thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

‘আননিয়ং হাসিও’

২০১৪ সেপ্টেম্বর ২৭ ১৯:৪১:৩৪
‘আননিয়ং হাসিও’

১৭তম এশিয়ান গেমস কাভার করতে আসা বাংলাদেশী সাংবাদিকদের প্রায় সবাই দক্ষিণ কোরিয়ান ভাষার একটি শব্দ শিখে ফেলেছেন। শব্দটি হলো- ‘আননিয়ং হাসিও’। কোরিয়ান ভাষায় শব্দটির অর্থ- হ্যায়, হ্যালো কিংবা কেমন আছেন। যদি কোনো বিদেশী এই শব্দটি কোনো কোরিয়ানকে বলতে পারেন তাহলে তাকে দিয়ে অনেক কাজই করিয়ে নিতে পারবেন। ‘আননিয়ং হাসিও’র মধ্যে কী যাদু লুকিয়ে রয়েছে তা কোরিয়ানরাই ভাল বলতে পারবেন।

এই শব্দের গুণে পথ হারিয়ে ফেললে কিংবা কোনো রকম বিপদে পড়লে যে কোনো কোরিয়ানই এগিয়ে আসবে সাহায্যের জন্য। বেশিরভাগ কোরিয়ানই ইংরেজি বোঝেন না। তাই উপকারের থেকে হয়তো বা অপকারটাই বেশি হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। কোরিয়ার বাস-ট্রেনে বাংলাদেশের মতো টিকিট কেটে কিংবা নগদ টাকা দিয়ে যাতায়াত করার কোনো উপায় নেই। এখানে বাস-ট্রেনে চড়তে চাইলে আগে একটি কার্ড কিনতে হবে। এই কার্ড অনেকটা বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের রিচার্জ কার্ডের মতো। এই কার্ডটিও রিচার্জ করে নিতে হয়। একবার এক বাংলাদেশী সাংবাদিক বাসে ওঠে বুঝতে পেরেছেন যে তার কার্ডে পর্যাপ্ত টাকা নেই। এই অবস্থায় ড্রাইভার তাকে বলেছেন টাকা রিচার্জ করে নিতে। তা করতে গেলে বাস থেকে নামতে হতো বাংলাদেশী সাংবাদিকটকে। কিন্তু কোরিয়ান এক বয়স্ক ভদ্রলোক তাকে বাস থেকে নামতে দেননি। তার নিজের কার্ড দুইবার পাঞ্চ করে ওই সাংবাদিকে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছেন কোরিয়ান ভদ্রলোকটি। কোরিয়ানরা এমনই অতিথিপরায়ণ। যদি কোনো কোরিয়ানের কাছে সাহায্য চাওয়া হয় তাহলে নিজের কাজ রেখে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে সে।

শুরুতে ‘আননিয়ং হাসিও’ এবং কাজ শেষ হওয়ার পর কোরিয়ানদের ‘খামছা হামনিদা’ বলতে হয়। এর অর্থ হচ্ছে ধন্যবাদ। অনেক কোরিয়ানই ইংরেজিতে হায়, হ্যালোটা পর্যন্ত বোঝে না। পথ হারিয়ে গেলে তারা মোবাইলে নেভিগেশনে পথ খুঁজে নেয়। কোরিয়ান ট্যাক্সি ক্যাবগুলোতেও ছোট মনিটরে জায়গার নাম বলে দিলে নেভিগেশন দেখে ড্রাইভার ঠিক জায়গা মতো নিয়ে যাবে। ভুল হওয়ার কোনো উপায় নেই।

বাংলাদেশে কেউ ট্রাফিক সিগন্যাল মানতে চায় না। এই ভুল কোরিয়াতে করলে বিপদ। গাড়ি না থাকলেও সবুজ বাতি না জ্বলা পর্যন্ত রাস্তাপার হওয়া যাবে না। কোরিয়ানরা এই নিয়ম খুব সিরিয়াসলি মেনে চলে। না মেনেও উপায় নেই। সিসি ক্যামেরায় ধরা পরে পরবর্তী সময়ে জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে আইন লঙ্ঘনের দায়ে।

কোরিয়াতে সচরাচর পুলিশের দেখা পাওয়া যায় না। কিন্তু কেউ যদি বিপদে পড়েন তাহলে ১১৯ নাম্বারে ফোন করলেই মাত্র ১ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ চলে আসবে। কোরিয়ায় কোনো আসামি ধরতে পুলিশ সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট সময় নেন। এটা কোরিয়ান পুলিশদের একটা চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশীদের কাছে বিষয়টি অবিশ্বাস্য শুনালেও কোরিয়ানদের বাস্তবতায় এটা দিবালোকের মতোই সত্য।

পার্কে বসে বাদাম চিবানো মানুষ বাংলাদেশের পার্কগুলোতে অহরহই চোখে পড়ে। কিন্তু কোরিয়ার পার্কগুলোর বেঞ্চে বসে কেউ বাদাম খাচ্ছে, এটা চোখে পড়া কঠিন। কাজ ছাড়া যেন কিছু বোঝেন না কোরিয়ানরা। শনি আর রবিবার-ছুটির এই দু’দিন কোরিয়ান পার্কগুলো জমজমাট হয়ে উঠে। কর্মব্যস্ত দিনগুলোতে এখানে কেবলই শূন্যতা, চোখে পড়বে না কোনো মানুষ।

(দ্য রিপোর্ট/ওআইসি/জেডটি/সা/সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর