thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

রবীন্দ্রনাথ ও ছায়ানট

২০১৪ আগস্ট ০৬ ০২:৫০:২৪
রবীন্দ্রনাথ ও ছায়ানট

মুহম্মদ আকবর, দ্য রিপোর্ট : একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর মদদে রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁর সৃষ্টিকর্ম ষাটের দশকের শুরুতে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। শুধু নিষিদ্ধ বললে ভুল হবে, তার গানকে বিকৃত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয় অসংখ্য মানুষ। এমন এক সময়ে একদল বুদ্ধিদীপ্ত মানুষের প্রচেষ্টায় ১৯৬১ সালে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসব পালন করা ছাড়াও এই সংগঠন বাদ্যযন্ত্র, সঙ্গীত, নৃত্য প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান ও সঙ্গীত বিদ্যালয় পরিচালনা করে থাকে। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের গানকে বাঁচিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করে।

পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ রমনার বটমূলে ছায়ানটের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র-জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের পর একটি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন কয়েকজন সংগঠক। তাদের মধ্যে মোখলেসুর রহমান (সিধু ভাই নামে পরিচিত), শামসুন্নাহার রহমান, সুফিয়া কামাল, ওয়াহিদুল হক অন্যতম। সাঈদুল হাসানের প্রস্তাবে সংঠনটির নামকরণ করা হয় ছায়ানট। ১৯৬১ সালে সুফিয়া কামালকে সভাপতি আর ফরিদা হাসানকে সম্পাদক করে প্রথম কমিটি গঠিত হয়। সহ-সভাপতি জহুর হোসেন চৌধুরী, সাঈদুল হাসান। সহ-সম্পাদক সাইফুদ্দীন আহমদ মানিক, মিজানুর রহমান ছানা। কোষাধ্যক্ষ পদে মোখলেসুর রহমান ও সদস্যরা ছিলেন কামাল লোহানী, ওয়াহিদুল হক, সনজীদা খাতুন, আহমেদুর রহমান প্রমুখ। ১৯৬১ সালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ছায়ানটের প্রথম অনুষ্ঠান পুরনো গান নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৩ সালে সনজীদা খাতুনের উদ্যোগে বাংলা একাডেমির বারান্দায় সঙ্গীত শেখার ক্লাস শুরু হয়। সনজীদা খাতুন ও ফরিদা মালিক রবীন্দ্রসঙ্গীত, বজলুল করিম তবলা, মতি মিয়া বেহালা ও সেতার এবং সোহরাব হোসেন নজরুলগীতি শেখাতেন। ওই সালেই ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১লা বৈশাখ, ১৩৭০ বঙ্গাব্দে ওস্তাদ আয়েত আলী খান এই বিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন। ছায়ানটের প্রাথমিক কার্যক্রম ইংলিশ প্রিপারেটরি স্কুলে শুরু হয়। কিন্তু সরকারী বাধার কারণে কার্যক্রম অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হয়। সেখানেও সরকারের ভয়ভীতির কারণে লেক সার্কাস গার্লস স্কুলে ছায়ানট আশ্রয় নেয়। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ছায়ানট এখানেই ছিল। স্বাধীনতার পর গভঃ ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ ড. নূরুন নাহার ফয়জুন্নেসা তাঁর স্কুলে ছায়ানটকে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেন। বিষয়টি তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অনুমোদন করেন।

ইংরেজি ১৯৬৪ সাল, বাংলা ১৩৭১ সালের ১লা বৈশাখ রমনার বটমূলে ছায়ানট বাংলা নববর্ষ পালন শুরু করে। কালক্রমে এই নববর্ষ পালন জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়। এছাড়াও ছায়ানট ২৫শে বৈশাখ, ২২শে শ্রাবণ, শারদোৎসব ও বসন্তোৎসব গুরুত্বের সাথে পালন করে। বর্তমানে ছায়ানটের কর্ম নানাভাবে বিস্তার লাভ করলেও বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণপুরুষ রবীন্দ্রনাথের গান এবং তার মর্মবাণীকে লালন করে দেশের শীর্ষ স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে।
(দ্য রিপোর্ট/এমএ/এনআই/আগস্ট ০৬, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

২২ শে শ্র্রাবণ এর সর্বশেষ খবর

২২ শে শ্র্রাবণ - এর সব খবর