thereport24.com
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৪ আশ্বিন ১৪২৪,  ২৭ জিলহজ ১৪৩৮

‘আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত তারেক’

২০১৪ আগস্ট ২১ ০৩:১৫:১১
‘আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত তারেক’

জাহাঙ্গীর আলম, দ্য রিপোর্ট : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আইনি সহায়তার জন্য আবেদন করার পর তা খারিজ করে তাকে পলাতক দেখিয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে ট্রাইব্যুনাল। এমনটাই দাবি করেছেন তার আইনজীবী।

জিয়া পরিবারের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেজবা দ্য রিপোর্টকে বলেন, আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করার জন্য তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে ট্রাইব্যুনাল। তারেক রহমান এ মামলায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন এই আইনজীবী।

তিনি বলেন, ‘আমরা তারেক রহমানের পক্ষে আইনজীবীর মাধ্যমে মামলায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল তাকে আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করার জন্য আবেদন খারিজ করে দেয়। তারেক রহমান বর্তমানে অধিকাংশ মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন।’

মেজবা বলেন, ‘২০০৮ সালে অভিযোগপত্রে তারেক রহমানের নাম না থাকায় ২০০৯ সালে অধিকতর তদন্তের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্রে তারেক রহমানের নাম যুক্ত করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘তারেক রহমান সরকারের অনুমতি নিয়ে ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। সরকার ও বিশ্ববাসী জানে তারেক রহমান কোথায় আছেন।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় শেষে দেশে ফিরে না আসায় তাকে এ মামলায় পলাতক দেখানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লেখ রয়েছে, কোনো আসামি পলাতক থাকলে আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত তিনি তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন না। যেহেতু তারেক রহমান পলাতক, সেহেতু তিনি আত্মসমর্পণ না করে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন না। তাই আইনজীবীর মাধ্যমে বিচার কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আবেদনটি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।’

মামলাটি বর্তমানে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

এ মামলায় ৪৯১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯৯ জন বিভিন্ন সময় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ ৫২ জনের নামে ট্রাইব্যুনালে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন সিআইডির পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ।

মামলার ৫২ জন আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুর রহমানসহ ৮ জন জামিনে আছেন।

সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মুজাহিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২৫ জন আসামি কারাগারে আটক আছেন।

অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জন আসমি পলাতক আছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় সন্ত্রাসীরা গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আহত হন দলের শতাধিক নেতাকর্মী।

এ ঘটনায় মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন।

(দ্য রিপোর্ট/জেএ/টিকে/এজেড/আগস্ট ২১, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ আয়োজন এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ আয়োজন - এর সব খবর



রে