thereport24.com
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৫ রবিউস সানি ১৪৪০

সালমান শাহের নাটক ‘নয়ন’ (ভিডিওসহ)

২০১৪ সেপ্টেম্বর ০৬ ০০:৪২:২৪
সালমান শাহের নাটক ‘নয়ন’ (ভিডিওসহ)

ইসহাক ফারুকী, দ্য রিপোর্ট : সাধারণত চলচ্চিত্র তারকারা ক্যারিয়ারের চাঙ্গা সময়ে টেলিভিশনে অভিনয় করতে চান না। তারা মনে করেন, এতে দর্শকরা হলে গিয়ে তার ছবি দেখবেন না। কিন্তু সালমান শাহ ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি টেলিভিশনের জন্য বেশকিছু নাটকে অভিনয় করেছেন, যা চলচ্চিত্রের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং তাকে নিয়ে গেছে সকল শ্রেনীর দর্শকের কাছে। তেমন একটি নাটক হলো ‘নয়ন’।

অরুণ চৌধুরীর রচনা ও শেখ রিয়াজ উদ্দিন বাদশার পরিচালনায় ‘নয়ন’ ১৯৯৫ সালে বিটিভিতে প্যাকেজ নাটক হিসেবে প্রচারিত হয়। আরও অভিনয় করেন- শমী কায়সার, তমালিকা কর্মকার, ডলি জহুর, আবুল কাশেম প্রমুখ। সৃষ্টি অডিও ভিশন নেটওয়ার্কের প্রযোজনায় নির্মিত নাটকটির প্রযোজক দেওয়ান হাবিবুর রহমান। সালমান শাহ ও নয়ন নাটকটির পেছনের গল্প নিয়ে দ্য রিপোর্টের সঙ্গে কথা বলেছেন নাট্য প্রযোজক ও বিনোদন বিচিত্রার প্রকাশক-সম্পাদক দেওয়ান হাবিবুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘প্যাকেজের আওতায় নয়ন আমার দ্বিতীয় নাটক। এই নাটকটির জন্য সালমান শাহকে নেওয়ার ইচ্ছা ছিল। কোনো ব্যবসায়িক স্বার্থে নয়, মনের তাগিদেই সালমানকে নিয়েছিলাম। সে তখন অনেক ব্যস্ত নায়ক। ইতোমধ্যে নাটকটির জন্য শমী কায়সারকে কাস্ট করে ফেলেছি। সালমানের ডেট নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। তাকে আমার ইচ্ছা ও নাটকের গল্পের কথা বললাম। গল্প ও কাস্টিং শুনে সালমান রাজি হলো। গল্পে দেখা যায়, সালমান শমীদের বাসার চিলেকোঠায় ভাড়া থাকে। আর পাড়ার লোকেরা তাকে মাস্তান মনে করে। শমী এখানে অন্ধ মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছে। একদিন তমালিকাকে পাড়ার কিছু ছেলে টিজ করলে সালমান মারপিট করে তাকে বাঁচায়। এই নিয়ে অনেক ঘটনার সূত্রপাত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘নয়নের জন্য বাচসাস অ্যাওয়ার্ডে শ্রেষ্ঠ নাটকের পুরস্কার পেয়েছিলাম। বিটিভিতে নাটকটি প্রচার হওয়ার পর জনপ্রিয়তা পায়। আমরা গ্যাপ দিয়ে দিয়ে চারদিন শুটিং করেছি। যেদিন অন্য কাজ থাকত, সেদিন সে অভিনয় করে বলত, বাদশা ভাই (নাটকের পরিচালক) আমি কথা বলতে পারছি না। আমার গলা ফ্যাসফ্যাস করছে। তখন তো ডাইরেক্ট সাউন্ড নেওয়া হতো। কণ্ঠে সমস্যা থাকলে শুটিং করা যেত না। তো পরিচালক সালমানকে ছুটি দিতে বাধ্য হতেন।’

দেওয়ান হাবিব বলেন, ‘নাটক জমা দেওয়ার আগে ইনফ্রেমে মাস্টার কপি করব। সে সময় অনেক বেশি চাপ ছিল। আমরা রাত ২টার শিডিউল পেলাম। সালমানকে বললাম, দেখবে নাকি? আমাকে অবাক করে দিয়ে রাত দেড়টায় আমার বাসায় এসে হাজির। শ্রাবণের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। আমরা সেই বৃষ্টি মাথায় নিয়েই ইনফ্রেমে গেলাম। নাটকটির সম্পাদনা করছিলেন নামকরা এডিটর ফজলুর রহমান। পুরো নাটকটি দেখার পর সালমান ফজলুর ভাইকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে দিল। সাংঘাতিক ইমোশনাল ছেলে। তার অভিনয় দেখে আমরা সবাই মুগ্ধ। অনেক বেশি জনপ্রিয় ছিল সে। নায়করাজ রাজ্জাকের পর এতটা জনপ্রিয়তা কেউ পায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। প্রযোজক হিসেবে আমি শুধু অর্থ লগ্নি করিনি। প্রতিটি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। তাই প্রযোজনার অনেক কিছু নিয়েই আমাদের মধ্যে আলাপ হতো।’

নাটকটি শেষ হয় সালমানের একটি সংলাপ দিয়ে- ‘আমি বলেছিলাম, আমার যেন ফাঁসি হয়। কিন্তু এখন আমি দোয়া চাইছি, আমার যেন যাবজ্জীবন হয়। কারণ, আমি এখন বাঁচতে চাই।’

(দ্য রিপোর্ট/আইএফ/ডব্লিউএস/এজেড/সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

জলসা ঘর এর সর্বশেষ খবর

জলসা ঘর - এর সব খবর