thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

ঈদের ছড়া

২০১৪ জুলাই ২৭ ২২:২৫:০৫

সন্দেশ
খালেক বিন জয়েনউদদীন

ঈদের খুশি পাই না খুঁজে
শহর গ্রাম বন&দরে,
দৈন্য-দশায় চালের বাজার
হাজার টাকা মণ দরে।

শাক সব্জি ঊর্ধ্ব মূল্য
উধাও চেলা-ভেটকি,
লংকা-পেঁয়াজ ভেংচি কাটে
আকাশ ছোঁয়া রেট কি!

ঈদের খুশি পাই না খুঁজে
ছিন্ন তালির পরণে,
শূন্যি হাড়ি চুলোয় পোড়ে
দুঃখ ব্যথার ক্ষরণে।

কষ্টি-মেঘে খাচ্ছে গিলে
ওই যে চিকন চাঁদটা,
খুদের জাউয়ে উড়ায় ধোঁয়া
লবণ তেতো স্বাদটা।

খুশির দিনে ধোলায় লোটে
গরীব দুখী নিস্ব,
খোঁজ রাখে না সর্বহারার
ধূর্ত ধনিক বিশ্ব।


ঈদ এলো রে
ফারুক নওয়াজ

ঈদ এলো রে ঈদ—
ছড়া লিখতে ঈদের সঙ্গে সবাই মিলাই নিদ...
আমি নিদ মিলাবো না
আমি সিঁদ মিলাবো না
আমি ছন্দ দিয়ে গন্ধ বিলাই মস্ত ছড়াবিদ!
ঈদ এলো রে ঈদ...
আমার খুব ধরেছে জিদ...
আমি কোথাও যাবো না
আমি পোলাও খাবো না
আমি সবকিছু আজ বিলিয়ে দেবো; দেখবে যে তওহিদ!
তোমরা বড্ড কঠিনপ্রাণ—
ঈদখুশিতে আত্মহারা, গাও খুশিতে গান—
উপোস-পেটে বস্তিবাসী দিন করে গুজরান...
সেইদিকে নাই দৃষ্টি কারো সেইদিকে নাই কান;
তোমরা কীসের মানুষ! বড়াই করো, কিসের মুসলমান?
হয় না মানুষ হাত-পা, মাথা, চক্ষু থাকিলেই—
রয় না মানুষ— যাদের মাঝে মানবতাই নেই!







ঈদের খুশি

আসলাম সানী

চাঁদের মুখের হাসি সুখের
দুঃখ পালায় দূর
গরীব-ধনী সবাই মিলে
আজ আনন্দপুর,

ওই শাওয়ালের চাঁদ
নেই কোনো বিবাদ
আজ পৃথিবী স্বপ্নে বিভোর
স্বর্ণালী দিন রাত
ঈদের খুশি মিলন মেলায়
সবাই যে একসাথ,

সিয়াম শেষে ঈদটা এসে
আনন্দে ভরপুর
খাবার গন্ধে নানান ছন্দে
ছড়ায় শান্তি সুর।


খোদার ‘দান’
নাসের মাহমুদ

গায়ের বাড়ীয় ছেলে-মেয়ে
মা-ও আছে,
ঈদের আগে যাওয়া দরকার
তাদের কাছে।

হয় না যোগাড়, হয়নি যোগাড়
টাকা—
খোদার ‘দান’ জ্বর হয়েছে
শুয়ে আছি ঢাকা।






এবার ঈদ

বিলু কবীর

ক’দিন থেকে নিদ হচ্ছে না
এবার আমার ঈদ হচ্ছে না
----তাকিয়ে আছি গাজার দিকে;
কে কী করে দেখতে মূল ওর
বিশ্বসভার রাষ্ট্রগুলোর
----শান্তিবাদী রাজার দিকে।
রক্তগাঙের ভেলায় তারা
আলোচনার খেলায় তারা
----মত্ত, তবে ধীর অতি খুব;
কে বোঝে কার এই ক্ষতি যে
দ্রুত খেলায় সেই গতি যে
----নিচ্ছে তারা বিরতি খুব।
কিন্তু গাজায় বিরতিহীন
মরছে মানুষ বীর অতি দীন
----এমন হলে কেমন রে হয়!
তবু যারা খাচ্ছে রে মার
দাঁড়িয়ে তারা উঠবে আবার
----হবেই হবে তাদেরই জয়।


খুশির খুশব
মিলন সব্যসাচী

আকাশ পাড়ে আলোর নাচন চাঁদ উঠেছে হেসে
ভুবন ভরা খুশির বানে যাচ্ছে আঁধার ভেসে।
কার ইশারায় ঈদের চাঁদে উপচে পড়ে আলো
পাখির গানে মুগ্ধ প্রভাত ঘুচায় রাতের কালো।

