thereport24.com
ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫,  ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

চূড়ান্ত রায় হলেও আসামিরা গ্রেফতার হয়নি

২০১৪ নভেম্বর ০৩ ০০:১৪:১৪
চূড়ান্ত রায় হলেও আসামিরা গ্রেফতার হয়নি

এস এম সাকিল আহমাদ, দ্য রিপোর্ট : গত বছরের ৩০ এপ্রিল সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে জেলহত্যা মামলার রায় চূড়ান্ত হলেও এখন পর্যন্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি সরকার।

জাতীয় চার নেতা (জেলহত্যা) হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে আপিল বিভাগ। নিন্ম আদালতের দেওয়া দুই আসামি দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধার মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ৬ সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গত বছরের ৩০ এপ্রিল এই রায় ঘোষণা করেন।

জেলহত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন এবং যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত সকল আসামি পলাতক রয়েছে। চূড়ান্ত রায় হওয়ার পরও তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘উচ্চ আদালত থেকে মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এখন আসামিদের ধরার চেষ্টা করছে সরকার। আসামিরা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা শেষে রায় কার্যকর করা হবে।’

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয় আওয়ামী লীগের চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে। এ ঘটনায় ৪ নভেম্বর তৎকালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল বাদী হয়ে লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের ২৩ বছর পর ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এই মামলার রায় দেন। রায়ে মামলার পলাতক আসামি রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার মো. আবুল হাশেম মৃধাকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট মারফত আলী ও আবুল হাশেম মৃধাকে বেকসুর খালাস দেন। শুধু মোসলেহ উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। যাবজ্জীবন পাওয়া ১২ আসামির মধ্যে চারজনকেও অব্যাহতি দেওয়া হয় রায়ে।

হাইকোর্ট থেকে খালাস পাওয়া দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখতে ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগে পৃথক লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত বছরের ১৫ জানুয়ারি জেলহত্যা মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়। প্রথমে তিন কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

এর পর থেকে পাঁচ কার্যদিবসে সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দুই আসামির সম্পৃক্ততা না থাকার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুলাহ আল মামুন।

জেলহত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিল শুনানির জন্য আপিলের সংক্ষিপ্ত সার তৈরি করে ২০১২ সালের ৩১ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দেয় রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেলের মর্যাদায় নিযুক্ত রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর আনিসুল হক অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে আপিলের ওই সংক্ষিপ্ত সার জমা দেন। ২০১২ সালের ১ নভেম্বর তা আদালতে দাখিল করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর পর ৪ নভেম্বর সংক্ষিপ্ত সার গ্রহণ করে ১১ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। ওই দিন মাহবুবে আলমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি একদিন মুলতবি করেন আপিল বিভাগ। ১২ ডিসেম্বর জাতীয় চার নেতা হত্যা (জেলহত্যা) মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের করা দুই পলাতক আসামি দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার মো. আবুল হাশেম মৃধাকে নতুন করে নোটিশ না দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ।

ফলে তাদের নতুন করে নোটিশ না দিয়ে পলাতক হিসেবেই গণ্য করে এ মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিল শুনানির জন্য ১৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।

এ মামলায় ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আবেদন মঞ্জুর করে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আবেদনের অনুমোদন দেন।

একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিল দায়েরের অনুমতি দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সার জমা দিতে বলেছিলেন আদালত। ওই আদেশের ১ বছর ৮ মাস পর সেই সংক্ষিপ্ত বিবরণী জমা দেয় রাষ্ট্রপক্ষ। এর পর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

(দ্য রিপোর্ট/এসএ/এমসি/এজেড/নভেম্বর ০৩, ২০১৪)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert

বিশেষ আয়োজন এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ আয়োজন - এর সব খবর