয়ে ও এক ছেলে।

বাংলা ১৩৫০ সনের দুর্ভিক্ষে খাদ্যাভাবে অগণিত মানুষের মৃত্যুবরণ তাজউদ্দীনের মনকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। দুর্ভিক্ষ-পরবর্তী সময়ে তিনি উপলব্ধি করেন, খাদ্যাভাবে আর যাতে কেউ মারা না যায় তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এই চিন্তা থেকে তিনি গ্রামের লোকজনকে সংগঠিত করে স্থাপন করেন ধর্মগোলা, যা ছিল গ্রাম পর্যায়ে অশ্রুত এক প্রতিষ্ঠান। ফসল ওঠার মৌসুমে ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে খাদ্যশস্য এনে ওই গোলায় জমা করা হতো, যাতে আপৎকালে ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া সম্ভব হয়।

আর্তের সেবায় তাঁর কোনো ক্লান্তি ছিল না। ১৯৫৪ সালে তিনি যখন এমএলএ, তখন তাঁর গ্রামের সাইফুদ্দীন দফাদারের ছেলে আবদুল আজিজ (১৫) বন্দুকের গুলিতে আহত হয়। তখন হাসান ও অন্যদের মাধ্যমে তাকে ঢাকায় তাজউদ্দীনের কাছে আনা হয়। তিনি অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই বালককে হাসপাতালে নেন। তার জন্য তিনি নিজে ১০ আউন্স রক্ত দেন। পরে ওই বালকের মৃত্যুর সংবাদ শুনে তাজউদ্দীন আহমদ উদভ্রান্তের মতো হাসপাতালে যান এবং পোস্টমর্টেমের ব্যবস্থা করেন। এই মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছিল।

তাজউদ্দীন আহমদ নিজ প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় স্কুল প্রতিষ্ঠা ও সংস্কার করেন। সেখানে তিনি একাডেমিক শিক্ষা এবং এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিক্ষক ও ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করতেন।

ছাত্রজীবন থেকেই বাংলার মুষের মুক্তির রাজনীতির সঙ্গে তাজউদ্দীন আহমদের সম্পৃক্ততা ঘটে। ১৯৪৩ সাল থেকে তিনি বঙ্গীয় মুসলিম লীগের প্রগতিশীল অংশের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই পূর্ববঙ্গের মানুষের মুক্তির পথানুসন্ধান শুরু করেন। ১৯৪৪ সালে তিনি বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। কাউন্সিলর হিসেবে তিনি ১৯৪৫ ও ১৯৪৭ সালে দিল্লী কনভেনশনে যোগ দেন। স্বাধীনতা আন্দোলনে দলীয কর্মসূচি প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি সে সময় অবিভক্ত ভারতের বিভিন্ন অংশে প্রচারাভিযান চালান।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর থেকে ভাষার অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী যত আন্দোলন হয়েছে, তাজউদ্দন এর প্রতিটিতেই নিজ চিন্তা ও কর্মের সাক্ষর রাখেন। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ (বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) গঠিত হয় । তিনি ছিলেন এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

তাজউদ্দীন আহমদ সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ১৯৪৮ সাল থেকে ভাষার প্রশ্নে যে বিক্ষোভ ও প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে ওঠে, তিনি ছিলেন তার সক্রিয় অংশী।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ গঠিত হয়। তাজউদ্দীন ছিলেন এর মূল উদ্যোক্তাদের অন্যতম। ১৯৫৪-৫৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তরুণ তাজউদ্দীন সেই সময়ের পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকির আবদুল মান্নানকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে এমএলএ নির্বাচিত হন। নির্বাচনে তাজউদ্দীন আহমদ ১৯,০৩৯ এবং ফকির আবদুল মান্নান ৫,৯৭২ ভোট পান।

১৯৫৫ সালে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে তাজউদ্দীন আহমদ রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যও সফর করেন। ১৯৬২ সালে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশ নেন এবং কারাবরণ করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এর পরের বছরগুলো তাজউদ্দীন আহমদ এবং আওয়ামী লীগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।১৯৬৬ সালে তিনি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলীয সম্মেলনে যোগ দেন। এই সম্মেলনেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তি সনদ ছয় দফা ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, ছয় দফার অন্যতম রূপকার ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। আপন সাংগঠনিক দক্ষতা ও একনিষ্ঠতার গুণে ইতিমধ্যে তিনি বন্ধবন্ধু শেখ মুজিবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন। এ বছরই তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক পদে নির্বাচিত হন। ছয় দফার প্রচারাভিযানের সময় ১৯৬৬ সালের ৮মে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং গণ-অভ্যুত্থানের ফলে ১৯৬৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মুক্তিলাভ করেন। এরপর ১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তানে জাতীয ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তাজউদ্দীন আহমদ ওই নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

