thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫,  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

মিশুক আমাকে চিফ ডাকত : কায়েস চৌধুরী

২০১৪ আগস্ট ১৩ ০১:২৩:৫৯
মিশুক আমাকে চিফ ডাকত : কায়েস চৌধুরী

ইসহাক ফারুকী, দ্য রিপোর্ট: ‘কায়েস ভাই বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত না। আর আমি বড় ইউনিট নিয়ে কাজ করতাম, তাই মিশুক আমাকে চিফ ডাকত।’- দীর্ঘদিনের সহকর্মী প্রয়াত চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীরকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কথাগুলো বলেন প্রখ্যাত নির্মাতা ও চলচ্চিত্র বিষয়ক শিক্ষক কায়েস চৌধুরী।

মিশুক মুনীর প্রসঙ্গে অনেক কথাই বলতে চাইলেন তিনি। দ্য রিপোর্টের পাঠকদের জন্য কিছু টুকরো কথা তুলে ধরা হলো-

ঘটনা এক

আমরা দুজন একুশে টেলিভিশনের কনসালট্যান্ট ছিলাম। আমি, মিশুক, বেন কোহেন ও ফিসক্যাল ট্রেনিং করাতাম। মিশুক দেখত টেকনিক্যাল সাইট আর আমি দেখতাম লিটারেচার ও টেকনিক্যাল সাইট। আমরা তিন মাসব্যাপী ট্রেনিং করিয়েছি। তখন মুন্নী সাহা, হাসনাইন খোরশেদ, ইশতিয়াক রেজা, শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম, পার্থ তানভীর নভেদ, শাহনাজ মুন্নী, জ ই মামুনসহ ২২ জন ট্রেনিং নিয়েছিল। সেটা আমাদের জন্য একটি বিশাল পরিশ্রমের কাজ ছিল।

ঘটনা দুই

আমরা একসঙ্গে হাজারখানেকের বেশি প্রামাণ্যচিত্র করেছি। এর মধ্যে বিবিসি, জার্মানের প্রথম টেলিভিশন ‘এআরডি-ওয়ান’ এর জন্য প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে পাঠিয়েছি। আমাদের কাছে ফ্যাক্স আসত। সেখানে বিষয়টি লেখা থাকত। আমরা দুজন সব সময় উদগ্রীব থাকতাম- কখন ঢাকা ছাড়ব। আমি আর মিশুক একবার সুন্দরবনের জেলেপল্লীতে গিয়েছিলাম। সেখানে তখন ১৮-১৯টি পরিবার ছিল। এ সম্প্রদায় ছিল বিলুপ্তির পথে। আমরা দুজন ১৩ দিন ওখানে ছিলাম। সে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

ঘটনা তিন

মিশুক সম্পর্কে অনেকেই জানে না যে, সে টেকনিক্যালি ফ্রিক ছিল। আমার বাসায় একবার আয়রন নষ্ট হয়েছিল। সে সেটা ঠিক করে দেয়। আবার ক্যামেরা নষ্ট হয়ে গেলে সেটাও ঠিক করে ফেলত। তার সঙ্গে একটি ব্যাগ থাকত। সেখানে হাতুড়ি, বাটাল থেকে শুরু করে হেন জিনিস নেই, যা ছিল না।

ঘটনা চার

আমরা একবার মুক্তিযুদ্ধ ফাউন্ডেশনের কাজ করছিলাম। ২০ লাখ টাকার প্রজেক্ট ছিল। বরিশালের তিনজন নারী মুক্তিযোদ্ধার ওপর প্রামাণ্যচিত্র। তাদের মধ্যে দুজন ছিলেন কলকাতায়। প্রামাণ্যচিত্রের জন্য তারা এসেছিলেন। সে সময় সেখানে আমার কিছু ছাত্র আসে। তারা বলে, আর্সেনিক নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করে সারাবিশ্বে তা প্রচার করতে। আমি মিশুককে জিজ্ঞাসা করি, ২০ লাখ টাকা স্যাক্রিফাইস করতে পারবে? সে রাজি হয়। আমরা আর্সেনিক এলার্ট নিয়ে প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করি। পরে সেটা সারাবিশ্বে বিশাল ইমপ্যাক্ট ফেলে। ওয়ার্ল্ড ওয়াটার ফোরামে ১৬৮টি ছবির মধ্যে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়। শুধু তাই নয়; ইংল্যান্ডের হাউস অব লর্ডস আমাকে ডেকে পাঠান। তার সামনে তিন মিনিটের প্রেজেন্টেশন দেওয়ার পর তিনি ছবিটি তাদের স্কুলের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করেন। এটা একটা বড় প্রাপ্তি।

ঘটনা পাঁচ

মিশুক শুধু ক্যামেরাই বুঝত। অন্য কিছু সে মাথায় নিত না। কোন শটের পর কোনটি হবে, সেটাও আমার ওপর ছেড়ে দিত। এমনকি সম্পাদনার টেবিলেও আসত না। তবে পুরস্কার পাওয়ার পর সে সম্পাদনা দেখতে আসত। তবে বেশিক্ষণ থাকত না। তার করা মিশন টু কান্দাহার কিন্তু বাইরে অনেক সমাদৃত হয়েছিল।

ঘটনা ছয়

মিশুক আমার সঙ্গে ছাড়া আর কারও সঙ্গে কাজ করত না। ও চাইত স্বাধীনতা, মানসিক শান্তি আর কাজের বেলায় সিংক হওয়া। আমি যখন ‘না’ ধারাবাহিকটি নির্মাণ করি, তখন মিশুক ক্যামেরা চালিয়েছিল। এক সময় তো কানাডা চলে গিয়েছিল। ওখানেই কাজ করেছে। তবে যখনই প্রয়োজন পড়ত, আমি ওকে কানাডা থেকে নিয়ে আসতাম। ও ঢাকায় আসার পর বলত, ‘চিফ আই অ্যাম ইন টাউন’।

(দ্য রিপোর্ট/আইএফ/ডব্লিউএস/এমএসআর/এজেড/আগস্ট ১৩, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জলসা ঘর এর সর্বশেষ খবর

জলসা ঘর - এর সব খবর