thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫,  ১১ মহররম ১৪৪০

নূহ-উল-আলম লেনিন

দাও ব্রাত্য জীবনের অনন্ত উদ্ধার

২০১৪ জুলাই ২৭ ২১:৩৭:১৫
দাও ব্রাত্য জীবনের অনন্ত উদ্ধার

মাঙ্গলিক ধ্যান-মগ্ন শাশ্বতী তুমি আমার কল্পনায় শূর্পণখা, ভীষণ ছলনাময়ী
তোমাকে প্রতিপক্ষ ভেবে ক্রোধান্ধ আমি শান্তিবন পোড়াতে চাই খাণ্ডব দাহনে।
লক্ষ্যভেদী বিষাক্ত শর-নিক্ষেপে তোমাকে হত্যা করতে চেয়েছি আমি যুযুধান।
কিন্তু কী অপার বিস্ময়, সেই শর তোমাকে আঘাত না করে বুমেরাং
আমাকেই বিদ্ধ করে, করে ক্ষত-বিক্ষত। আমার কল্পরোগ-মিথ্যের বেসাতি
ঘৃণার প্লাবনে তাই ভেসে যাই খড় কুটোর মতো।
সমুদ্র মন্থনে উঠে আসা বিষভা—পরমানন্দে পান কর অমৃত ভেবে। অতঃপর মৃত্যুকে তুড়ি মেরে নীলকণ্ঠ তুমি
বেঁচে ওঠো বারবার অলৌকিক প্রেমার্ত স্ফিংসের মতো। অভ্রভেদী অহংকারে
আমি তোমাকে পোড়াতে চাই শান্তিবনে, সুনীল আকাশে, মেঘালয়ে,
সংসারের তুমুল বাস্তবে। কিন্তু সে আগুন নিভে যায় তোমার নিঃশ্বাসে।

তোমাকে বধ করতে কতবার আমি ব্যর্থ তীরন্দাজ, ভুল লক্ষ্যে
ছুঁড়ে ছিলাম বাণ, চেয়েছি হতে সর্বভূতে শক্তিরূপেণ সংস্থিতা
তারপরও ভাঙেনি আমার ভুল, কল্প-যন্ত্রণায় আমি নিশিদিন আত্মহননে মত্ত
সাজানো বাগান তোমার করেছি তছনছ। আগুনে আহুতি দিয়ে শান্তি চেয়েছি।
অথচ গরল-প্লাবন, বিষাক্ত শর অথবা বুভুক্ষু অগ্নিকুণ্ড কেউ আমাকে চায়নি
দিতে অনস্তিত্ত্বে শান্তির নির্বাণ। আমি না হন্তারক, না আত্মঘাতী।
অম্লান হাসিতে ঈশ্বর দিয়েছ নিদান : মৃত্যুর চেয়েও কঠিন-কঠিনতর শান্তির বিধান
মিথ্যের খাঁচায় বন্দী অর্থহীন বেঁচে থাকা তিল তিল মৃত্যুর আস্বাদ; মৃত্যুর যন্ত্রণা
প্রতিদিন প্রতিক্ষণ প্রতি পলে জন্ম-জন্মান্তর।

হে ঈশ্বর, আমাকে মুক্তি দাও, মিথ্যের যতুগৃহ ভেঙে দাও, হতে দাও আত্মঘাতী
দাও পরিত্রাণ। মিশে যেতে দাও এই সর্বংসহা মৃত্তিকার গভীর জঠরে
দাও ব্রাত্য জীবনের অনন্ত উদ্ধার।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

ঈদ সংখ্যা এর সর্বশেষ খবর

ঈদ সংখ্যা - এর সব খবর



রে