thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

পিতা আজ আমাদের শাপমুক্তি ড. মুহাম্মদ সামাদ

২০১৪ আগস্ট ১৫ ০২:৫৩:৫১
পিতা আজ আমাদের শাপমুক্তি
ড. মুহাম্মদ সামাদ

পিতা, আজ আমাদের শাপমুক্তি
আজ তোমার নির্মম হত্যা মামলার রায়
আজ আমার মা-ভাই-বোনদের হত্যা মামলার রায়
আজ বাঙালির কলঙ্কমোচন আজ শাপমুক্তি

পিতা, তোমার পাইপ চৌচির চশমা গুলিবিদ্ধ লাল পাঞ্জাবি
প্রিয় চিত্রল হরিণ গাভীর সজল চোখ আদরের পায়রারা
তোমার রবীন্দ্রসঙ্গীত বিদ্রোহী কবিতা
তোমার টুঙ্গিপাড়া তোমার বত্রিশ নম্বরের রক্তধারা আজ প্রার্থনারত

তোমার কৃষক তোমার শ্রমিক আজ প্রার্থনারত
তোমার শিশুরা তোমার ছাত্ররা আজ প্রার্থনারত
তোমার আহত মুক্তিযোদ্ধা বীরাঙ্গনা কন্যা আজ প্রার্থনারত
তোমার কবিরা তোমার পাখিরা আজ প্রার্থনারত
তোমার মেঘেরা তোমার আকাশ আজ প্রার্থনারত
তোমার শস্যেরা বৃক্ষরাজি তোমার সুন্দরবন আজ প্রার্থনারত
তোমার পদ্মা মেঘনা যমুনা ব্রহ্মপুত্র আজ প্রার্থনারত
তোমার উত্তাল বঙ্গোপসাগর আজ প্রার্থনারত
তোমার মধুপুরের গড় গারোপাহাড়ের চূড়া আজ প্রার্থনারত
তোমার মসজিদ মন্দির প্যাগোডা গির্জা আজ প্রার্থনারত

তোমার একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনার স্মৃতিসৌধ
ছয়দফা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান আজ প্রার্থনারত
তোমার সাতই মার্চের রেসকোর্স জয়বাংলা মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা
গণতন্ত্র সমাজতন্ত্র ধর্মনিরপেক্ষতা
আবহমান বাঙালি-সংস্কৃতি আজ প্রার্থনারত

এই মেঘলা দুপুরে
আমাদের সকলের কণ্ঠ যখন একটি কণ্ঠে জানাচ্ছে করুণ আর্তি
পিতা! আমরা আজন্ম পাপী আমাদের ক্ষমা করো
আমাদের ক্ষমা করো ক্ষমা করো ক্ষমা করো...
ঠিক তখনই দীর্ঘ প্রতীক্ষার স্তব্ধতা ভাঙ্গিয়া
‘ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া
খোদার আসন আরশ ছেদিয়া’
হঠাৎ তোমার বজ্রকণ্ঠে ধ্বনিত হলো জয় বাংলা...
অশ্রুসিক্ত আমরা সবাই আকাশের দিকে তাকালাম
ঈশ্বরের চোখ বেয়ে অঝোর ধারায় নামলো আনন্দবৃষ্টি!

খুনিদের প্রতি ঘৃণা
রবীন্দ্র গোপ

একদিন প্রগাঢ় অন্ধকার ভেদ করে পূর্ব আকাশে
রক্তলাল সূর্য উঠবে, পাখিরা গাইবে গান
একদিন মরা নদীতে আসবে জোয়ার,
খুলে যাবে বন্ধ দুয়ার।

মাঝিরা বদর বদর বলে নৌকায় তুলবে পাল
ধরবে কষে হাল,
দিকে দিকে পাপমুক্তির আনন্দে
মানুষ বেরিয়ে পড়বে
রাজপথ লেখবে আবার
অভিশাপ মুক্তির কলঙ্ক মোচনের ইতিহাস।

আমরা আবার সমস্বরে বলতে পারবো
পিতা আমরা ঠিকই তোমার হত্যাকারীর গলায়
ফাঁসির রজ্জু পরিয়েছি, বাঙালি অকৃতজ্ঞ নয়
পিতা আমরা তোমার হত্যাকারীদের বিচার করেছি।

তুমি এবার আশীর্বাদ কর তোমার সন্তানকে পিতা!
তোমার কৃষক অপেক্ষা করছে তুমি আশীর্বাদ কর
তোমার শ্রমিক অপেক্ষা করছে তুমি আশীর্বাদ কর
তোমার জেলে অপেক্ষা করছে তুমি আশীর্বাদ কর।
তোমার তাঁতী অপেক্ষা করছে তুমি আশীর্বাদ কর
তোমার কামার অপেক্ষা করছে তুমি আশীর্বাদ কর
তোমার কুমার অপেক্ষা করছে তুমি আশীর্বাদ কর!
তোমার সকল বাঙালি সন্তান অপেক্ষা করছে,
তুমি আশীর্বাদ কর পিতা!

পিতা, তোমার বাংলাদেশের সমান বুকে
যারা গুলি চালিয়ে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল
আজ সে নরপশুরা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে
আজ নরকের আগুনে পুড়ছে ওরা,
ওদের হৃদপিণ্ড খাচ্ছে পোকায় কিলবিল
পিতা আমরা সকল হত্যাকারী খুনিদের ঘৃণা করি
ঘৃণা করি, ঘৃণা করি...!

বাংলাদেশ এত সয়েছিল!
নাসির আহমেদ

ধ্বংস হয়ে গেছে পাকিস্তান। ধ্বংস তবু হলো রাজাকার?
এই প্রশ্নে চমকে উঠে যেই তাকাই দু’পাশে, দেখি আজো
পাতার আড়ালে মিশে থাকা সবুজ সাপের অবিকল
সেই চিরশত্রু মিশে আছে রক্তপ্লুত পতাকার সাথে!