খোকার মনে আনন্দ ফুল উঠল ফুটে আজি
প্রজাপতির রঙিন ডানায় উড়তে খোকা রাজি।
ছোট্ট-খুকুর নতুন জামা লাগছে পরীর মতো,
সারা বছর থাকত এদিন এমন যদি হতো।

চাঁদটা দিল খুশির খবর সব মানুষের ঘরে
কে ছড়াল খুশির খুশব এমন যতন করে?
ফুলের হাসি হার মেনেছে অনাথ শিশুর ঠোঁটে
হাসলে ওরা মনে কোণে সুখের কলি ফোটে।

শিশুর মতো উদার হলে পাড়ার সকল লোকে
ঈদের দিনে কাঁদত কি কেউ দুঃখ ব্যথা শোকে?
সবার মনে পুলক জাগে সবই লাগে ভালো
ঈদ এসেছে দীক্ষা দিতে প্রাণের পিদিম জ্বালো।


চাঁদ রাতের ভাবনা

জগলুল হায়দার

মেধা কয় রাব্বি
ধর আজ সারারাত
তুই যে কি ভাববি
সেটা আমি জানি রে
বলে দিছি সানিরে।
রাব্বি তো টাশকি
কি বলতে চাস কি?
কি জানিস বলতো—
মেধা কয় তার আগে
ছাদটাতে চল তো।
রাব্বিও বলে আপু
ইফতারি হয়ে যাক
আরো বেলা বয়ে যাক
পরে নয় উঠবো
পরে নয় ছাদ জুড়ে
চাঁদটাকে খুঁটবো।
ইফতার শেষ করে
হুড়মুড় হুট—
আজ ভাই সব্বার
একটাই রুট।
রুট মানে সিঁড়ি তাই
ভেঙে ভেঙে উঠি
কলোনির ছেলেপেলে
কিযে ছোটাছুটি!
ছোটাছুটি করে সব
হল্লায় নাচছে
অই অই অই কোণে
চাঁদ দ্যাখা যাচ্ছে।
চাঁদে এলে চাঁদ রাত
মেধা কয় রাব্বি
জানি আজ সারারাত
ঈদটাকে ভাববি!

ঈদের জামা
মালেক মাহমুদ

আমি দেখাই ঈদের জামা
দেখছে মা ও মামা।

এই জামাটা মামার দেয়া
এই জামাটা চাচার দেয়া
এই জামাটা বাবার দেয়া
এই জামাটা দিয়েছে আমার ভাই
মজাই-মজা ঈদের মজা
নতুন নতুন ঈদের জামা পাই।

ঈদের চাঁদে ঈদের মাঠে সকলে
সুখের ছড়া থাক না আমার দখলে
ঈদের খুশি দেখ না তোরা চেয়ে
ঈদের খুশি দেই ছড়িয়ে
ঈদের গান গেয়ে।

আমি যখন যাচ্ছি হেঁটে একা
ঈদের খুশি চোখের ভাঁজে রেখা।
এই ঈদেতে ফিলিস্তিনী দেশে
ঈদের খুশি গেছে রক্তে ভেসে
ইহুদী মন দয়া মায়া নাই
আমার খুশি বিলিন হলো তাই।

আমার জামায় বিলিস্তিনী রক্ত
ইহুদীদের গুড়িয়ে দিতে—
হাত করি তাই শক্ত।



আনন্দগান
কামাল হোসাইন

এমন মজার ঈদ এলরে এমন মজার ঈদ
চারিদিকে উপচে পড়ে আনন্দ সঙ্গীত
ঘরে ঘরে খুশির আমেজ প্রাণখোলা উচ্ছ্বাস
প্রাণের সাথে প্রাণ মিলিয়ে করব প্রীতির চাষ।

হৃদয়টা আজ বাদশা যেন, নেই যে কোনো ক্লেশ
সবকিছু আজ বিলিয়ে দেব হাসবে মনের দেশ।
গরিব দুখী সবাই মিলে হাসব মনের সুখে
ঝিলকে ওঠা রেশমি হাসি সবার মুখে মুখে।

এই যে হাসি এই যে খুশি— প্রাণছোঁয়া হিল্লোল
প্রাণের মাঝে আপন করার মিষ্টি মুখের টোল—
সারাবছর থাকব এমন প্রাণ মিলিয়ে প্রাণে
শোক-দুঃখ হারিয়ে যাবে ভালোবাসার গানে।

মিলনের ঈদ
আহমাদ ফেরদৌস

ঈদের মাঠে সকলে যায় জায়নামাজ হাতে
চারিদিকে খুশির হাওয়া আতর-সুগন্ধী মাতে।
ঈদগাহে নামাজ-রুকু মোনাজাত শেষে
সকলেই ঘরে ফেরে নিষ্পাপ বেশে।।

ঈদে— ধনী-গরীব, দুঃখী-সুখী ভেদাভেদ নাই
আনন্দ আর খুশিকে ভাগ করে নেয় সবাই।
মিলনের বার্তা নিয়ে আসে খুশির ঈদ
শিশু-যুবা-বুড়া চোখে নেই তাই নিদ।



ছুটি

কাদের বাবু

কাল সারাদিন আমরা স্বাধীন
মজা হবে খুব;
সন্ধ্যা হওয়ার পর তাই
আনন্দে দেই ডুব!

