thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫,  ১৪ মহররম ১৪৪০

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্রনাথকে অবহেলা করেছে’

২০১৪ আগস্ট ০৬ ০০:৩৭:৩২
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্রনাথকে অবহেলা করেছে’

মো. কামাল হোসেন, দ্য রিপোর্ট : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নোবেলজয়ী ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অবহেলা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক আহমদ রফিক।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কিছুদিন আগেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করেছে ১৯৩৬ সালে। এর মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথকে অবহেলা করা হয়েছে বলেই আমি মনে করি।’

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কেন দেরিতে ডিলিট উপাধি দিয়েছে, তা এখন আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যরাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’
১৯৩৮ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রদের একাংশ। চেয়ারে উপবিষ্ট : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। দণ্ডায়মান : (বাঁদিক থেকে) মথুরেন্দ্রনাথ নন্দী, মুহম্মদ আবদুল হাই। নিচে উপবিষ্ট : (বাঁদিক থেকে) আই এন চৌধুরী, আহমদ হোসেন, বিশ্বরঞ্জন ভাদুড়ী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথের আগমন প্রসঙ্গে আহমদ রফিক বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ১৯২৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। সে সময় তিনি ৭ দিন অবস্থান করেছিলেন। Dacca University Students Union এর ব্যবস্থাপনায় রবীন্দ্রনাথ কার্জন হলে দুটি বক্তৃতা করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তিনি উপস্থাপন করেন প্রথম বক্তৃতা : ‘The Big and the Complex’। কার্জন হলে রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বক্তৃতার বিষয়ও ছিল : ‘The Big and the Complex’। তবে প্রকাশের সময় তিনি বক্তৃতার নতুন নাম দেন ‘The Rule of the Giant’।

এ রবীন্দ্র গবেষক বলেন, ‘কার্জন হলে উভয় দিনই রবীন্দ্রনাথের বক্তৃতা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর জি এইচ ল্যাংলি। সভার প্রারম্ভে সমবেত সুধীদের কাছে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় দিতে গিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘এটা আমাদের পক্ষে আজ একটা পরম সুযোগ যে, এই সন্ধ্যায় পৃথিবীর একজন শ্রেষ্ঠ শিল্পী আমাদের কাছে কিছু বলবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কার্জন হল ছাড়াও রবীন্দ্রনাথ একাধিক হলের সংবর্ধনায় বক্তৃতা করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি অপরাহ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হলে (বর্তমানে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল) ছাত্ররা রবীন্দ্রনাথকে সংবর্ধনা জানান। সংবর্ধনা সভায় হলের ছাত্ররা রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি অভিনন্দনপত্র পাঠ করেন। মুসলিম হলের শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সংবর্ধনায় রবীন্দ্রনাথ বিশেষভাবে অভিভূত হয়ে পড়েন। সংবর্ধনার উত্তরে তাই তিনি প্রথমেই বলেন, ‘এই সভাগৃহে প্রবেশ করার পর থেকে এ পর্যন্ত আমার ওপর পুষ্পবৃষ্টি হচ্ছে। প্রাচীন শাস্ত্রে পড়েছি কৃতী ব্যক্তির ওপর পুষ্পবৃষ্টি হয়। এ পুষ্পবৃষ্টি যদি তারই প্রমাণ করে, তবে আমি আজ আনন্দিত।’

অভিভাষণের শেষে কবি বলেন, ‘ঈশ্বর এক, তাঁর মধ্যে কোনো ভেদ নাই। যিনি সকল বর্ণের, সকল জাতির জন্য নিত্য তার গভীর প্রয়োজন প্রকাশ করছেন।’

আহমদ রফিক বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের চেতনা ছিল অসাম্প্রদায়িক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্যে ছাত্রদের অসাম্প্রদায়িক মননের অধিকারী হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।’

তবে ক্ষোভের সাথে তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘এতকিছুর পরেও তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিলিট উপাধি দিয়েছে এর প্রায় ১০ বছর পরে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ বিরোধিতা করেছিল- এরকম একটি রবীন্দ্রবিরোধী কথার প্রচলন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ বিরোধিতা করেছিলেন এমন কোনো রেকর্ড আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। রবীন্দ্রবিরোধী কিছু লোক এ সকল মিথ্যা মন্তব্য প্রচার করেছেন।’

(দ্য রিপোর্ট/কেএইচ/আইএফ/এনআই/এজেড/আগস্ট ০৬, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

২২ শে শ্র্রাবণ এর সর্বশেষ খবর

২২ শে শ্র্রাবণ - এর সব খবর



রে