বাংলাদেশ চিরজীবী হবে, মুক্তিযুদ্ধ অবিনাশী জানি
এই সত্য সূর্যের সমান, তারপরও গ্লানি থেকে যাবে!
প্রাচীন প্রাচীনতরো কোনো ধ্বংসস্তূপের পাশে যেন
ভাঙা ইট, জংধরা লোহা এই সব পাপ জমে আছে।

এইবার সাফ হবে সব; সাফ হবে ইট-লোহা, জং
বাঙালির রক্ত ঝাঁকি দেয়া এই ডিসেম্বরে মনে হয়
পাতার আড়ালে থাক সাপ, সাফ হবে জঙ্গলসমেত
একাত্তর নিজেই এখন স্বচ্ছ রাজহাস হতে চায়।

ঘাতকেরা হেঁটে যাচ্ছে তাই অস্তাচলের দিকে, দেখো
তারপরও রাজাকার থাকে? ভরা পূর্ণিমার রাতে কেউ
দুঃস্বপ্নের কৃষ্ণপক্ষ যদি অকস্মাৎ দেখে, সেরকম
সোনার বাংলায় এই সাপ, শাপ হবে আর কতকাল!

এইবার শেষ হবে খেলা। অদ্ভুত আঁধার-পালা শেষ
আলোকিত প্রকাশ্য সভায় ছদ্মবেশী যত কূশীলব
উন্মোচিত হবে নিজ নিজ মুখোশ হারানো চেহারায়।
হায় রাজনীতি এর নাম? বাংলাদেশ এত সয়েছিল!

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিব
আসলাম সানী

জননী জন্মভূমির মতোই সরল ছিলে তুমি
ত্যাগে মহৎ-মহান তোমার অবদান
এই বাংলার ললাটে স্বাধীনতার
রাজতিলক পরিয়ে দিতে
জাতির জনকের সকল ত্যাগ-তিতিক্ষায়
তোমার আত্মাহুতি ছিলো কঠিন দৃষ্টান্ত,
দেশপ্রেমের মহিমায় অমর মহিয়সী নারীর অবস্থানে
তোমার নাম ইতিহাস ধারণ করেছে তাঁর আপন-
হৃদয়ে-মহার্ঘ্য।

বঙ্গমাতা গরিয়সী-মহামানবী-শত সংগ্রাম-আন্দোলনে
নির্যাতন-নিপীড়নকে তোয়াক্কা না করে
অটল-অবিচল থেকে ছিলে তুমি
বাঙালি জাতির মুক্তি আর বাংলাদেশের অভ্যুদয়
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে,

সংসার ধর্ম নয়-জাতি ধর্মে, দেশ সৎকারে
নিয়ত নিবেদিত মাগো এই কি লিখে এনেছিলে কপালে?

নিজ পুত্রসম ঘাতক-হন্তারক-খুনিরা নির্লজ্জ-ধিক্কৃত-অভিশপ্ত
তোমারই হৃদয় চিঁড়ে-বুকখালি করে প্রাণ উজাড় করে
সর্বস্ব নেবে লুটে-নিঃষ্পাপ পুত্রত্রয়-পবিত্র ফুলশিশু
প্রিয়তম স্বামী-পুত্রবধূ
অন্তরে বয়ে নিয়ে কি নির্মম বিসর্জন মাতা
সে কি কারবালার দ্বিতীয় অধ্যায় ছিলো?

আমরা কি অকৃতজ্ঞ? পঁয়ত্রিশটি বছর বিবেক দংশনে
অন্তর্জ্বালায় পুড়েছি অহর্নিশ-কেঁদেছি নীরবে বঙ্গমাতা,
আজ খুনিদের ফাঁসির মঞ্চে আমরা পাপমুক্ত-শাপমুক্ত
তোমার স্মৃতিতে শুধু শ্রদ্ধার্ঘ নয় মহাকালের আবহমান আরশে
মা-ফাতেমার সঙ্গে চাই মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে
বঙ্গমাতা সর্বত্যাগী জননী...।

বঙ্গবন্ধু, যে নাম চেতনার অংশ
বীরেন মুখার্জী

জানে বহমান মধুমতি— সেই ইতিহাস, কত মহর্ষি দুপুর হেঁটে হেঁটে এসেছি এখানে। জানে রোদে পোড়া পিচপথ— তর্জনীর গর্জন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার দৃঢ় প্রত্যয় আর পলাশী থেকে বায়ান্ন ছুঁয়ে ঊনসত্তর-একাত্তর; কীভাবে গড়িয়েছে স্রোতের জলধারা পদ্মা-মেঘনা-যমুনায়। জানে বাংলার প্রতিটি গোপন পথ— অসীম স্বপ্নে কে এনেছিল দুর্বিনীত ভোর কিংবা জানে অসংখ্য গিরিপথ, সবুজ-পাতা, শস্যকণা— কোন বজ্রকণ্ঠ নির্দেশক আজও আমার সত্তায়।

অথচ সেই রাতে থেমে গিয়েছিল ঘুম-পাখির শিষ, কাঁদতে ভুলে গিয়েছিল নবজাতক, ঘাতক সীসায় মৃত্যু হয়েছিল আমারও, ভেঙে গিয়েছিল সঞ্চয়ের দূরতম স্বপ্ন। কিন্তু ঘাতকেরা জানতো না, পিতার সে নাম মুছে ফেলার নয়। যে নাম মিশে থাকে রক্ত-মজ্জায়— আদর্শ আর চেতনায়।

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা এর সর্বশেষ খবর

বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা - এর সব খবর