ঘোরাফেরা, খাওয়া আর
গাইব খুশির গান
হৈ-হুল্লোড় আনন্দেতে
ভাসবে এই প্রাণ!

কাল সারাদিন পড়াশোনা
দিলাম তোমায় ছুটি;
আনন্দে কাল সিঁথি ফেলে
করব আমি ঝুঁটি।

-এত খুশির কারণটা কী বলো,
চোখে যে নাই নিদ?
-আরে বোকা কালকে হলো,
আনন্দেরই ঈদ!

ঈদের চাঁদও কাঁদছে
আবিদ আজম

ঈদের খুশি দাঁড়িয়ে আছে
এখন ঘরের বাইরে,
(কেমনে ধরি খুশিরও গান
তাইরে নাইরে নাইরে।)

বুকের ভেতর দুঃখ অনেক
কেমনে খুশি আসবে,
(ফিলিস্তিনীর কষ্ট দেখে
চাঁদমামা কী হাসবে?)

ঈদের চাঁদও উঠছে কেঁদে
গাজার শিশুর দুঃখে,
(তুমিই বলো কেমনে বরণ
করি ঈদের সুখকে?)

খুশির দিনেও ফিলিস্তিনে
অনেক শিশু মরছে,
(বাংলাদেশের সবুজ চোখে
কান্না ঝড়ে পরছে।)

দোয়া করে—ঈদ রাখি তাই
চৌকাঠের ঐ বাইরে,
(প্রতিবাদে,ঘৃণা নিয়ে
শোকেরও গান গাইরে।)




ঈদ চায় হাসতে...
আশিক মুস্তাফা

চাঁদ চায় ভাসতে
ঈদ চায় হাসতে
আস্তে... আস্তে...
আস্তে... ঈদ এলে এঁকে বেঁকে
উড়ে উড়ে থেকে থেকে
ঘুরে ঘুরে ডেকে ডেকে
ছুঁয়ে যায় রোদকে;

ঈদ এসে তাড়া দেয়
টেম্পুতে ভাড়া দেয়
কারা দেয়? কারা দেয়?
নাড়া দেয়, নাড়া দেয়
মানবতা বোধকে।

বাঁকা চাঁদ

আহমদ সাইফ

বাঁকা চাঁদের হাসির মাঝে লুকিয়ে আছে তাজ,
চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে ঈদ কি হবে আজ?
হাসির নদী বইছে যেন শিশু বুড়োর মনে,
দরাজ দিলে গান গেয়ে যাই শুভ ঈদের ক্ষণে।

জামা জুতো নতুন হবে, নতুন দিনের সুর,
হাসির জোয়ার ভাসিয়ে দিয়ে করি বিভেদ দূর।
কোরমা পোলাও সেমাই ছাড়া ঈদ কি হতে পারে?
ঝুনঝুনি আর বাঁশের বাঁশি বাজাই বারে বারে।
নতুন চাঁদের নতুন হাসি আনন্দ হইচই

ঈদ এসেছে, ঈদ এসেছে চারদিকে রইরই।
কোলাকুলি করব সবাই ভালোবাসার টানে
ধনী গরিব বিভেদ ভুলে তুলব সুর গানে।
ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক

ঈদের খুশি আজ
মাথায় দিবে তাজ।

ঈদের বাড়ি কোথায়
আহমেদ জাকির

ঈদের বাড়ি কোথায় বলো
কাদের বাড়ির পাশে?
ঈদ কী বাড়ি একাই থাকে
একাই সাজে রঙিন সাজে
সেজেগুজে বছর ঘুরে
রঙিন হয়ে আসে।

ঈদটা তবে লক্ষ্মী অনেক
প্রতি বছর এসে এসে
সবাইকে সে হাসায়
আচ্ছা সবাই তৈরী থেকো
ঠিকানাটা পাবার পরে
যাবো ঈদের বাসায়!

ঈদটা অনেক খুশি হবে
ঠিক আমাদের মত
আচ্ছা তবে জানিও ঠিক
ঈদের বাড়ি কোথায় এবং
বাসা নম্বর কত।



পাঠকের মতামত:

SMS Alert

ছেলেবেলাপুর এর সর্বশেষ খবর

ছেলেবেলাপুর - এর সব খবর