thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫,  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

গাজা সংকট : উভয় পক্ষকে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা

২০১৪ আগস্ট ০৯ ০৭:০০:২৫
গাজা সংকট : উভয় পক্ষকে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : বিরতির পর নতুন করে সংঘর্ষ শুরু করায় ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন উভয় পক্ষের প্রতি নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে বিবাদমান পক্ষকে।

এদিকে, হামাসের রকেট লঞ্চার নিক্ষেপের জবাব দিতেই বিরতির পর নতুন করে হামলা শুরু হয়েছে বলে ইসরায়েলের দাবি।

জাতিসংঘ বলছে, সংঘর্ষের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অসহনীয় হয়ে পড়েছে। গত ৮ জুলাই শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৯০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার অধিকাংশই শিশু। আর সংঘর্ষে ৩ জন সাধারণ নাগরিক ও ৬৪ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।

পুনরায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষের অতি মাত্রায় ভোগান্তি এ সংঘাতকে আরও অসহনীয় করে তুলছে।

মুন আশা করছেন, উভয় পক্ষ দ্রুত একটি উপায় খুঁজে বের করবে। যাতে মানবতার খাতিরে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়। এ জন্য তিনি উভয় পক্ষকে মিসরের কায়রোতে শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জোশ আর্নেস্ট বলেছেন, উভয় পক্ষের একটি স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। পুনরায় রকেট নিক্ষেপে হামাসের সিদ্ধান্ত শুধু ইসরায়েলি নাগরিকদের নয়, বরং গাজার মানুষদেরকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আর এভাবে হামাস ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন আর্নেস্ট।

তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় উভয় পক্ষের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ বিরতিতে যাওয়া উচিত। চুক্তির মাধ্যমে একটি স্থায়ী অস্ত্র বিরতিতে যাওয়া উচিত।

জানা গেছে, শুক্রবারের হামলায় গাজায় ৫ ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২ জন ইসলায়েলি নাগরিক আহত হয়েছেন।

মিসর উভয় পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। তবে হামাস যুদ্ধ বিরতি দীর্ঘায়িত করতে অসম্মতি জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, ইসরায়েল দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে, রকেট হামলার বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পাওয়ায় মধ্যস্থতা বৈঠক ত্যাগ করেন ইসরায়েলের প্রতিনিধি। ফলে সংঘাত বন্ধে মিসরীয় মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে শুক্রবার উভয় পক্ষের বৈঠকে কোনো সমাধান আসেনি।

ফিলিস্তিনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মুস্তফা বারঘৌটি এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, শুক্রবারের রকেট হামলা অন্য কেউ করেছে, হামাস নয়।

তিনি আরও বলেন, গাজা ভুখণ্ডের কেন্দ্রে একটি মসজিদে ইসরায়েল মিসাইল হামলা চালালে ১০ বছর বয়সের এক শিশু নিহত হয়। এ ছাড়া রাফায় ইসলামিক জিহাদের একজন মারা যান।

সৈনিক গিলাড শালিটকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে গাজা থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ১০০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে হামাস। কিন্তু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে ইসরায়েল। অপরদিকে, গাজা বেসামরিকীকরণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস। যে কারণে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, রকেট হামলা শুরু হওয়ায় তারা বিমান, ট্যাঙ্ক ও গানবোট দিয়ে আক্রমণ শুরু করেছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধ বিরতির শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় (৫ জিএমটি) জঙ্গীরা রকেট হামলা শুরু করে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ইসরায়েলি ভুখন্ডে ৪০টিরও বেশি রকেট ছোঁড়া হয় বলে দাবি করেছে আইডিএফ।

তবে সংঘাত সত্ত্বেও শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে হামাস।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট মিসরের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধ বিরতি শুরু হয়। খবর বিবিসি।

(দ্য রিপোর্ট/ডব্লিউএন/এনআই/আগস্ট ৯, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশ্ব এর সর্বশেষ খবর

বিশ্ব - এর সব খবর