নির্বাচনের পর গণরায় অস্বীকার করে বাঙালিদের অধিকার অর্জনের দাবি নস্যাতে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ১ মার্চ ১৯৭১ পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আকস্মিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে শুরু হয় অভূতপূর্ব অসহযোগ আন্দোলন। এই অসহযোগ আন্দোলনে সাংগঠনিক দিকগুলো পরিচালনা ও জনগণের কর্তৃত্বের পরিপ্রকাশক নির্দেশাবলি প্রণয়নে তাজউদ্দীন আহমদ অতুলনীয সাংগঠনিক দক্ষতা প্রদর্শন করেন। অসহযোগ আন্দোল চলাকালেই পাকিস্তানের সামরিক শাককদের সঙ্গে ঢাকায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই আলোচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আস্থাভাজন সহযোগী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ অতুলনীয় বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতার পরিচয় দেন।

২৪ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সংকট নিরসনের জন্য চূড়ান্ত বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে বৈঠক আর অনুষ্ঠিত হয়নি। বরং ২৫ মার্চ সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান এবং তাঁর আলোচক ও সহযোগীরা কাউকে কিছু না জানিয়ে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকেই ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে শান্তিপ্রিয় জনগণের ওপর পরিচালিত হয় গণহত্যার পূর্বনিধারিত কর্মসূচি। এমন বিশ্বাসঘাতকতার নজির পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ইয়াহিয়ার নির্দেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশে শুরু করে গণহত্যাযজ্ঞ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বঙ্গবন্ধু অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বের মূল দায়িত্ব অর্পিত হয় তাজউদ্দীন আহমদের ওপর। ১০ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে তিনি সর্বসম্মতভাবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং ওই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা স্থানীয় জনগণ এবং শত শত দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও প্রচারমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। শুরু হয় বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। বাংলাদেশের ইতিহাসের ঐতিহাসিক এই সন্ধিক্ষণে তাজউদ্দীন আহমদের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয। চরম প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে অতি অল্প সময়ের মধ্যে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সামরিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক বিষয়াদিসহ সব দিক সংগঠিত করে তোলেন। তাঁর সফল নেতৃত্বে বাংলাদেশ মাত্র নয় মাসেই মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে। মুক্তিযুদ্ধকালে তাঁর ত্যাগ, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও স্বদেশপ্রেম সবাইকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে। মুক্তিযুদ্ধে সফল নেতৃত্বদানকে তাজউদ্দীন আহমদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে নির্দ্বিধায় অভিহিত করা চলে।

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর তাজউদ্দীন আহমদ বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়, সেই মন্ত্রিসভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রী হিসেবে আত্মনির্ভর বিকাশমান অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য তিনি বিশেষ সচেষ্ট ছিলেন। ১৯৭৪ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি মন্ত্রিত্বের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ক্ষমতা দখলকারী ঘাতকদের হাতে সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একই দিন সকালে তাজউদ্দীন আহমদকে গৃহবন্দি করা হয় এবং পরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বন্দি অবস্থায় ১৯৭৫ সালের ৩ সভেম্বর কারাগারের সব নিয়ম ভঙ্গ করে বর্বরতার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটিয়ে ঘুম থেকে ডেকে তুলে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয় তাজউদ্দীন আহমদ, এবং বাংলাদেশের জাতীয় নিত নেতা-সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে।

যিনি ছিলেন এ দেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, যিনি আজীবন জনগণের কল্যাণ নিয়ে ভেবেছেন, যিনি বাঙালি জাতির জন্য সুখী স্বাধীন জীবন গড়ার সংগ্রামে পরমভাবে নিবেদিত ছিলেন, সেই প্রচারবিমুখ ত্যাগী ও কৃতী দেশপ্রেমিক মানুষটিকে রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করল স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকের দল।

মৃত্যু তাজউদ্দীন আহমদকে মহিমান্বিত করেছে। নতুন রূপে উদ্ভাসিত হন তিনি। তার রেখে যাওয়া কর্ম-ভাবনা আলোকদ্যুতি ছড়ায় এ দেশের আকাশে-বাতাসে। বাঙালি জাতি তথা বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে চির অক্ষয় হয়ে লেখা রয়েছে তাঁর অবদান।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে