thereport24.com
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫,  ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

‘ক্যামেরার কবি’ মিশুক মুনীর

২০১৪ আগস্ট ১৩ ১৫:৪৫:০২
‘ক্যামেরার কবি’ মিশুক মুনীর

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক : বাংলাদেশে সম্প্রচার সাংবাদিকতায় আধুনিকতার অন্যতম পথপ্রদর্শক আশফাক চৌধুরী মিশুক। যিনি মিশুক মুনীর নামেই সমধিক পরিচিত। সৃজনশীলতা ও দক্ষতার বিচারে তাকে ‘ক্যামেরার কবি’ বললে মোটেও অত্যুক্তি হবে না।

তার বাবা মুনীর চৌধুরী পাকিস্তান আমলের প্রথম থেকেই মেহনতি মানুষের রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার সক্রিয় প্রবক্তা ছিলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে আল-বদর বাহিনীর পিশাচরা তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্মম নিপীড়নে হত্যা করেছিল।

মিশুক মুনীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ালেখা শেষ করেন ১৯৮৩ সালে। ওই বছরই নিজ বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৯৭ সালে তার হাত ধরে ওই বিভাগে ভিডিও জার্নালিজম কোর্সের সূচনা হয়। ১৯৯৮ সালে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত একুশে টিভির বার্তাপ্রধান (পরিচালনা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত টরন্টোর ব্রেকথ্রো ফিল্মস, জে ফিল্মস ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে ফ্রিল্যান্স ক্যামেরাপারসন ও প্রযোজক হিসেবে কাজ করেন। কানাডার রিয়েল নিউজ নেটওয়ার্কের হেড অব ব্রডকাস্ট অপারেশন্স হিসেবে আট বছর কাজ করেন। নানা সময়ে আফগানিস্তান, তিউনিসিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্য, এমনকি আমেরিকায়ও ক্যামেরার সেলুলয়েডে সংঘর্ষ, বিগ্রহ, যুদ্ধ নিয়ে রিপোর্টিং করে মানুষের মন জয় করেন। সর্বশেষ ২০১০ সালে তিনি এটিএন নিউজে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগ দেন। তিনি একাডেমি অব কানাডিয়ান সিনেমা অ্যান্ড টেলিভিশন এবং কানাডিয়ান ইনডিপেনডেন্ট ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও কানাডিয়ান সোসাইটি অব সিনেমাটোগ্রাফির সহযোগী সদস্য ছিলেন। এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী পদে কাজ করাকালে তার সার্বক্ষণিক চিন্তায় ছিল কী করে সংবাদকে আরও লোকগ্রাহ্য ও বৈচিত্র্যময় করে তোলা যায়।

শিক্ষক-অভিভাবক হিসেবে মিশুক মুনীর সবার হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। দিলখোলা চরিত্র, উচ্চকিত হাসিতে ভরিয়ে রাখতেন সবাইকে। তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর সৃষ্টির আনন্দে নিজ নিজ ক্ষেত্রকে ফলবতী করার অকৃত্রিম ও সৃজনশীল প্রয়াসে নিমগ্নচিত্ত কারিগর ছিলেন। একজনের চিত্ত প্রয়াস আরেকজনের ক্যামেরার কারুকাজ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর চলচ্চিত্র আন্দোলনে একের পর এক গ্রহণযোগ্য ছবি নির্মিত হয়েছে।

যেকোনো মৃত্যুই বেদনাদায়ক, শোকের। কিন্তু তারেক মাসুদ আর মিশুক মুনীরের মতো দু’টি উজ্জ্বল নক্ষত্র, গণমাধ্যম জ্যোতিষ্কের মৃত্যুকে অভিহিত করার ভাষা কারও আছে বলে মনে হয় না!

(দ্য রিপোর্ট/পিআর/ডব্লিউএস/সা/আগস্ট ১৩, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জলসা ঘর এর সর্বশেষ খবর

জলসা ঘর - এর সব খবর